রিজার্ভ কর পুনর্বিবেচনার আশ্বাস দিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:১০ পিএম, ২৪ জুন ২০১৯

নতুন অর্থবছরের (২০১৯-২০) প্রস্তাবিত বাজেটে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির রিটেইনড আর্নিংস ও রিজার্ভের ওপর কর আরোপের যে প্রস্তাব করা হয়েছে তা পুনর্বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান।

সোমবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টমেন্ট রিপোর্ট-২০১৯ প্রকাশ উপলক্ষে বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভলমেন্ট অথরিটি (বিডা) আয়োজিত মিডিয়া বিফ্রিংয়ে তিনি এ আশ্বাস দেন।

রিজার্ভের ওপর কর আরোপের বিষয়ে প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘অনেক প্রতিষ্ঠান শেয়ারহোল্ডারদের ডিভিডেন্ড না দিয়ে রিটেইনড আর্নিংস বা বিভিন্ন ধরনের রিজার্ভ হিসেবে রেখে দেয়ার প্রবণতা দেখা যায়। এতে বিনিয়োগকারীরা ডিভিডেন্ড প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হন, যার প্রভাব পুঁজিবাজারে পড়ে। কোনো কোম্পানির আয় বছরে রিটেইনড আর্নিংস, রিজার্ভ ইত্যাদির সমষ্টি যদি পরিশোধিত মূলধনের ৫০ শতাংশের বেশি হয় তাহলে যতটুকু বেশি হবে তার ওপর কোম্পানিকে ১৫ শতাংশ কর দিতে হবে।’

বাজেটে এমন প্রস্তাব রাখার পর শেয়ারবাজারে বড় দরপতন দেখা দেয়। শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় রিজার্ভের ওপর কর আরোপের যে প্রস্তাব করা হয়েছে তা ভুলভাবে উপস্থাপন হয়েছে। এই কর আরোপের প্রস্তাব করায় কোম্পানির সম্প্রসারণে অসুবিধা হবে। তবে এ বিষয়ে সরকারের দায়িত্বশীলদের পক্ষ থেকে তেমন কোন মন্তব্য আসছিল না। এমন পরিস্থিতিতেই রিজার্ভের ওপর কর আরোপের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আশ্বাস দিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এখানে দুটো জিনিস। একটা হলো রিটেইনড আর্নিংসের ওপর ট্যাক্স। একচুয়ালি এটা ডাবল ট্যাক্স হয়ে যাচ্ছে। রিটেইনড আনিংস অলরেডি ট্যাক্স পেইড। এটা পয়েন্টেট আউট করা হয়েছে। রিটেইনড আর্নিংয়ের ওপর কর আরোপ করা হলে তা ডাবল করে রূপান্তরিত হবে, যা কোম্পানির বিনিয়োগ বাড়াতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে। ফলে চূড়ান্ত বাজেটের আগে সরকার বিষয়টি সিরিয়াসলি বিবেচনা করবে।’

তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৩১৭ কোম্পানির মধ্যে ২০৯টির রিটেইনড আর্নিংস ও রিজার্ভের পরিমাণ পরিশোধিত মূলধনের ৫০ শতাংশের বেশি। অর্থাৎ রিজার্ভের ওপর কর আরোপের বিষয়ে প্রস্তাবিত বাজেটের সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে ২০৯টি কোম্পানিকে রিজার্ভের জন্য কর দিতে হবে।

এ কোম্পানিগুলোর মোট পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ৫১ হাজার ৯০৩ কোটি টাকা। মোট রিটেইন আর্নিংস ও রিজার্ভের পরিমাণ ৯৭ হাজার ৯০১ কোটি টাকা। মোট পরিশোধিত মূলধনের অর্ধেক বা ৫০ শতাংশ হচ্ছে ২৫ হাজার ৯৫১ কোটি টাকা। পরিশোধিত মূলধনের অতিরিক্ত মোট অর্থের পরিমাণ ৭১ হাজার ৯৪৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ ১৫ শতাংশ হারে কোম্পানিগুলোকে কর দিতে হবে ১০ হাজার ৭৯২ কোটি টাকা।

কোম্পানিগুলোর মধ্যে সব থেকে বেশি ৭৬২ কোটি টাকা কর দিতে হবে সরকারি কোম্পানি তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশনকে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সালমান এফ রহমানের কোম্পানি হিসেবে পরিচিত বেক্সিমকো লিমিটেড। এ প্রতিষ্ঠানটিকে কর দিতে হবে ৭২২ কোটি টাকা।

এছাড়া স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসকে ৬৬৫ কোটি টাকা, ইসলামী ব্যাংককে ৩৯৭ কোটি টাকা, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোকে ৩৩৩ কোটি টাকা, ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশকে (আইসিবি) ২৮৭ কোটি টাকা, ডাচ্-বাংলা ব্যাংককে ২৭৮ কোটি টাকা, যমুনা অয়েলকে ২৭৫ কোটি টাকা এবং বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসকে ২৩৫ কোটি টাকা কর দিতে হবে।

মোটা অঙ্কের করের আওতায় পড়া অন্য কোম্পানির মধ্যে- ইউনিক হোটেলকে ২৩৩ কোটি, রেনাটাকে ২১৪ কোটি, ব্র্যাক ব্যাংককে ১৯৩ কোটি, পূবালী ব্যাংককে ১৭৬ কোটি ও ইস্টার্ন ব্যাংককে ১৬৭ কোটি, পদ্মা অয়েলকে ১৬৪ কোটি, মেঘনা পেট্রোলিয়ামকে ১৫৯ কোটি, সামিট পাওয়ারকে ১৫৪ কোটি, সিটি ব্যাংককে ১৫২ কোটি, সাউথইস্ট ব্যাংককে ১৫০ কোটি, ডেসকোকে ১৪৯ কোটি, এসিআই লিমিটেডকে ১৪৬ কোটি, বিএসআরএম লিমিটেডকে ১৪৪ কোটি, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংককে ১৪৪ কোটি, একমি ল্যাবরেটরিজকে ১৪০ কোটি, প্রাইম ব্যাংককে ১২১ কোটি, উত্তরা ব্যাংককে ১১৮ কোটি, বিএসআরএম স্টিলকে ১০৭ কোটি, ইউনাইটেড পাওয়ারকে ১০৫ কোটি এবং আইডিএলসি ফিন্যান্সকে ১০০ কোটি টাকা কর দিতে হবে।

বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী আমিনুল ইসলাম’র সভাপতিত্বে সোমবারের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরীও বক্তব্য দেন। এতে মূল প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট’র নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘ট্রেড লাইসেন্সে করতে ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে দুই হাজার ৫০০ টাকা করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। এটা করা হলে ডুইং বিজনেসে আরও পাঁচ ধাপ পিছিয়ে যাবে। এ বিষয়গুলো জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর কাছে তুলে ধরতে হবে।’

এমএএস/জেএইচ/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :