আসাম রাজ্যে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:৩০ পিএম, ২০ ডিসেম্বর ২০১৭ | আপডেট: ০২:৪২ পিএম, ২০ ডিসেম্বর ২০১৭
আসাম রাজ্যে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের আহ্বান

ভারতের আসাম রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী চা, চুনা পাথর, পেট্রোকেমিক্যাল ও কৃষিভিত্তিক শিল্পখাতে বিনিয়োগের চমৎকার সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে আসাম রাজ্য সরকারের অর্থমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেছেন, বাংলাদেশের উদীয়মান উদ্যোক্তারা আসামের এসব শিল্পখাতে বিনিয়োগ করতে পারে।

তিনি বলেন, এর পাশাপাশি পর্যটন, সৌর বিদ্যুৎ এবং জ্বালানিখাতেও আসামে বিনিয়োগের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য আসাম রাজ্য সরকার ইতোমধ্যে ব্যাপকহারে অবকাঠামোগত উন্নয়ন করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশ সফররত ভারতের আসাম রাজ্য সরকারের অর্থমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এবং গণপূর্তমন্ত্রী পরিমল শুক্লাবৈদ্য এর নেতৃত্বে এক প্রতিনিধি দল শিল্পমন্ত্রীর আমির হোসেন আমুর সঙ্গে বৈঠককালে তিনি এ কথা বলেন। শিল্প মন্ত্রণালয়ে বুধবার এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে প্রতিনিধিদলের সদস্য ও আসাম রাজ্য সরকারের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব অলক কুমার, কমিশনার ও সচিব শ্যাম জগন্নাথ, আসাম শিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশনের কারিগরি ব্যবস্থাপক অমিতাভ সোয়েকা এবং বাংলাদেশের শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব বেগম পরাগ ও দাবিরুল ইসলাম, বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান তপন কুমার চক্রবর্তী, বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমডোর এম মোজাম্মেল হকসহ শিল্প মন্ত্রণালয় এবং ভারতীয় হাইকমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও আসামের শিল্পখাতে দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ সম্ভাবনা ও বাণিজ্য বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সময় দ্বিপাক্ষিক পণ্য পরিবহন ও যোগাযোগ সহজ করতে ব্রহ্মপুত্র/যমুনা নদীর নাব্যতা বৃদ্ধি, স্থলবন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়নের বিষয়টিও আলোচনায় স্থান পায়।

আসামের অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশি উদ্যোক্তারা আসামের সম্ভাবনাময় শিল্পখাতে বিনিয়োগ করলে উভয় পক্ষ লাভবান হবে। ইতোমধ্যে আসামে আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা গড়ে তোলা হয়েছে এবং বাংলাদেশের অনেক নাগরিক সেখানে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করছে। স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রিক পর্যটন শিল্প গড়ে তোলারও ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। আসামের জনগণ বাংলাদেশি সংগীতের ভক্ত ও অনুরক্ত বলে তিনি জানান।

তিনি বাংলাদেশ ও আসামের মধ্যে বিদ্যমান শিল্প, সংগীত, বাণিজ্য ও পর্যটন সম্ভাবনা কাজে লাগাতে যৌথ বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ সম্ভাবনা সরেজমিনে প্রত্যক্ষ করতে তিনি আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে আসামের অনুষ্ঠেয় গ্লোবাল ইনভেস্টর সামিটে অংশগ্রহণের জন্য শিল্পমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানান।

শিল্পমন্ত্রী বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে আসামের জনগণ ও রাজ্য সরকারের অবদানের কথা গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে আসামের জনগণ বাঙালি শরণার্থীদের যেভাবে আশ্রয়, খাদ্য এবং আতিথেয়তা দিয়েছিল, তা ছিল ইতিহাসে নজিরবিহীন। তিনি বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের লক্ষ্যে আসাম রাজ্য সরকারের প্রস্তাব ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেন।

আমির হোসেন আমু বলেন, ইতোমধ্যে বাংলাদেশের খ্যাতনামা উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান প্রাণ-আরএফএল ভারতের ত্রিপুরাতে বিনিয়োগ করেছে। এ দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে অন্য কোম্পানিগুলোর আসামসহ ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে বিনিয়োগ করবে। বাংলাদেশে উৎপাদিত ওষুধ বিশ্বের শতাধিক দেশে রফতানি হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বাংলাদেশ থেকে ওষুধ, প্লাস্টিক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য আমদানি করতে আসাম রাজ্য সরকারের মন্ত্রিদ্বয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

তিনি আসামে অনুষ্ঠেয় গ্লোবাল ইনভেস্টর সামিটের নিমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং এ সামিটে অংশ নেবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এমএ/জেএইচ/জেআইএম