স্প্রেড কমানোর নির্দেশ ব্যাংকগুলোকে


প্রকাশিত: ১০:৫৯ এএম, ৩০ এপ্রিল ২০১৫

বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে স্প্রেড হার ৪ শতাংশের কাছাকাছি নামিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং সঙ্গে সুদ হারও কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক মিলনায়তনে ব্যাংকার্স সভায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষে এসব নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ সময় আতিউর রহমান বলেন, ২০১৪ সালের ডিসেম্বর মাসে শ্রেণিকৃত ঋণের হার আগের প্রান্তিকের তুলনায় প্রায় ২ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৬৯ শতাংশ। এ ক্ষেত্রে শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ ৭ হাজার কোটি টাকা কমে দাঁড়িয়েছে ৫০ হাজার ১৫৬ কোটি টাকা। ডিসেম্বর শেষে নিট খেলাপি ঋণ আদায় ৪৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৬৪ কোটি টাকা। এ জন্যে অবশ্য আপনাদের বেশ খানিকটা চাপ নিতে হয়েছে। গুণমানের ঋণ দেওয়ার সংস্কৃতি গড়ে তোলা এবং প্রদানকৃত ঋণ আদায়ে আরো সচেষ্ট হলে ঋণ আদায়ের হার আরো বাড়বে।

তিনি আরো বলেন, সম্প্রতি আমরা নিয়ন্ত্রণবহির্ভূত প্রতিকূল পরিস্থিতিতে অনিচ্ছাকৃত খেলাপি হওয়া বৃহদাঙ্কের ঋণ পুনর্গঠনে একটি নীতিমালা জারি করেছি। এ নীতিমালার শর্তগুলো পূরণ সাপেক্ষে এর কার্যকর প্রয়োগে আপনারা সচেষ্ট থাকবেন বলে আমি আশা করছি।

গভর্নর বলেন, যুক্তিসঙ্গত মাত্রায় আরো কমানো এবং আমানত ও ঋণের সুদহার ব্যবধান বা স্প্রেড হার ৪ এর কাছাকাছি আনার বিষয়ে আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলাম। দেখা যাচ্ছে, ঋণের সুদহার ও স্প্রেড ধীরে ধীরে কমছে। ২০১৫ এর জানুয়ারি শেষে ঋণের গড় সুদহার দাঁড়িয়েছে ১২ দশমিক ৩২ শতাংশ এবং মার্চ শেষে স্প্রেড দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ০৪ শতাংশ। যা মোটেই কাম্য নয়। ঋণের সুদহার যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণ এবং স্প্রেড ৪ এর কাছাকাছি নামিয়ে আনার জন্যে আমি আবারো আপনাদের আহ্বান জানাচ্ছি।

আতিউর রহমান বলেন, সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, কিছু ব্যাংক ঝুঁকি সহন ক্ষমতা নির্ধারণ ছাড়াই কিংবা বিদ্যমান ঝুঁকি বিশ্লেষণ ও পরিমাপ না করেই বিনিয়োগ সম্প্রসারণ করছে। একই ব্যক্তির ওপর প্রধান ঝুঁকি কর্মকর্তা ও আইসিসি প্রধানের দায়িত্ব যুগপৎ অর্পণ করা হয়েছে, যা ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত নির্দেশনার লংঘন। তাই বিনিয়োগ সম্প্রসারণের আগে ঝুঁকি সহন ক্ষমতা নির্ধারণ, বিদ্যমান ঝুঁকি বিশ্লেষণ ও পরিমাপ করা এবং একই ব্যক্তিকে একসঙ্গে দুটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব না দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা যথাযথভাবে পালন করতে হবে।

ঢালাওভাবে ঋণ হিসাব পুনঃতফসিল কিংবা ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন সাপেক্ষে পুনঃতফসিলের সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে’ এ ধরনের শর্ত সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদ্যমান নির্দেশনার আলোকে এবং ঋণ গ্রহীতার ঋণ পরিশোধের সক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনা করে আপনাদের ঋণ পুনঃতফসিলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। চলতি অর্থবছরে কৃষি ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ১৬ হাজার কোটি টাকার মধ্যে নয় মাসে বিতরণ করা হয়েছে ৭২ শতাংশ। সামনের তিন মাসের মধ্যে এ ঋণের লক্ষ্যমাত্রার শতভাগ অর্জনে আপনাদের সচেষ্ট হতে হবে।

এছাড়া আবাসন খাতের সঙ্কট নিরসনে এ খাতে ঋণ প্রবাহ বাড়ানোর বিষয়ে করণীয় নিরূপণ; ডেবিট কার্ড ও সংশ্লিষ্ট হিসাবের যুগপৎ সার্ভিস চার্জ আরোপের বিদ্যমান পদ্ধতি সংশোধন কিংবা ডেবিট কার্ডের সার্ভিস চার্জ কমিয়ে এ চার্জের একটি সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ; শহিদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের ব্যাংকের চাকুরিতে প্রবেশকালে বয়সের উচ্চসীমা ৩২ বছর নির্ধারণ; ব্যাংকে অধিক সংখ্যক নারী কর্মী নিয়োগ, ডিএমডি পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে নারী কর্মীদের অগ্রাধিকার প্রদান ও নারীদের সহায়ক কর্মপরিবেশ গড়ে তোলা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের এন্টারপ্রাইজ ডাটা ওয়্যারহাউজে যথাসময়ে নির্ভুল তথ্য প্রেরণ এবং আরটিজিএস বাস্তবায়নে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ -এসব বিষয়ে আজ (বৃহস্পতিবার) গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

এসএ/আরএস/আরআই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।