২৮ বছরে হারিয়ে গেছে ৭ লাখের বেশি তাঁতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:৪৯ পিএম, ২৭ জুন ২০১৯

বাঙালি সংস্কৃতির ঐতিহ্য ধারণকারী তাঁত শিল্পের প্রাণ তাঁতির সংখ্যা গত ২৮ বছরে উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। ১৯৯০ সালে ১০ লাখ ২৭ হাজার ৮০৭ জন তাঁতি ছিল। ২০১৮ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ১৬ হাজার ৩১৫ জনে। অর্থাৎ, ২৮ বছরের ব্যবধানে বিলীন হয়েছে ৭ লাখ ১১ হাজার ৯২ জন তাঁতি।

তাঁত শুমারি ২০১৮’-এর চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বিবিএস ভবনে তাঁত শুমারির ২০১৮ সালের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরেন প্রকল্প পরিচালক মহিউদ্দিন আহমেদ।

তাতে দেখা যায়, আশঙ্কাজনক হারে কমেছে তাঁত ও তাতির সংখ্যা। শুমারির তথ্য অনুযায়ী, ২৮ বছরের ব্যবধানে তাঁত ইউনিটের সংখ্যা কমেছে ৯৬ হাজার ৩০৪টি। ১৯৯০ সালে তাঁত ইউনিটের সংখ্যা ছিল ২ লাখ ১২ হাজার ৪২১টি। ২০১৮ সালে কমে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ১১৭টিতে।

তাঁত শিল্পের এ করুণ পরিণতির বিষয়ে শুমারিতে বলা হয়, তাঁত পেশায় কম আয়, হস্তশিল্প থেকে যান্ত্রিক শিল্পের পরিবর্তন, পর্যাপ্ত মূলধনের অভাব, তাঁত শিল্পে নিয়োজিত শ্রমিকের অভাব, বাজারজাতকরণের সমস্যা ইত্যাদি কারণে তাঁত শিল্প দিন দিন কমে যাচ্ছে।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, ১৯৯০ সালে নারীর তুলনায় পুরুষ তাঁত পেশায় বেশি যুক্ত ছিলেন। ২৮ বছরের ব্যবধানে পুরুষের তুলনায় নারীরা বেশি এ পেশায় যুক্ত। ১৯৯০ সালে ৫ লাখ ৭১ হাজার ৭৬৫ জন পুরুষ তাঁত পেশায় যুক্ত ছিলেন। ২৮ বছরের ব্যবধানে ৪ লাখ ৩১ হাজার ৭২০ জন কমে ২০১৮ সালে তা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪০ হাজার ৪৫ জনে। ১৯৯০ সালে ৪ লাখ ৫৫ হাজার ৬৪২ নারী তাঁত পেশায় যুক্ত ছিলেন। তাদের সংখ্যা ২ লাখ ৭৯ হাজার ৩৭২ জন কমে তা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৬ হাজার ২৭০ জনে।

তবে বর্তমানে চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিভাগে তাঁত শিল্পের প্রাধান্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে শুমারিতে উঠে এসছে। এই দুই বিভাগে দেশের মোট তাঁত ইউনিট ৭৩.০৮% এবং শুধুমাত্র চট্টগ্রাম বিভাগে এ হার ৫৬.১৩%।

শহর এলাকা থেকে পল্লী এলাকায় তাঁত ইউনিটের সংখ্যা অনেক বেশি। এ সংখ্যা পল্লী এলাকায় প্রায় ৮৮.৪৬% এবং শহর এলাকায় মাত্র ১১.৫৪%।

এ বিষয়ে বিবিএসের মহাপরিচালক ড. কৃষ্ণা গায়েন বলেন, ‘তাঁত শুমারি ২০১৮’ পরিচালনার উদ্দেশ্যগুলো ছিল এই খাতের বর্তমান অবস্থার মূল্যায়ন করা, কার্যকর এবং অকার্যকর তাঁতখানা শনাক্ত করা, তাঁতি এবং স্বজাতীয় কর্মীদের আর্থ-সামাজিক অবস্থা নির্ধারণ করা।

তিনি আশা করেন, এই শুমারির তথ্য-উপাত্ত ব্যবহার করে বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড এই খাতের উন্নয়নের জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও কার্যকর ব্যবস্থা ও পরিকল্পনা প্রণয়ন করবে যা শিল্পকে উত্তরোত্তর সমৃদ্ধির পথে নিয়ে যাবে। শুমারির চূড়ান্ত ফলাফল থেকে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত পরিকল্পনাকারী, নীতিনির্ধারক, গবেষক এবং অন্যান্য অংশীজনকে এ খাতের অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, বাংলাদেশের তাঁত বস্ত্রের রয়েছে সোনালি ঐতিহ্য। এ ঐতিহ্যবাহী শিল্প হারিয়ে যেতে বসেছে। তবে তিনি আশা করেন, তাঁত শুমারি ২০১৮ এর তথ্য-উপাত্ত ব্যবহার করে বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড তাঁত শিল্পের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এক্ষেত্রে সরকার যথাযথভাবে সহযোগিতা করবে।

পিডি/এসআর/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :