খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে সমন্বয়ের তাগিদ আহসান খান চৌধুরীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:২২ পিএম, ২৭ অক্টোবর ২০১৮

খাদ্য নিরাপত্তায় সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্য সমন্বয়ের তাগিদ দিয়েছেন দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগ্রুপ প্রাণ আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সিইও আহসান খান চৌধুরী। তিনি বলেন, সরকারি সংস্থা বিএসটিআই ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় যত বাড়বে, আমরা তত উপকৃত হব। কারণ বিএসটিআইয়ের পণ্যমান সনদ আমাদের মেরুদণ্ড।

শনিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে তিন দিনব্যাপী বাপা ফুডপ্রো ইন্টারন্যাশনাল এক্সপোর সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এ তাগিদ দেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মফিজুল হক।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাপার চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলাম মুন্সি। উপস্থিত ছিলেন, এসএমই ফাউন্ডেশনের এমডি শফিকুল ইসলাম, বাপার জেনারেল সেক্রেটারি ইকতাকুল হক প্রমুখ।

আহসান খান চৌধুরী বলেন, আমরা কার কথা শুনব, নিরাপদ কর্তৃপক্ষ নাকি বিএসটিআইয়ের- সেটা চূড়ান্ত হওয়া দরকার। পণ্যমান সনদ প্রদানে ব্রিটিশ স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পণ্যমান সনদ দিতে গিয়ে অহেতুক সমালোচনা বা ভুল ধরলে বিদেশে আমাদের বিব্রত হতে হয়। এজন্য কোন সংস্থার সনদ আমরা ফলো করবো সেটা নির্দিষ্ট হওয়া জরুরি।

তিনি বলেন, ফুড প্রসেসিং খাতে আমাদের পেছন থেকে টেনে ধরার অবকাশ নাই। এগিয়ে যাওয়া কঠিন হবে, কষ্ট হবে, হয়তো অনেকের মন খারাপ হবে, কিন্তু আমাদেরকে ভালোভাবে এগিয়ে যেতে হবে।

CEO-

খাদ্য প্রক্রিয়াজাত পণ্য বিষয়ে না জেনে মন্তব্য করাকে দুঃখজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমার খুব কষ্ট হয়, যখন দেখি পত্রিকায় আমাদের সম্পর্কে খারাপ কথা বলে, যখন দেখি একজন ম্যাজিস্ট্রেট অজ্ঞতার কারণে ভুল করেন। আমার চোখের সামনে অনেক আম নষ্ট করে ফেলেন। আমার খুব কষ্ট হয়। তারপরও মনে করি, এটা আমাদের জন্য ভালো, কারণ একটা ভালো শিক্ষা। আমরা ভুল করতে করতে শিখব।’

বাংলাদেশ অ্যাগ্রো প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশনের (বাপা) সদস্যদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘সংঘবব্ধ হওয়ার মাধ্যমে আমরা সবাই ভালো কাজ করে যাই। কারণ আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো যদি দাঁড়িয়ে যায়, তাহলে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হয়।’

নিরাপদ কর্তৃপক্ষের উদ্দেশ্য তিনি বলেন, ‘বারবার কাঠগড়ায় না দাঁড় করিয়ে আমাদের বলেন কী করতে হবে। প্রয়োজনে শুনানির জন্য ডাকুন, আমাদের পরামর্শ দিন।’

তিনি আরও বলেন, পণ্য গবেষণার জন্য ল্যাব স্থাপন হচ্ছে। প্রচুর বিনিয়োগ করছি। আমদের লক্ষ্য এগিয়ে যাওয়া, বাপার সদস্যরাও এ নিয়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে প্রচুর কাজ করছে। ভালো করার চেষ্টা করছে। দেশ সঠিক লাইনে আছে, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে কাজ করছে।

CEO-

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মহাফুজুল হক বলেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে যে পরিমাণ লোকবল দরকার আমাদের তা নেই। অল্পকিছু সংখ্যক লোক দিয়ে আমরা কার্যক্রম চালাচ্ছি।

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা কঠিন বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৮টি মন্ত্রণালয় নিরাপদ খাদ্যের জন্য কাজ করছে। ১২০টির বেশি আইনের বিধি, প্রবিধান রয়েছে। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের একার পক্ষে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চত করার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা সম্ভব না। সকলে মিলে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে।

ফলে ফরমালিন দেয়ার বিষয়ে মানুষের মধ্যে ভুল ধারণা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আপেলে ফরমালিন দেয়ার সুযোগ নেই। আর দিলেও তা কাজ করবে না। ফরমালিন দেয়া-সংক্রান্ত ভুল ধারণাগুলো আমাদের দূর করতে হবে। তা না হলে আমরা যে রূপকল্প ঠিক করেছি তা বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে পড়বে। বাচ্চাদের ফল না খাওয়ায়ে আমরা একটি পঙ্গু জাতি গড়ে তুলব।

ষষ্ঠ বারের মতো বাংলাদেশ অ্যাগ্রো প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশন (বাপা) ও এক্সট্রিম এক্সিবিশন অ্যান্ড ইভেন্ট সলিউশনের উদ্যোগে এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়। এ মেলা দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকে সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ। মেলায় খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের সঙ্গে জড়িত দেশি-বিদেশি ১৪৯টি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করেছিল।

এমএ/এমএএস/জেআইএম