বিপিসির গচ্চা আদায়ে তদন্ত কমিটির গড়িমসি

ইকবাল হোসেন
ইকবাল হোসেন ইকবাল হোসেন , নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: ০৩:৩১ পিএম, ০৮ মার্চ ২০২৬
রাষ্ট্রীয় সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের বিরুদ্ধে তিন মাসে ২৮ কোটি টাকা গচ্চার অভিযোগ উঠেছে/গ্রাফিক্স: জাগো নিউজ

সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে বেসরকারি চারটি সিআরইউ রিফাইনারি থেকে জ্বালানি তেল কেনে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। এতে রাষ্ট্রীয় সংস্থাটির তিন মাসে ২৮ কোটি টাকা গচ্চার অভিযোগ ওঠে। মন্ত্রণালয় গঠিত উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি পৌনে ১৮ কোটি টাকা গচ্চার প্রমাণ পায়।

যথাযথ প্রমাণ মেলার পরও সরকারি এসব টাকা উদ্ধারে প্রতিবেদনের সুপারিশ করেনি তদন্ত কমিটি। পুরো ঘটনায় জড়িত মূলহোতার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার সুনির্দিষ্ট কোনো সুপারিশ নেই প্রতিবেদনে।

অভিযোগ উঠেছে, সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে বেসরকারি সিআরইউ প্ল্যান্ট থেকে জ্বালানি তেল কিনে যোগসাজশে বেশি টাকা পরিশোধ করে সংশ্লিষ্টরা ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হয়েছেন। মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটিও লাভবান হয়ে ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেনি বলে সমালোচনা চলছে। বোর্ড সভায় উপস্থাপন করে তদন্ত কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জ্বালানি বিভাগ বিপিসিকে নির্দেশনা দিলেও ৮ মার্চের (দুপুর ৩টা পর্যন্ত সভা শুরু হয়নি) বোর্ড সভায় বিষয়টি তোলা হচ্ছে না বলে জানা যায়।

জানা যায়, আমদানির পাশাপাশি দেশীয় বেসরকারি চারটি সিআরইউ রিফাইনারি থেকে জ্বালানি তেল কিনে বিক্রি করে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। এসব তেলের ক্রয়মূল্য নির্ধারণে সরকারি আদেশকে তোয়াক্কা না করে অর্থের বিনিময়ে বিলম্বে প্রজ্ঞাপন করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে বিপিসির সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে। এতে বিগত অর্থবছরের মার্চ থেকে মে পর্যন্ত তিন মাসে বিপিসির প্রায় ২৮ কোটি টাকা গচ্চা গেছে।

বেসরকারি প্ল্যান্টগুলো থেকে জ্বালানি তেল কেনায় বিলম্বে বিজ্ঞপ্তি জারির কারণে বিপিসি যে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তদন্তে তার সত্যতা মিলেছে। কিন্তু এ ঘটনায় কার দায় কতটুকু, তা নির্ধারণ করতে অধিকতর তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছিল। মন্ত্রণালয় থেকে তদন্ত প্রতিবেদনটি বিপিসিতে পাঠিয়েছে। এখন নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী বোর্ড সভায় বিষয়টি তোলা হবে।-তদন্ত কমিটির সদস্য ও বিপিসির সচিব শাহিনা সুলতানা 

এ নিয়ে গত ২২ নভেম্বর জাগো নিউজে ‘বেসরকারি প্ল্যান্টের তেল কিনে ৩ মাসে বিপিসির ‘গচ্চা’ ২৮ কোটি টাকা’ শীর্ষক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরের দিন প্রতিবেদনটি আরও একটি পত্রিকায় হুবহু প্রকাশিত হয়। তথ্য অধিদপ্তরের বরাতে প্রতিবেদনের বিষয়টি সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের উপদেষ্টা মোহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের নজরে এলে তিনি অভিযোগটি তদন্ত করার নির্দেশ দেন।

এরপর ৪ ডিসেম্বর একই বিভাগের যুগ্ম সচিব (কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স-১ ও ২ অধিশাখা) মোছা. লায়লাতুল ফেরদৌসকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। কমিটিতে বিপিসির সচিব (সরকারের উপ-সচিব) শাহিনা সুলতানাকে সদস্য এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব আসিফ আহমেদকে সদস্য সচিব করা হয়। পরে ১৩ ডিসেম্বর মোছা. লায়লাতুল ফেরদৌসকে বাদ দিয়ে একই বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মো. জিয়াউল হককে আহ্বায়ক করে নতুন তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। মোছা. লায়লাতুল ফেরদৌস মন্ত্রণালয়ের একজন নীতিবান, কঠোর এবং দক্ষ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত।

আরও পড়ুন

গত ১ ফেব্রুয়ারি তদন্ত কমিটি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিবের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এর এক মাস পর গত ১ মার্চ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের উপ-সচিব মো. বজলুর রশীদের সই করা দাপ্তরিক এক চিঠিতে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে উপস্থাপিত সুপারিশগুলো বিপিসির বোর্ড সভায় উপস্থাপনের মাধ্যমে বাস্তবায়নের জন্য বিপিসি চেয়ারম্যানকে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

২৮ কোটি নয়, বিপিসির আর্থিক ক্ষতি ১৭ কোটি ৭৯ লাখ টাকা

জাগো নিউজের হাতে আসা প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, প্রতিবেদনে গণমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্টের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, তদন্ত কমিটি চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি বিপিসির প্রাইসিং কমিটির আহ্বায়ক (সরকারের যুগ্ম সচিব ও বিপিসির পরিচালক) ড. এ কে এম আজাদুর রহমান ও সদস্য সচিব (বিপিসির উপ-মহাব্যবস্থাপক- বণ্টন ও বিপণন) শাহরিয়ার মোহাম্মদ রাশেদের শুনানি নেয়। পরে বিপিসি থেকে প্রাইসিং সংক্রান্ত নথি সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করে।

তদন্ত কমিটির পর্যালোচনায় উল্লেখ করা হয়, গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তিন মাসে বিলম্বে মূল্য বিজ্ঞপ্তি জারির কারণে বিপিসির ২৮ কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতি হয়। কিন্তু বিপিসির দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে তিন মাসে ১৭ কোটি ৭৮ লাখ ৯৭ হাজার ৩১৯ টাকা ৫৯ পয়সা আর্থিক ক্ষতি নির্ধারণ করে তদন্ত কমিটি।

প্রতিবেদনে এক পর্যালোচনায় তদন্ত কমিটি উল্লেখ করে- ২০২২ সালে প্রাইসিং কমিটি গঠনের পর থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত শাহরিয়ার মো. রাশেদ উপ-মহাব্যবস্থাপক (হিসাব) সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া মূল্য বিজ্ঞপ্তি জারির তারিখ পর্যালোচনায় দেখা যায়, জুলাই ২০২৪ থেকে জুন ২০২৫ এর আগে কোনো মাসেই নির্দেশনা অনুযায়ী ৭ তারিখের মধ্যে মূল্য বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়নি।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়- সার্বিক বিশ্লেষণে প্রতীয়মান হয় যে, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের ১০-১০-২০২২ তারিখের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী বিপিসির প্রাইসিং কমিটির দায়িত্ব ছিল প্রতি মাসের ৭ তারিখের মধ্যে অকটেন, পেট্রোল ও ডিজেলের ক্রয়মূল্য নির্ধারণ ও বিজ্ঞপ্তি জারি করা। তবে বাস্তবে মূল্য বিজ্ঞপ্তি জারি করতে অতিরিক্ত ৩ থেকে ১০ দিন সময় লেগেছে, যাকে তারা (প্রাইসিং কমিটির আহবায়ক ও সদস্য সচিব) একটি ‘চলমান প্রশাসনিক প্রক্রিয়া’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।

কার কী দায়, সেটি বাদেও এখানে রাষ্ট্রের টাকা গচ্চা গেছে। সে টাকা কে দেবে? তদন্ত কমিটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে তারা ঘটনার সত্যতা পেয়েছেন। প্রাথমিকভাবে যারা দায়ী প্রমাণিত হয়েছে, তাদের তো সাসপেন্ড করা উচিত ছিল। এটা তো কোনো ভুল কিংবা দুর্ঘটনা নয়। তারা ইচ্ছাকৃতভাবে রাষ্ট্রীয় সম্পদ আত্মসাৎ করেছে, ক্ষতি করেছে। উচিত ছিল ঘটনায় জড়িতদের সাসপেনশনে পাঠিয়ে বিভাগীয় মামলা করে বাকিটাও কার দায় কতটুকু সেটা নির্ধারণ করা।-সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আখতার কবীর

সভার পর কার্যবিবরণী প্রস্তুত, সদস্যদের স্বাক্ষর সংগ্রহ, নথি উপস্থাপন ও কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের কারণে বিলম্ব হয়েছে বলে দাবি করা হয়। বিলম্বের বিষয়টি একবার নয়, বরং একাধিক মাসে পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। অভিযোগ ওঠার পর বিপিসি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন পেশের জন্য বলা সত্ত্বেও কমিটি তিন মাস পর ‘বিষয়টি স্পর্শকাতর’ উল্লেখ করে তদন্তে অপারগতা প্রকাশ করে। এতে প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। পরবর্তীসময়ে প্রাইসিং কমিটির সদস্য সচিবকে অন্য বিভাগে বদলি করার পর প্রাইসিং বিজ্ঞপ্তি নিয়মিত হওয়ায় বিপিসির আর্থিক ক্ষতি বন্ধ হয়, যা অভিযোগের বিশ্বাসযোগ্যতাকে আরও জোরালো করে।

আরও পড়ুন

বিশ্লেষণে আরও প্রতীয়মান হয় যে, প্রাইসিং কমিটির সদস্য সচিব বিপিসির নিজস্ব ডিজিএম পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা। অন্যদিকে এ (প্রাইসিং) কমিটির আহ্বায়ক প্রেষণে নিযুক্ত একজন কর্মকর্তা। সরকার কোনো কর্মকর্তাকে কোনো দপ্তরে প্রেষণে নিয়োগ দিলে তাকে কাজ বুঝিয়ে দেওয়া বা তার কাছ থেকে কাজ করিয়ে নেওয়া ওই দপ্তরের স্থায়ী কর্মকর্তাদের দায়িত্ব। বিপিসিতে পরিচালক (অপারেশন ও পরিকল্পনা) হিসেবে ড. এ কে এম আজাদুর রহমান গত ৫ মার্চ ২০২৫ তারিখ অপরাহ্নে যোগ দেন এবং পদাধিকারবলে তিনি প্রাইসিং কমিটির আহ্বায়ক। তবে প্রাইসিং কমিটির সদস্য সচিব শাহরিয়ার মোহাম্মদ রাশেদ ২০২২ সাল থেকে এ কমিটির সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। ফলে নির্ধারিত সময়ে মূল্য নির্ধারণী বিজ্ঞপ্তির গুরুত্ব তার জানা ছিল। তবে তিনি যথেষ্ট সময় নিয়ে সভা আহ্বান, কার্যবিবরণী অনুমোদন ও নথি উপস্থাপনের মাধ্যমে প্রজ্ঞাপন প্রকাশের উদ্যোগ নেননি, যা কর্তব্য কর্মে অবহেলার শামিল। ফলে মার্চ ২০২৫ থেকে মে ২০২৫ সময়কালে বিপিসির ১৭ কোটি ৭৮ লাখ ৯৭ হাজার ৩১৯ টাকা ৫৯ পয়সা আর্থিক ক্ষতি হয় (বিপিসি থেকে প্রাপ্ত হিসাব অনুযায়ী)।

সত্যতা মিললেও সরকারি টাকা উদ্ধারে কোনো সুপারিশ নেই তদন্ত কমিটির

প্রতিবেদনে চারটি মতামত ও সুপারিশ দেয় তদন্ত কমিটি। এর মধ্যে তদন্তে নিশ্চিত হওয়া বিপিসির ১৭ কোটি ৭৮ লাখ ৯৭ হাজার ৩১৯ টাকা ৫৯ পয়সা আর্থিক ক্ষতির টাকা উদ্ধারে কোনো সুপারিশ করেনি তদন্ত কমিটি।

প্রতিবেদনের মতামত ও সুপারিশ

>> প্রাইসিং ফর্মুলা অনুযায়ী ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনের মূল্য পুননির্ধারণ করে প্রতি মাসের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না করায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসে বিপিসির আর্থিক ক্ষতির বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।

>>এ বিষয়ে অধিকতর তদন্তপূর্বক ব্যক্তি পর্যায়ে দায় নির্ধারণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে;

>>ভবিষ্যতে প্রতি মাসের ৭ তারিখের মধ্যে মূল্য নির্ধারণী প্রজ্ঞাপন জারি না হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে এবং

>>বিপিসির প্রাইসিং প্রক্রিয়ার অটোমেশনের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মূল্য নির্ধারণ ও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।

দোষী চিহ্নিত হলেও ব্যবস্থা নিতে গড়িমসি

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে উপস্থাপিত সুপারিশসমূহ বিপিসির বোর্ড সভায় উপস্থাপনের মাধ্যমে বাস্তবায়নের জন্য গত ১ মার্চ বিপিসি চেয়ারম্যানকে নির্দেশনা দিয়ে চিঠি দেয় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। কথা হলে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মো. জিয়াউল হক জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা প্রতিবেদনে আমাদের মতামত ও সুপারিশ জানিয়েছি। গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের সত্যতা পাওয়া গেছে। দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে আমরা দায় নির্ধারণ করার জন্য আলাদা কমিটি গঠন করার সুপারিশ করেছি। এ তদন্ত থেমে যায়নি। আরও তদন্ত হবে।’

এ বিষয়ে কথা হলে তদন্ত কমিটির সদস্য ও বিপিসির সচিব শাহিনা সুলতানা জাগো নিউজকে বলেন, ‘বেসরকারি প্ল্যান্টগুলো থেকে জ্বালানি তেল কেনায় বিলম্বে বিজ্ঞপ্তি জারির কারণে বিপিসি যে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তদন্তে তার সত্যতা মিলেছে। কিন্তু এ ঘটনায় কার দায় কতটুকু, তা নির্ধারণ করতে অধিকতর তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছিল। মন্ত্রণালয় থেকে তদন্ত প্রতিবেদনটি বিপিসিতে পাঠিয়েছে। এখন নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী বোর্ড সভায় বিষয়টি তোলা হবে।’

আরও পড়ুন

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিপিসি সচিব আগামী বোর্ড সভায় বিষয়টি তোলার কথা বললেও বিশ্বস্ত সূত্র বলছে, তদন্ত কমিটির বিষয়টি আগামী বোর্ড সভায় উঠছে না। সভার এজেন্ডা বেশি হয়ে যাওয়ার অজুহাতে প্রাইসিং কমিটির তদন্ত প্রতিবেদনটি পর্যালোচনার জন্য এজেন্ডায় রাখা হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, সচিব বোর্ড সভায় এজেন্ডা উত্থাপন করলেও চেয়ারম্যানের নির্দেশনা ছাড়া সচিব এককভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। প্রাইসিং কমিটির তদন্ত প্রতিবেদনটি চেয়ারম্যানের নির্দেশে পরবর্তী বোর্ড সভায় তোলা হচ্ছে না।

এ বিষয়ে জানতে দাপ্তরিক মোবাইলে একাধিকবার ফোন দিলেও রিসিভ না করায় বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমানের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে দাপ্তরিক মোবাইলে ও হোয়াটসঅ্যাপে খুদেবার্তা দিলেও তিনি সাড়া দেননি।

সমালোচকরা বলছেন, সরকারি টাকা তছরুপে জড়িতদের পরোক্ষভাবে রক্ষা করতে চাইছে তদন্ত কমিটি। সরকারি টাকা তছরুপে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে এবং তদন্ত কমিটির বিরুদ্ধেও তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আখতার কবীর চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, ‘কার কী দায়, সেটি বাদেও এখানে রাষ্ট্রের টাকা গচ্চা গেছে। সে টাকা কে দেবে? তদন্ত কমিটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে তারা ঘটনার সত্যতা পেয়েছেন। প্রাথমিকভাবে যারা দায়ী প্রমাণিত হয়েছে, তাদের তো সাসপেন্ড করা উচিত ছিল। এটা তো কোনো ভুল কিংবা দুর্ঘটনা নয়। তারা ইচ্ছাকৃতভাবে রাষ্ট্রীয় সম্পদ আত্মসাৎ করেছে, ক্ষতি করেছে। উচিত ছিল ঘটনায় জড়িতদের সাসপেনশনে পাঠিয়ে বিভাগীয় মামলা করে বাকিটাও কার দায় কতটুকু সেটা নির্ধারণ করা।’

তিনি বলেন, ‘বিপিসি নানান দোষে দুষ্ট একটি সংস্থা। তদন্ত কমিটি একটি আইওয়াশ। কোনো কিছুর সমালোচনা তৈরি হলে গণমাধ্যমের প্রেশারে নিয়মরক্ষার জন্য তদন্ত কমিটি করা হয়। কিন্তু তদন্তের ফল সম্পর্কে সাধারণ মানুষ জানতে পারে না। পরে দেখা যায়, দোষীদের মওকুফ করে দেওয়া হয়। রাষ্ট্রীয় সম্পদ উদ্ধারে কোনো ব্যবস্থা হয় না। দেখা যাবে- তদন্ত কমিটিও এখানে সম্পৃক্ত। বানরের রুটি ভাগের মতোই অবস্থা। এখানে তদন্ত কমিটির বিরুদ্ধেও তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।’

এমডিআইএইচ/এএমএ/এএসএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।