পাইকারিতে কমলেও আদা-রসুন-পেঁয়াজে বাড়তি ঝাঁজ

মো. শফিকুল ইসলাম
মো. শফিকুল ইসলাম , নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:৪৮ পিএম, ১৬ মে ২০১৮ | আপডেট: ০৫:৫২ পিএম, ১৭ মে ২০১৮
পাইকারিতে কমলেও আদা-রসুন-পেঁয়াজে বাড়তি ঝাঁজ

* খুচরা বাজারে ১৫-২০ টাকা বেশি দাম
* পাইকারি বাজারে বিক্রির দাম বস্তার গায়ে লিখতে হবে

পাইকারি বাজারে আদা, রসুন ও পেঁয়াজের দাম কমলেও খুচরা বাজারে নেই কোনো প্রভাব। এখনো আগের বাড়ানো দামেই বিক্রি হচ্ছে এসব পণ্য।

ঢাকার বাজারগুলো ঘুরে জানা গেছে, রোজা শুরুর ১৫ দিন আগেই নানা অজুহাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় এই তিন ভোগ্যপণ্যের দাম কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা বাড়ানো হয়। সরকার ও বিভিন্ন সংস্থার নানামুখী তৎপরতায় পাইকারি বাজারে কমতে শুরু করেছে এসব পণ্যের দাম। তবে খুচরা বাজারে তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি। আগে কেনার অজুহাতে বাড়ানো দামেই বিক্রি করছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা।

রাজধানীর মালিবাগ, খিলগাঁও, মুগদা, মগবাজার ও রামপুরার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মানভেদে প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ ৪০-৫০ টাকা ও আমদানি পেঁয়াজ ৩০-৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চীন থেকে আমদানি করা রসুন বিক্রি হচ্ছে কেজিতে ১১০-১২০ টাকায়। দেশি রসুন কেজিতে দাম পড়ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা। দেশি আদার দাম ৮০ টাকা। আমদানি আদার দাম প্রতিকেজি ১১০ থেকে ১২০ টাকা।

অপরদিকে পাইকারি বাজারে দেশি পেঁয়াজ কেজিতে ৩৫-৩৭ টাকা ও আমদানি পেঁয়াজ ২৫-২৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চীন থেকে আমদানি করা রসুন কেজিতে ৯৪ থেকে ৯৫ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। দেশি রসুনের দাম পড়ছে ৬০ টাকা। প্রতিকেজি আমদানি আদার দাম ৮৬ থেকে ৯০ টাকা।

পাইকারির তুলনায় খুচরা বাজারের প্রতিটি পণ্য কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

পাইকাররা জানান, মাসের শুরুতে বেশকিছুদিন ছুটির কারণে আমদানি ও সরবারহ কম ছিল। ফলে পেঁয়াজের দাম বেড়েছিল। এখন সরবরাহ বেড়েছে। তাই দাম কমতে শুরু করেছে। গত কয়েকদিনে দেশি ও আমদানি পেঁয়াজ কেজিতে ৪ থেকে ৫ টাকা কমেছে। আদা ও রসুনের দামও কমতির দিকে।

রাজধানীর শ্যামবাজারের পূবালী আড়তদার সত্তপদ সাহা। তিনি বলেন, আদা ও রসুনের দাম দুই সপ্তাহ আগে কিছুটা বেড়েছিল। এখন কমে এসেছে। আজকে প্রতিকেজি চীনা রসুন বিক্রি হচ্ছে ৯২ টাকায়। আমদানি আদার দাম প্রতিকেজি ৮৮ টাকা। বেশি কিনলে আরও কম রাখছি। সরবরাহ ঠিক থাকলে দাম আরও কমে যাবে।

onion

পাইকারি বাজারে কমলেও খুচরায় দাম বেশি কেন- জানতে চাইলে মালিবাগ বাজারের বিক্রেতা সলিম মিয়া জানান, পেঁয়াজের দাম আগের চেয়ে কেজিতে ৪ থেকে ৫ টাকা কমেছে। এখন দেশিটা ৪৫ টাকায় বিক্রি করছি। আদা ও রসুনের দাম খুব কমেনি। কেজিতে দুই এক টাকা কমেছে। পাইকারিতে কম দামে কিনলে আমাদের এখানেও কমবে। তবে আমার আগে কেনা ছিল, সেই দামে বিক্রি করছি।

মগবাজারের মুদি দোকানদার শাহ আলম। তিনি বলছিলেন, পাইকারি বাজারে রসুন ও পেঁয়াজের দাম কমেছে। প্রতিকেজি পেঁয়াজ ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি করছি। এক সপ্তাহ আগে এটির দাম ৫০ টাকা ছিল। এখন পণ্য আনার গাড়ি ভাড়া, দোকান ভাড়া সবকিছুর খরচ বেড়েছে। তাই পাইকারি বাজারের তুলনায় পেঁয়াজ কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বেশি দামে বিক্রি করতে হয়। কিছু করার নেই। তবে আদার দাম তেমন কমেনি।

বেসরকারি চাকরিজীবী সাব্বির আহমেদ সবজি কিনতে এসেছিলেন মালিবাগ বাজারে। তিনি বলেন, রমজানে দাম বাড়াবে এটা দেশের ব্যবসায়ীদের ধর্ম। এবার আগে থেকেই দাম বাড়িয়েছে। এখন বলছে, পেঁয়াজের দাম কমেছে। ১০ দিন আগে বাড়িয়েছে ১৫ থেকে ২০ টাকা আর এখন কমেছে মাত্র ৫ টাকা। আদা-রসুন আগের বাড়তি দামেই কিনমাল। প্রতিকেজি ১১০ টাকা করে রাখলো। অন্যান্য পণ্যের দামও বাড়তি।

তিনি বলেন, বাজারে পণ্যের অভাব নেই। তারপরও সরবরাহ কম বলে দাম বাড়ায়। সরকার একটু কঠোর হোক, দেখবেন ঠিকই দাম কমে যাবে। কারণ ব্যবসায়ীরা সবসময় সুযোগের অপেক্ষায় থাকে। সুযোগ পেলেই ভোক্তার পকেট কাটে।

এদিকে হঠাৎ করে পেঁয়াজের দাম বাড়ায় অভিযানে নামে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর। সম্প্রতি শ্যামবাজারে অভিযান চালিয়ে আড়তদারদের সতর্ক করে সরকারি এ সংস্থাটি।

এ বিষয়ে অধিদফতরের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক (উপ-সচিব) মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলেন, হঠাৎ করে খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে। তাই রাজধানীর পেঁয়াজের পাইকারি বাজারে অভিযান চালাই। প্রথমে শ্যামবাজরের পেঁয়াজ ব্যবসায়ীদের সতর্ক করি। তাদের পেঁয়াজের বস্তায় দাম লিখতে বলা হয়। অর্থাৎ পাইকারি বাজারে পেঁয়াজ কত টাকা দরে বিক্রি হয়েছে তা বস্তার গায়ে লিখতে হবে। বস্তায় মূল্য লিখা থাকলে হঠাৎ করে খুচরা ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত মূল্য নিতে পারবে না।

এদিকে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, এবার পর্যাপ্ত মজুদ থাকায় রমজানে নিত্যপণ্যের সংকট হবে না। ফলে কোনো পণ্যের দাম বাড়ানোর সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ দেশজ উৎপাদন এবং আমদানির ওপর নির্ভরশীল। উৎপাদক, আমদানিকারক, পরিবেশক, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের সহযোগিতায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিশেষ করে চাল, আটা, চিনি, ভোজ্যতেল, ডাল, পেঁয়াজ, রসুন, হলুদ, খেজুর ইত্যাদির বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হচ্ছে।

এসআই/জেডএ/এমএস

ব্যবসায়ীরা সবসময় সুযোগের অপেক্ষায় থাকে। সুযোগ পেলেই ভোক্তার পকেট কাটে।