জিভে জল আনা ‘প্রাণ আচার উৎসব’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:২৩ পিএম, ১৯ জানুয়ারি ২০১৮
জিভে জল আনা ‘প্রাণ আচার উৎসব’

আচার। নারীদের জিভে জল আনা অন্যতম এক রসনার নাম। টক-ঝাল-মিষ্টি আচারসহ ভিন্ন ভিন্ন স্বাদের বাহারি আচারের পসরা সাজিয়ে চলছে দিনব্যাপী প্রাণ আচার উৎসব-২০১৮।

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র প্রাঙ্গণে চলছে এই আচার উৎসব। শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া এই উৎসব চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত; যা সবার জন্য উন্মুক্ত। সেই সঙ্গে সন্ধ্যায় ১৮তম প্রাণ জাতীয় আচার প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হবে।

দেশের ঐতিহ্যবাহী নানা আচার নিয়ে নারী উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই আচার উৎসবে ঘরে তৈরি বাহারি আচার প্রদর্শিত এবং বিক্রি হচ্ছে। পাওয়া যাচ্ছে বিশেষজ্ঞ রন্ধনশিল্পী,আচার শিল্পীদের এ বিষয়ক নানা টিপস। আছে গৃহসামগ্রী প্রদর্শনী ও বিক্রয়ের ব্যবস্থাও।

দিনব্যাপী আচার উৎসব বিষয়ে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের হেড অব ইভেন্টস অ্যান্ড অ্যাক্টিভেশন জেনারেল ম্যানেজার (মার্কেটিং) এ এস এম আল আদিল খান বলেন, আচার উৎসবে অন্যান্য বছরের প্রতিযোগিতায় বিজয়ীরা তাদের নিজেদের তৈরি আচার নিয়ে অংশ নিয়েছেন। গত ১৭ বছর যাবৎ আমরা এই আচার প্রতিযোগিতার আয়োজন করে আসছি। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার অংশগ্রহণকারী, দর্শনার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। অন্যান্য বছরের বিজয়ীদের আচারের স্টল ছাড়াও মোট ৩৪টি স্টল রয়েছে এবারের উৎসবে।

achar

উৎসব ঘিরে সকাল থেকেই ছিল ক্রেতা-দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড়। সবাই আসছেন, বিভিন্ন স্টলে ঘুরে ঘুরে বাহারি সব আচার দেখছেন। রয়েছে সেই সব মজদার আচার কিনে নেয়ার সুযোগও।

বাহারি সব আচারগুলোর মধ্যে রয়েছে- বড়ই, আম, তেঁতুল, জলপাই আমড়ার টক,ঝাল, মিষ্টি আচারসহ খেজুর, চালতা,আপেল কাশ্মির, বোম্বে, কাঁচা মরিচ, রসুন, সবজি, পেয়ারা, আনারস, টমেটোরসহ নানা পদের বাহারি সব আচার।

আচার উৎসবের এই ভিন্নধর্মী আয়োজনে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ছিল ব্যাপক উৎসাহ-আগ্রহ। তাই তো দলে বেঁধে এসেছেন অনেকেই।

উৎসবে আগত রেহেনা আক্তার নামে এক নারী বলেন, নারীদের আচারের প্রতি আলাদা এক প্রেম আছে। তাই তো নারীদের তৈরি আচার নিয়ে এই ভিন্নধর্মী আয়োজনের জন্য প্রথমেই প্রাণ কোম্পানিকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। প্রতি বছরেই এই আয়োজনে আসি। উৎসবে নানা ধরনের আচারের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ আছে। সকাল থেকেই স্টলগুলোতে আচার দেখছি।

achar

২০১৫ সালে আচার প্রতিযোগিতায় টক ক্যাটাগরিতে ১ম হয়েছিলেন আয়শা জেসমিন। তিনি এবার এই আচার উৎসবে দিয়েছেন নিজের স্টল। কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি বলেন, শুধু আমাদের দেশেই নয়, সারা বিশ্বেই ছড়িয়ে আছে মজাদার আচারের মজার মজার তথ্য। আচার প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ২০১৫ সালে বিজয়ী হয়েছিলাম। আমার মতো যারা বিভিন্ন বছরে বিজয়ী হয়েছেন তারাও এখানে স্টল দিয়েছেন।

প্রতিবারের মতো এবারও টক, ঝাল, মিষ্টি ও অন্যান্য-এই চারটি বিভাগ থেকে ১২ জনকে পুরস্কৃত করা হবে। পাশাপাশি সব বিভাগ মিলিয়ে নির্বাচন করা হবে বর্ষসেরা আচার।

এএস/এনএফ/পিআর