বেগুন ৯০, কাঁচামরিচ-ধনেপাতায় চমক

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:৫৪ পিএম, ১৬ মে ২০১৮ | আপডেট: ১০:৪৭ পিএম, ১৬ মে ২০১৮
বেগুন ৯০, কাঁচামরিচ-ধনেপাতায় চমক

* দ্বিগুণ বাড়ার পরও থামেনি বেগুনের উল্লম্ফন
* রোজায় বেগুনের চাহিদা বছরের চার-পাঁচ মাসের সমান

রাজধানীর বাজারে বেগুনের দামে দেখা দিয়েছে রোজার উত্তাপ। কয়েক দফা বেড়ে বেগুন কেজিতে ৯০ টাকায় পৌঁছে গেছে। তবে অতীতের প্রথা ভেঙে দামের ক্ষেত্রে এবার চমক দেখাচ্ছে কাঁচামরিচ ও ধনেপাতা। মাসের অধিক সময় ধরেই এ দুটি পণ্যের দাম স্থিতিশীল। এমনকি কাঁচামরিচ-ধনেপাতায় রোজার উত্তাপের প্রভাবও পড়েনি।

জাগো নিউজের পক্ষ থেকে রাজধানীর কারওয়ানবাজার, রামপুরা, মালিবাগ হাজীপাড়া, খিলগাঁও, সেগুনবাগিচা ও শান্তিনগরের বিভিন্ন বাজার পর্যবেক্ষণ করা হয়। কথা হয় ব্যবসায়ী, ক্রেতাদের সঙ্গে।

Dhone-Pata1

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, চলতি মাসের শুরু থকেই বেগুনের দাম বাড়ছে। এপ্রিল মাসে ৩০-৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া বেগুনের দাম মে মাসের শুরুতেই এক লাফে বেড়ে হয় ৭০ টাকা। দ্বিগুণ বাড়ার পরও এ সবজিটির দামের উল্লম্ফন থামেনি। আরও কয়েক দফা বেড়ে এখন অনেক বাজারেই ৯০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

শান্তিনগর ও সেগুনবাগিচা বাজারের ব্যবাসয়ীরা প্রতিকেজি লম্বা বেগুন ৮০-৯০ টাকায় বিক্রি করছেন। গোল বেগুন ৬০-৭০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

বেগুনের এমন দামের বিষয়ে শান্তিনগরের ব্যবসায়ী আফজাল মিয়া বলেন, রোজার সময় বেগুনের দাম কিছুটা বাড়বে এটাই স্বাভাবিক। এতে বিস্মিত হওয়ার কী আছে? এখন তো ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কিছুদিন পর বেগুনের কেজি ১০০ টাকা ছাড়িয়ে গেলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই।

রোজায় বেগুনের দাম বাড়ার কারণ কী- এমন প্রশ্নে এই ব্যবসায়ী বলেন, রোজার সময় বেগুনের চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। রোজার এক মাসে যে পরিমাণ বেগুনের চাহিদা থাকে, তা দিয়ে বছরের চার-পাঁচ মাসের চাহিদা মেটানো যায়।

তবে হাজীপাড়ার বৌ-বাজারে দেখা যায়, প্রতিকেজি গোল বেগুন ৫০-৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, আর লম্বা বেগুন ৭০-৮০ টাকায়।

বেগুনের দামের বিষয়ে এ বাজারের ব্যবসায়ী মো. কামাল হোসেন বলেন, এপ্রিল মাসে লম্বা বেগুন প্রতিকেজি ৩০-৩৫ টাকায় বিক্রি হয়। এখন সেই বেগুন ৮০ টাকায় বিক্রি করছি। মূলত রোজার কারণেই বেগুনের এমন দাম। চলতি মাসের শুরু থেকেই বেগুনের দাম বাড়ছে। আমরা আশা করছি রোজা চলে গেলেই বেগুনের দাম আবার কমে যাবে।

Dhone-Pata1

খিলগাঁও তালতলা বাজার থেকে সবজি কেনেন মো. ইয়াসিন। তিনি বলছিলেন, গত শুক্রবার যে দামে বেগুন কিনেছি, আজ তার থেকে কেজিতে ১০ টাকা বেশি দামে কিনতে হলো। এক কেজি লম্বা বেগুনের দাম রেখেছে ৮০ টাকা। যেভাবে বাড়ছে তাতে রোজা শুরু হয়ে গেলে দেখব এক কেজি বেগুনের দাম ১০০ টাকা হয়ে গেছে।

কাঁচামরিচ-ধনেপাতায় উত্তাপ নেই

বেগুনে এমন উত্তাপ ছড়ালেও তার কোনো প্রভাবই নেই রোজার মাসে চাহিদা বৃদ্ধিতে এগিয়ে থাকা পণ্যগুলোর মধ্যে কাঁচামরিচ ও ধনেপাতায়। রোজা দুয়ারে কড়া নাড়লেও দুই মাস আগের দামে বিক্রি হচ্ছে এ দুটি পণ্য।

বাজার ভেদে আড়াইশ গ্রাম কাঁচামরিচ ১০-২০ টাকায় ও ধনেপাতা ২৫-৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর কারওয়ানবাজারে পাইকারিতে কাঁচামরিচ প্রতিকেজি  ৩০-৩৫ টাকা ও ধনেপাতা ৭০-৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

গুলশান লিংক রোডের গুদারাঘাট বাজারের ব্যবসায়ী আলী হোসেন। তিনি বলেন, রোজা উপলক্ষে এবার কাঁচামরিচ ও ধনেপাতার দাম বাড়েনি। প্রায় দুই মাস ধরে আড়াইশ গ্রাম কাঁচামরিচ ১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আড়াইশগ্রাম ধনেপাতা বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়। অথচ অন্য বছরগুলোয় রোজা শুরু হওয়ার আগেই এ দুটি পণ্যের দাম বেড়ে যেত।

রামপুরার মোল্লাবাড়ি বাজারে সবজি কিনতে আসা আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘অনেকদিন ধরেই এক পোয়া কাঁচামরিচ ১০ টাকায় কিনছি। আজও এক পোয়া কাঁচামরিচের দাম ১০ টাকা রেখেছে। এক পোয় ধনেপাতা কিনেছি ২৫ টাকায়। তবে ধনেপাতা আমি নিয়তিম কিনি না, তাই এর দাম আগে কেমন ছিল তা বলতে পারছি না।

তিনি বলেন, কাঁচামরিচ ও ধনেপাতার যে দাম তাতে তো কিছুটা হলেও স্বস্তি আছে। কিন্তু বেগুন, চিনির দাম তো খুব বেড়েছে। এই বাজারে এক কেজি বেগুন কিনতে লাগছে ৮০ টাকা। কিছুদিন আগেও যে চিনির দাম ছিল ৬০ টাকা, তা এখন চাচ্ছে ৬৬ টাকা।

এমএএস/জেডএ/এমএস

কিছুদিন পর বেগুনের কেজি ১০০ টাকা ছাড়িয়ে গেলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই।