৯ বীমার শেয়ার দাম অস্বাভাবিক বলছে ডিএসই

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:০৪ পিএম, ২২ জানুয়ারি ২০১৯

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৯টি বীমা কোম্পানির শেয়ার দাম কোনো কারণ ছাড়াই অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে বলে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করেছে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার (২২ জানুয়ারি) ডিএসই থেকে এ বিষয়ে ৯টি কোম্পানির বিষয়ে পৃথক পৃথক বার্তা প্রকাশ করা হয়।

কোম্পানিগুলো হলো- সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স, গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্স, প্রভাতী ইন্স্যুরেন্স, ইসলামী ইন্স্যুরেন্স, এশিয়া ইন্স্যুরেন্স, ঢাকা ইন্স্যুরেন্স, গ্রীণ ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স, পূরবী জেনারেল ইন্স্যুরেন্স এবং ফিনিক্স ইন্স্যুরেন্স।

ডিএসই বলছে, কোম্পানিগুলোর শেয়ারের অস্বাভাবিক দাম বাড়ার পেছনের কারণ জানতে চেয়ে ২১ জানুয়ারি নোটিস পাঠানো হয়। এর জবাবে প্রতিটি কোম্পানির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের যে অস্বাভাবিক দাম বেড়েছে তার জন্য তাদের কাছে অপ্রকাশিত কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নেই।

সানলাইফ

গত ৬ জানুয়ারি থেকে ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের দাম বেড়েছে ৮ টাকা ৪০ পয়সা। এটাকেই অস্বাভাবিক বলছে ডিএসই। কোম্পানিটির মোট শেয়ারের ৪১ দশমিক ১২ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে। বাকি শেয়ারের মধ্যে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে আছে ৩০ দশমিক ৭২ শতাংশ শেয়ার। আর প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ২৮ দশমিক ১৬ শতাংশ শেয়ার আছে।

গ্লোবাল

৭ থেকে ২১ জানুয়ারি কোম্পানিটির শেয়ার দাম বেড়েছে ৪ টাকা। এটাকেই অস্বাভাবিক বলছে ডিএসই। কোম্পানিটির মোট শেয়ারের ৩৫ দশমিক ৭০ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে। বাকি শেয়ারের মধ্যে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে আছে ৩০ দশমিক ৯৪ শতাংশ শেয়ার। আর প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৩৩ দশমিক ৩৬ শতাংশ শেয়ার আছে।

প্রভাতী

১ থেকে ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ারের দাম বেড়েছে ৬ টাকা ৪০ পয়সা। এটাকেই অস্বাভাবিক বলছে ডিএসই। কোম্পানিটির মোট শেয়ারের ৩২ দশমিক ৪২ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে। বাকি শেয়ারের মধ্যে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে আছে ৫৪ দশমিক ১১ শতাংশ শেয়ার। আর প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ১৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ শেয়ার আছে।

ইসলামী

২৪ ডিসেম্বর থেকে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ার দাম বাড়ে ৬ টাকা ৫০ পয়সা। এরপর ১০ থেকে ২১ জানুয়ারি এই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ার দাম ২ টাকা ৭০ পয়সা কমেছে। প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার দাম কমার মধ্যেই ডিএসই জানিয়েছে শেয়ার দাম অস্বাভাবিক বেড়েছে। কোম্পানিটির মোট শেয়ারের ৩৯ দশমিক ৪৯ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে। বাকি শেয়ারের মধ্যে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে আছে ৪২ দশমিক ৯৯ শতাংশ শেয়ার। আর প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ১৭ দশমিক ৫২ শতাংশ শেয়ার আছে।

এশিয়া

২৭ ডিসেম্বর থেকে ২১ জানুয়ারির মধ্যে শেয়ার দাম বেড়েছে ৬ টাকা ৩০ পয়সা। এটাকেই অস্বাভাবিক বলছে ডিএসই। কোম্পানিটির মোট শেয়ারের ৪১ দশমিক ৫৬ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে। বাকি শেয়ারের মধ্যে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে আছে ২৫ দশমিক ৮০ শতাংশ শেয়ার। আর প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৩২ দশমিক ৬৪ শতাংশ শেয়ার আছে।

ঢাকা

২৭ ডিসেম্বর থেকে ২১ জানুয়ারির মধ্যে শেয়ার দাম বেড়েছে ৬ টাকা ৯০ পয়সা। এটাকেই অস্বাভাবিক বলছে ডিএসই। কোম্পানিটির মোট শেয়ারের ৫২ দশমিক ৭০ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে। বাকি শেয়ারের মধ্যে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে আছে ১৯ দশমিক ৬৬ শতাংশ শেয়ার। আর প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ২৭ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং বিদেশিদের কাছে দশমিক ১৫ শতাংশ শেয়ার আছে।

গ্রীণ ডেল্টা

৭ থেকে ২১ জানুয়ারির মধ্যে শেয়ার দাম বেড়েছে ৪ টাকা ৯০ পয়সা। এটাকেই অস্বাভাবিক বলছে ডিএসই। কোম্পানিটির মোট শেয়ারের ৪৮ দশমিক ৫২ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে। বাকি শেয়ারের মধ্যে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে আছে ২৯ দশমিক ৮৭ শতাংশ শেয়ার। আর প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ১৩ দশমিক ৩৬ শতাংশ এবং বিদেশিদের কাছে ৮ দশমিক ২৫ শতাংশ শেয়ার আছে।

পূরবী জেনারেল

২৪ ডিসেম্বর থেকে ২১ জানুয়ারির মধ্যে শেয়ার দাম বেড়েছে ৪ টাকা ৯০ পয়সা। এটাকেই অস্বাভাবিক বলছে ডিএসই। কোম্পানিটির মোট শেয়ারের ৩৪ দশমিক ৮৫ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে। বাকি শেয়ারের মধ্যে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে আছে ৫০ দশমিক ৭৯ শতাংশ শেয়ার। আর প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ১৪ দশমিক ৩৬ শতাংশ শেয়ার আছে।

ফিনিক্স

২৩ ডিসেম্বর থেকে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ার দাম বাড়ে ১৬ টাকা ৫০ পয়সা। এরপর ১৫ থেকে ২১ জানুয়ারি এই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ার দাম ৪ টাকা ৭০ পয়সা কমেছে। প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার দাম কমার মধ্যেই ডিএসই জানিয়েছে শেয়ার দাম অস্বাভাবিক বেড়েছে। কোম্পানিটির মোট শেয়ারের ৪৬ দশমিক ৯০ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে। বাকি শেয়ারের মধ্যে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে আছে ২১ দশমিক ৯৩ শতাংশ শেয়ার। আর প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৩১ দশমিক ১৭ শতাংশ শেয়ার আছে।

এমএএস/আরএস/এমকেএইচ