আগ্রাসী নয়, টেকসই প্রবৃদ্ধি চায় মার্কেন্টাইল ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:০৬ পিএম, ১৬ জুন ২০১৯

ধারাবাহিক ব্যাংকিং কার্যক্রমের বাইরে পণ্য ও সেবায় বৈচিত্র্য এনেছে মার্কেন্টাইল ব্যাংক। তবে এ ক্ষেত্রে আগ্রাসী ব্যাংকিং নয়, টেকসই প্রবৃদ্ধি ওপর বেশি জোড় দিচ্ছে দ্বিতীয় প্রজন্মের বেসরকারি এ ব্যাংকটি।

রোববার (১৬ জুন) রাজধানীর দিলকুশায় ব্যাংকের ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান এ কে এম সাহিদ রেজা এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতে তারল্য সঙ্কট চলছে। তবে আমাদের ব্যাংকে কোনো ধরনের তারল্য সঙ্কট নেই। আমরা সম্পদ ও দায় সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা করে চলছি। দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে আমাদের কোনো ধরনের সঙ্কট নেই। মার্চ শেষে ব্যাংকের আমানত দাঁড়িয়েছে ২৩ হাজার ৬৪০ কোটি টাকা। বিপরীতে ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ৬১১ কোটি টাকা।

মার্চ প্রান্তিক শেষে মুনাফা হয়েছে ১৫৯ কোটি টাকা। একই সময় রফতানির পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা, আমদানি বাণিজ্য হয়েছে ৪ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা। আমাদের ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসীদের অর্থ দেশে এসেছে এক হাজার ৪৫ কোটি টাকা।

চেয়ারম্যান এ কে এম সাহিদ রেজা আরও বলেন, আমরা সব সময় টেকসই প্রবৃদ্ধি চেয়েছি। আগ্রাসী উন্নয়নে মার্কেন্টাইল ব্যাংক বিশ্বাস করে না। ২০ বছরে ব্যাংকের শাখার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩৯টি। এটিএম বুথের সংখ্যা ১৬৯টি। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিচালনায় বিশ্বের ৬৩৫টি ব্যাংকের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তোলা হয়েছে। ৩৩টি দেশি ও বিদেশি এক্সচেঞ্জ হাউসের মাধ্যমে প্রবাসীদের অর্থ দেশে আনা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, শিগগিরই আমরা মানি ট্রান্সফার কার্যক্রম শুরু করব। এটি চালু হলে মার্কেন্টাইল ব্যাংক আরেকটি নতুন মাইলফলক অর্জন করবে। একই সঙ্গে মোবাইল ব্যাংকিং কার্যক্রমে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হচ্ছে। চালু করা হবে এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম।

ব্যাংকিং প্রভিশন ঘাটতি ও মার্চ প্রান্তিকে ব্যাংকের ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধিতে কেন টান পড়েছে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান বলেন, নানা কারণে মার্চ প্রান্তিকে আমাদের প্রবৃদ্ধি খুব বেশি হয়নি। তবে আমরা সব সূচকে ইতিবাচক অবস্থানেই আছি। কোনো সূচক নিম্নমুখী নয়। প্রভিশন রাখতে আমরা ব্যর্থ হয়নি।

বাংলাদেশ ব্যাংক ২৭০ কোটি টাকা অতিরিক্ত প্রভিশন করতে নির্দেশনা দেয়। তারা কিছু ঋণ বিবেচনায় নিয়ে এটি করেছে। তবে সেসব ঋণ চলমানই আছে। তারপরও আমরা ১০০ কোটি টাকা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশে প্রভিশন রেখেছি। বাকি টাকা আগামী দুই বছরে সমন্বয় করব- বলেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ব্যাংকের ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সোমবার (১৭ জুন) রাজধানীর একটি পাঁচতারকা হোটেলে গ্রাহক ও সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে ‘মার্কেন্টাইল ব্যাংক সম্মাননা ২০১৯’ এর জন্য নির্বাচিত পাঁচ গুণীজন ও প্রতিষ্ঠান এবং ‘এমবিএল ইয়াং ব্যাংকার্স অ্যাপ্রিশিয়েশন অ্যাওয়ার্ড-২০১৯’ এর জন্য নির্বাচিত পাঁচজন তরুণ ও মেধাবী ব্যাংকারকে পুরস্কৃত করা হবে।

‘মার্কেন্টাইল ব্যাংক সম্মাননা-২০১৯’ এর জন্য নির্বাচিত পাঁচ গুণীজন ও প্রতিষ্ঠানের নাম ঘোষণা করা হয়। তারা হলেন- শিক্ষায় ড. তোফায়েল আহমেদ, মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গবেষণায় ক্যাপ্টেন সাহাবুদ্দিন আহমেদ, অর্থনীতি ও অর্থনীতি বিষয়ক গবেষণায় বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট, ময়মনসিংহ, শিল্প ও বাণিজ্যে আবুল খায়ের গ্রুপের আবুল কাশেম ও ক্রীড়ায় সাঁতারু মো. মোশাররাফ হোসেন খান।

এছাড়া ‘এমবিএল ইয়াং ব্যাংকার্স অ্যাপ্রিশিয়েশন অ্যাওয়ার্ড-২০১৯’ এর জন্য নির্বাচিত পাঁচ তরুণ ও মেধাবী ব্যাংকার হলেন- আইএফআইসি ব্যাংক লিমিটেডের অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট উজ্জ্বল কুমার সিংহ, এবি ব্যাংকের অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট সিরাজুল ইসলাম, মার্কেন্টাইল ব্যাংক লিমিটেডের ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট এ কে এম হোসেনুজ্জামান, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট তাওহীদ খান মজলিস ও ব্যাংক এশিয়ার ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আরাফাত হোসেন।

এসআই/আরএস/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :