১০০ বছরেও এতো খারাপ যায়নি পোস্তা চামড়া বাজার

মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল
মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৬:৫২ এএম, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭

‘অষ্টাশি, উননব্বই, নব্বই। ওই করিম, তাড়াতাড়ি চামড়ায় লবণ লাগাইতে কসনা কেন? যা গরম পড়ছে, এমতেই চামড়া আইছে কম। দেরি করলেই ধরা খাইতে হইব কইলাম।’

রোববার সকাল ১০টায় রাজধানীর লালবাগের পোস্তা চামড়া বাজারের এক আড়তদার চামড়া গুণছিলেন আর কর্মচারীদের দ্রুত চামড়ায় লবণ লাগাতে তাগাদা দিয়ে একথা বলছিলেন।

রাজধানীর পোস্তা কাঁচা চামড়ার অন্যতম বড় বাজার। ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে জমজমাট হয়ে ওঠে এ বাজার। তবে এবারের অবস্থা ভিন্ন।

‘এবার কোরবানির ঈদে চামড়ার বাজার কেমন গেল’- জাগো নিউজের এ প্রতিবেদকের প্রশ্নের জবাবে ওই আড়তদার ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন, ‘একটু পোস্তা এলাকাটা ঘুইরা আইলে এই প্রশ্নটা করতেন না। নিজেই বুঝবার পারতেন।’

Leather-2

কিছুক্ষণ পর শান্ত হয়ে বললেন, ‘কিছু মনে করবেন না, এবার চামড়ার বাজার খুবই খারাপ ভাই। আপনি নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন।’

পোস্তা বাজার ঘুরে ঐতিহ্যবাহী এ কাঁচা চামড়ার বাজারের ব্যবসায়ীদের চিরায়ত সেই ব্যস্ততা চোখে পড়ল না। রাস্তা- ঘাট একেবারেই ফাঁকা। চামড়া নিয়ে যাওবা ব্যস্ততা, তা শুধু আড়তের ভেতরেই।

এবার ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে আগেই পশু ও আকারভেদে কোরবানির পশুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দেয় সরকার। ঢাকায় প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়া ৫০ থেকে ৫৫ টাকা ও ঢাকার বাইরে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া সারাদেশে খাসির চামড়া প্রতি বর্গফুট ২০-২২ টাকা এবং বকরির চামড়া ১৫-১৭ টাকা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়।

ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, বছরে বাংলাদেশ থেকে ২২ কোটি বর্গফুট চামড়া পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৬৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ গরুর চামড়া, ৩১ দশমিক ৮২ শতাংশ ছাগলের, ২ দশমিক ২৫ শতাংশ মহিষের এবং ১ দশমিক ২ শতাংশ ভেড়ার চামড়া। এসব চামড়ার অর্ধেকের বেশি সংগ্রহ করা হয় কোরবানির ঈদের সময়টাতে।

Leather-1

পোস্তা চামড়া বাজার সম্পর্কে জানতে চাইলে বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্ক্রিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব টিপু সুলতান বলেন, ‘পোস্তার একশ বছরের ইতিহাসে চামড়ার বাজার এতোটা খারাপ কখনও যায়নি। আগে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা দুই/তিনদিন পর্যন্ত পোস্তায় চামড়া নিয়ে আসতেন। রাস্তাঘাটে ভারি যানবাহনের লাইন লেগে থাকত। অথচ গতকাল ঈদের দিন দিবাগত রাত ৩টার পর কেউ আর চামড়া নিয়ে আসেনি।’

নেপথ্যে কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘হাজারীবাগ থেকে সাভারে চামড়ার ফ্যাক্টরি স্থানান্তর হওয়া, ট্যানারি মালিকরা পোস্তার ব্যবসায়ীদের পাওনা টাকা না দেওয়া আর টাকা না পাওয়ায় তারা পাইকারি ব্যবসায়ীদের টাকা বকেয়া রাখায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।’

এমইউ/এসআর/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]