এসডিজি অর্জনে সঠিক পথেই এগুচ্ছে বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:৩৩ পিএম, ২৭ এপ্রিল ২০১৯

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে বাংলাদেশ সঠিক পথেই এগুচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক মো. আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, ‘আর্থসামাজিক অগ্রগতি যে হারে হচ্ছে তাতে নিদির্ষ্ট সময়েই এসডিজির সব সূচকে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে।’

শনিবার রাজধানীর ইআরএফ মিলনায়তনে ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১০টি বিশেষ উদ্যোগ বাস্তবায়নে গণমাধ্যমের ভূমিক’ শীর্ষক সাংবাদিক কর্মশালায় এসব কথা বলেন তিনি।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- তথ্য সচিব আবদুল মালেক, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, ‘আমার বাড়ি আমার খামার’ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক আকবর হোসেন প্রমুখ।

এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক বলেন, ‘জিডিপির আকার গত ২০০৮ সালে ছিল ৯১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, ২০১৮ সাল শেষে সেটি দাঁড়িয়েছে ২৮০ বিলিয়ন ডলারে । ২০০৮ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা ছিল ৩ হাজার ২৬৪ মেগাওয়াট। সেখানে ২০১৮ সালে উৎপাদনের সক্ষমতা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৭৭৫ মেগাওয়াট। সর্বশেষ গত বুধবার প্রথমবারের মতো ১২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাইলফলক অতিক্রম করেছে।’

sdg-2.jpg

তিনি বলেন, ‘২০০৮ সালে মাথাপিছু আয় ছিল ৬১৫ ডলার। চলতি বছরে সেটি দাঁড়িয়েছে ১৯০৯ মার্কিন ডলার। ২০০৫ সালে মাতৃমৃত্যু হার ছিল ৩ দশমিক ৪৮ শতাংশ, ২০১৮ সালে সেটি হয়ে দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৭২ শতাংশ। ২০০৮ সালে গড় আয়ু ছিল ৬৯ বছর, যা ২০১৮ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭২ বছরে। ২০০৮ সালে দেশের রফতানি আয় ছিল ২৩ বিলিয়ন ডলার, যা ২০১৮ সালে এসে দাঁড়িয়েছে ৩৫ বিলিয়ন ডলারে। নারীর ক্ষমতায়ন দ্রুতগতিতে বাড়ছে। বর্তমানে দেশের আর্থসামাজিক অগ্রগতি যে হারে হচ্ছে সেটি অব্যাহত থাকলে নিদির্ষ্ট সময়েই এসডিজির সব সূচকে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে। বর্তমানে যে গতিতে অর্নীতি এগিয়ে যাচ্ছে এটি আরও ত্বরান্বিত হবে।’

কর্মশালা শেষে ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১০টি বিশেষ উদ্যোগ’ বিষয়ে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) থেকে প্রকাশিত দ্বিতীয় প্রকাশনা ‘উন্নয়ন সোপানে বাংলাদেশ-২’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

এদিকে এসডিজি অর্জনে বাংলাদেশ বর্তমানে যেভাবে কাজ করছে তাতে ৫০টি সূচকের মধ্যে ২৬টি অর্জন সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডি।

এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশের এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ কথা জানানো হয়। শনিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে তুলে ধরা এ প্রতিবেদনে দেখা যায়, যেসব ইন্ডিকেটর বাস্তবায়ন করতে পারবে সরকার, সেগুলোকে সবুজ, যেগুলোর ওপর গুরুত্বারোপ প্রয়োজন সেগুলোকে হলুদ এবং যেগুলো বাস্তবায়ন সম্ভব নয়, সেগুলোকে লাল চিহ্ন দেয়া হয়েছে।

এসডিজি অর্জনে বাংলাদেশের গত চার বছরের কাজের ওপর ভিত্তি করে ‘ফোর ইয়ার্স অব এসডিজিস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।

এসডিজির মোট ১৭টি লক্ষ্যমাত্রা, ১৬৯টি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য এবং ২৩০টি ইন্ডিকেটর রয়েছে। ১৭টি লক্ষ্যমাত্রার ৬টি নিয়ে এ গবেষণা চালানো হয়।

এমইউএইচ/এনডিএস/এমএস