প্রিমিয়ার ব্যাংকে ডাকাতি বিচ্ছিন্ন ঘটনা : চেয়ারম্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:১৪ পিএম, ২৫ অক্টোবর ২০১৮

রাজধানীর বাড্ডা লিংক রোড সংলগ্ন প্রিমিয়ার ব্যাংকে আগস্টে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। তবে দিনে-দুপুরে এ ডাকাতিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে মন্তব্য করেছেন ব্যাংকটির চেয়ারম্যান এইচ বি এম ইকবাল। এ ছাড়া ডাকাতিতে খোয়া যাওয়া ২২ লাখ টাকা এখনও উদ্ধার হয়নি বলেও জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৫ অক্টোবর) রাজধানীর বনানীর প্রধান কার্যালয়ে প্রিমিয়ার ব্যাংকের ১৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন্। এ সময় ব্যাংকের উপদেষ্টা মুহাম্মদ আলী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সিইও এম রিয়াজুল করিমসহ উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ব্যাংকে ডাকাতির পরপরই ২৩ লাখ টাকা খোয়া যাওয়ার অভিযোগ উঠলেও সংবাদ সম্মেলনে ২২ লাখ টাকার কথা জানান চেয়াম্যান।

চেয়ারম্যান বলেন, ‘বাড্ডা শাখায় ডাকাতি হয়েছিল। চুরি ডাকাতি অনেক স্থানেই হয়। এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। এ ঘটনায় ২২ লাখ টাকা খোয়া গেছে, যা এখনও উদ্ধার হয়নি। তবে আমাদের ইনস্যুরেন্স করা আছে। এতে কোনো সমস্যা হবে না।’

এর আগে গত ২০ আগস্ট বেলা সাড়ে ৩টার দিকে লেনদেন চলাকালীন এক ব্যক্তি ব্যাংকের ভেতরে ঢুকে ম্যানেজারের মাথায় পিস্তল ঠেকান। এরপর ব্যাংকের সব স্টাফকে ভল্ট রুমে ঢুকিয়ে ক্যাশ কাউন্টার থেকে ২২ লাখ টাকা ডাকাতি করেন। পরদিন মঙ্গলবার রাতে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের সিনিয়র অফিসার (জেনারেল সার্ভিসেস ডিভিশন) রাহাত আলম বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলা নং ১৮।

ঘটনার পর বাড্ডা থানা পুলিশ জানায়, ব্যাংক চলাকালে ডাকাতির উদ্দেশ্যে একজন ডাকাত ভেতরে প্রবেশ করেছিল। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের মৌখিক অভিযোগের পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে।

ব্যাংক ডাকাতির ওই ঘটনার তদন্তের বিষয়ে বাড্ডা থানার ইন্সপেক্টর (অপারেশন) ইয়াসিন গাজী বলেন, ‘আমরা গোলকধাঁধায় পড়েছি। তদন্তের জন্য সুনির্দিষ্ট যে তথ্য প্রয়োজন, তা পাচ্ছি না। ব্যাংকের প্রত্যক্ষদর্শী কর্মকর্তারা একেক সময় একেক তথ্য দিচ্ছেন। ফলে গরমিল হচ্ছে।'

কী ধরনের গরমিল- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কেউ বলছেন, হাইট বেশি, কেউ বলছেন কম। কেউ বলছেন, গ্রে কালারের শার্ট, কেউ সাদা কালারের টি শার্ট। একজন লোক ঢুকে এতো কিছু ঘটিয়ে নির্বিঘ্নে চলে গেল অথচ তার সম্পর্কে তথ্য পাচ্ছি খুবই সাদামাটা।’

‘আবার শাখা কর্মকর্তাদের বক্তব্যে রহস্য তৈরি হয়েছে। একমাত্র অস্ত্রধারী সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে জিম্মি করে টাকা নিয়ে গেল, আবার যাবার সময় ওই ডাকাত ব্যাংকের সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষিত রাখার ডিভিআর যন্ত্রটিও নিয়ে গেল! আসলে একজনের পক্ষে এমন ঘটনা ঘটানো কঠিন’- বলেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘ব্যাংকটির আশপাশের দোকানপাট ও ভবনের সিসি ক্যামেরা ফুটেজ সংগ্রহ করা হলেও সেগুলো ব্যাংকটির সদর দরজা পর্যন্ত কাভার করেনি। বিষয়টি তদন্ত করে মূল অপরাধীকে শনাক্ত করাই আমাদের চ্যালেঞ্জ। আমরা সে চেষ্টাই করছি।’

এসআই/এএইচ/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :