ইইউ বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের হিস্যা এখন ২১.৫৭ শতাংশ

ইব্রাহীম হুসাইন অভি
ইব্রাহীম হুসাইন অভি ইব্রাহীম হুসাইন অভি
প্রকাশিত: ০৮:০৬ এএম, ০১ মার্চ ২০২৬
ইইউ বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে আগের চেয়ে আরও সুদৃঢ় হয়েছে বাংলাদেশের অবস্থান

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে আগের চেয়ে আরও সুদৃঢ় হয়েছে বাংলাদেশের অবস্থান। ইইউর রপ্তানি বাজারে বাংলাদেশের হিস্যা বেড়ে ২০২৫ সালে হয়েছে ২১ দশমিক ৫৭ শতাংশ। এতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের সক্ষমতা ও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান বিশ্বমঞ্চে আরও শক্তিশালী হলো।

ইউরোস্ট্যাটের (ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিসংখ্যান সংস্থা) তথ্যানুসারে, দেশগুলোর বাজারে ২০২১ সালে বাংলাদেশের অংশ ছিল ১৯ দশমিক ৭৮ শতাংশ। ২০২২ সালে এটি বেড়ে হয় ২২ দশমিক ০৬ শতাংশ, যা বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বাজার অংশ ছিল। পরের বছর ২০২৩ সালে সামান্য পতনের পরেও এর পরিমাণ ২০ দশমিক ৬৭ শতাংশ ছিল। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে যা হয়েছে যথাক্রমে ২০ দশমিক ৭৮ শতাংশ ও ২১ দশমিক ৫৭ শতাংশ।

ইউরোস্ট্যাটের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশি পোশাক রপ্তানি ২০২৫ সালে ৫ দশমিক ৯৭ শতাংশ বেড়ে ১৯ দশমিক ৪১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হয়েছে, যা ২০২৪ সালে ছিল ১৮ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলার।

ইইউর ক্রেতারা এখন শুধু বুনন করা তুলার পোশাক চাইছে না, তারা বৈচিত্র্যময়, প্রযুক্তিনির্ভর পোশাকের চাহিদাও বাড়াচ্ছে। বাংলাদেশে কৃত্রিম তন্তু পণ্য উৎপাদনের ভিত্তি শক্ত হলে ভবিষ্যতে চীনের আরও কাছাকাছি যাওয়া সম্ভব।-খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম

ইউরোপীয় বাজারে সর্বোচ্চ বাজার অংশ ধরে রেখেছে চীন। ২০২১ সালে চীনের অংশ ছিল ৩০ দশমিক ২৮ শতাংশ, পরে কিছুটা হ্রাস পেয়ে ২০২৩ সালে ২৭ দশমিক ৮৫ শতাংশে নামলেও ২০২৫ সালে তা পুনরায় ২৯ দশমিক ৫৪ শতাংশে উঠেছে।

এর মধ্যে বাংলাদেশ দ্বিতীয় অবস্থান ধরে রেখেছে এবং দ্বিতীয় বৃহত্তম সরবরাহকারী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ২০২৫ সালে তুরস্কের বাজার অংশ ছিল মাত্র ৯ দশমিক ২৭ শতাংশ, ভারতের ৫ দশমিক ০৩ শতাংশ এবং কম্বোডিয়ার ৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ, যা বাংলাদেশের সাফল্যকে আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।

‘বাংলাদেশের বাজার অংশের স্থায়িত্ব ও পুনরুদ্ধার প্রমাণ করে, ইইউর ক্রেতারা বাংলাদেশকে শুধু কম খরচের দেশ হিসেবে দেখছে না, পণ্যের গুণগত মান, সময়মতো ডেলিভারি ও পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থাকে মূল্যায়ন করছে।’ এ মন্তব্য করেন বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি মোহাম্মাদ হাতেম।

তিনি জানান, যদিও কিছুটা ওঠানামা দেখা গেছে, কিন্তু ২০২৫ সালে বাংলাদেশের বাজার অংশ সামগ্রিকভাবে উন্নতির দিকে ছিল।

আরও পড়ুন

অপ্রচলিত বাজারে বেড়েছে তৈরি পোশাক রপ্তানি
তৈরি পোশাক রপ্তানিতে মন্দায় ঝুঁকিতে বিনিয়োগ-কর্মসংস্থান
বিশ্ববাজারে পোশাক রপ্তানিতে কমেছে বাংলাদেশের হিস্যা
ছোট হচ্ছে পোশাক পণ্যের বড় বাজার, বিকল্পের খোঁজে রপ্তানিকারকরা

ইইউর বাজারে বাংলাদেশ আরও বড় অংশ দখল করতে চাইলে কৃত্রিম তন্তুভিত্তিক পণ্য উৎপাদনে আরও বিনিয়োগ করতে হবে বলে মন্তব্য করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সিনিয়র গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।

তিনি বলেন, ‘ইইউর ক্রেতারা এখন শুধু বুনন করা তুলার পোশাক চাইছে না, তারা বৈচিত্র্যময়, প্রযুক্তিনির্ভর পোশাকের চাহিদাও বাড়াচ্ছে। বাংলাদেশে কৃত্রিম তন্তু পণ্য উৎপাদনের ভিত্তি শক্ত হলে ভবিষ্যতে চীনের আরও কাছাকাছি যাওয়া সম্ভব।’

খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘বাংলাদেশ ইইউ বাজারে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই উৎপাদনের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা অর্জন করেছে। সাস্টেইনেবিলিটি সার্টিফিকেশন, ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট ও কার্বন ফুটপ্রিন্ট কমানোর দিকে দেশগত উদ্যোগ ইইউর পরিবেশ-সংবেদনশীল ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছে। তাই এই সুবিধা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের বাজার অংশ আরও সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

বস্ত্রখাতের ব্যবসায়ীরা আশাবাদী। তারা মনে করেন, যদি বাংলাদেশের পণ্যবৈচিত্র্য, ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ এবং পণ্য ডিজাইন ও প্রযুক্তি বিনিয়োগ আরও বাড়ে, তাহলে আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশের বাজার অংশ ২৫ শতাংশ ছুঁতে পারে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত ইইউর বাজারে ক্রমবর্ধমান অবস্থান ধরে রেখেছে। এটি দেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিতে অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে রয়ে যাবে।

অন্যদিকে, প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলো হলেও তাদের বাজার অংশ বাংলাদেশ তুলনায় কমে এসেছে। তুরস্কের বাজার অংশ হ্রাস পাওয়ার পেছনে রয়েছে উচ্চ শ্রমিক খরচ এবং ইউরোপের বদলানো প্রয়োজনীয়তা, যেখানে বাংলাদেশ দ্রুত সময়ের ডেলিভারি ও প্রতিযোগিতামূলক মূল্য দিয়ে সুবিধা ধরে রেখেছে। ভারতের বাজার অংশ কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও বাংলাদেশকে ছাড়িয়ে যেতে পারেনি।

আইএইচও/এএসএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।