লোকসানি বিচ হ্যাচারির অস্বাভাবিক লম্ফঝম্প

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:০৮ পিএম, ২২ জানুয়ারি ২০১৯

মোটা অংকের লোকসানের মধ্যে নিমজ্জিত থাকার পরও 'জেড' গ্রুপের কোম্পানি বিচ হ্যাচারির শেয়ারের দাম সম্প্রতি অস্বাভাবিক লম্ফঝম্প করতে দেখা গেছে। শেষ দুই কার্যদিবসে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম বেড়েছে প্রায় ৩ টাকা।

প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের এই দাম বৃদ্ধিকে অস্বাভাবিক বলছে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ। এ জন্য বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করতে মঙ্গলবার তথ্য প্রকাশ করেছে তারা।

ডিএসই জানিয়েছে, কোম্পানিটির শেয়ারের অস্বাভাবিক দাম বাড়ার পেছনের কারণ জানতে চেয়ে ২১ জানুয়ারি নোটিশ পাঠানো হয়। জবাবে কোম্পানিটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে এ বিষয়ে তাদের কাছে অপ্রকাশিত কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নেই।

তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত ১৭ জানুয়ারির পর থেকেই কোম্পানিটির শেয়ারের দাম বেড়েছে। ১৭ জানুয়ারি কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের দাম ছিল ১৩ টাকা ৯০ পয়সা। যা টানা বেড়ে ২১ জানুয়ারি দাঁড়ায় ১৬ টাকা ৭০ পয়সায়। অর্থাৎ দুই কার্যদিবসে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম বেড়েছে ২ টাকা ৮০ পয়সা।

এই দাম বাড়ার প্রেক্ষিতেই ডিএসই থেকে বিচ হ্যাচারিকে নোটিশ পাঠানো হয় এবং কোম্পানি কর্তৃপক্ষের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করতে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

এর আগে গত ২৪ ডিসেম্বর থেকে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত বিচ হ্যাচারির শেয়ারের দাম টানা বাড়ে। ওই সময়ে লোকসানি এই প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দাম বাড়ে ৩ টাকা ৯০ পয়সা। ওই অস্বাভাবিক দাম বাড়ার পর ৯ থেকে ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ৩ টাকা ২০ পয়সা কমে যায়।

থেমে থেমে কোম্পানিটির শেয়ারের এমন অস্বাভাবিক দাম বাড়লেও সর্বশেষ প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিচ হ্যাচারি লোকসানে নিমজ্জিত রয়েছে। এছাড়া ২০১৪ সালের পর থেকে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের কোনো প্রকার লভ্যাংশ দিতে পারেনি। ফলে পুঁজিবাজারের পঁচা কোম্পানি বা ‘জেড’ গ্রুপে প্রতিষ্ঠানটির স্থান হয়েছে।

ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে কোম্পানিটি ব্যবসা পরিচালনা করে ৩৮ লাখ টাকা লোকসান করেছে। এতে প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে লোকসান হয়েছে ৯ পয়সা। এর আগে ২০১৭ সালে সমাপ্ত হিসাব বছরে শেয়ার প্রতি লোকসান ছিল ৩৯ পয়সা।

ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, বিচ হ্যাচারির মোট শেয়ারের ৩৪ দশমিক ৯৭ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে। বাকি শেয়ারের মধ্যে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে আছে ৪২ দশমিক ৭৭ শতাংশ শেয়ার। আর প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে আছে ২২ দশমিক ২৬ শতাংশ শেয়ার।

এমএএস/এমএমজেড/এমএস