রেক্সের নিবন্ধন পেল ‘প্রাণ’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:০৫ পিএম, ২১ জুলাই ২০১৯

রেজিস্টার্ড এক্সপোর্টার্স সিস্টেম বা রেক্স এর নিবন্ধন পেল দেশের বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্রাণ এ্যাগ্রো লিমিটেড। ফলে এখন ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) রফতানিতে প্রাণ নিজেই শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়ার ঘোষণা ‘স্টেটমেন্ট অন অরিজিন’ দিতে পারবে।

রাজধানীর কারওয়ানবাজারে রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সম্মেলন কক্ষে রোববার (২১ জুলাই) আনুষ্ঠানিকভাবে প্রাণসহ ১০টি প্রতিষ্ঠানকে রেক্স নিবন্ধন নাম্বার দেয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রাণ গ্রুপের পরিচালক (কর্পোরেট ফাইন্যান্স) উজমা চৌধুরীর হাতে রেক্স নিবন্ধন নাম্বার তুলে দেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

রেক্স নিবন্ধনের ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) রফতানিতে অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা বা জিএসপি সনদ প্রদান সহজ হবে। এতে রফতানিকারকদের সময় ও অর্থ দুটোই বাঁচবে।

রেক্স নিবন্ধন নাম্বার পাওয়া অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- জাবের অ্যান্ড জুবায়ের ফেব্রিক্স লিমিটেড, রিফাত গার্মেন্টস, স্কয়ার ফ্যাশন লিমিটেড, নোমান টেরিটাওয়েল, সী মার্ক বিডি, আকিজ জুট মিলস লিমিটেড, কারুপণ্য রংপুর লিমিটেড, ইউনি গ্লোরি সাইকেল ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড ও ইউনিভার্সেল জিন্স লিমিটেড।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘রফতানি বাণিজ্য বাড়াতে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত। ইউরোপের বাজারে শুল্ক সুবিধা পেতে রেক্স এর নিবন্ধন শুরু হয়েছে। এতে রফতানি বাণিজ্য সম্প্রসারণ হবে। প্রথম যে ১০টি প্রতিষ্ঠানকে রেক্স নাম্বার দেয়া হলো তাদের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। আমি আশা করব, যেসব ব্যবসায়ী রেক্স এর নিবন্ধন নেবে তারা সরলভাবে ব্যবসা করবেন। কেউ যেন পণ্যে ভেজাল না দেন। এতে তারা যেমন লাভবান হবেন তেমনই দেশের ভাবমূর্তিও রক্ষা পাবে।’

তিনি জানান, চলতি বছরের মধ্যে ৬ হাজার প্রতিষ্ঠানকে রেক্স নিবন্ধন নাম্বার নিতে হবে। এ জন্য ইপিবিকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশ দেন বাণিজ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে প্রতি সপ্তাহে মন্ত্রণালয়কে নিবন্ধনের তথ্য সরবরাহ করারও নির্দেশ দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মফিজুল ইসলাম, ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সভাপতি ফজলে ফাহিম প্রমুখ।

সংশ্লিষ্টরা জানান, নতুন এ স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে অন্তর্ভুক্ত হতে প্রতিটি রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানকে রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) থেকে নিবন্ধন নিতে হবে। ট্রেড লাইসেন্স, রফতানি নিবন্ধন সনদ (ইআরসি), ফায়ার লাইসেন্স, পরিবেশ সনদ ও ভবন নিরাপত্তা সনদ যাচাই-বাছাই ও কারখানা বা কার্যালয় পরিদর্শন করে এ নিবন্ধন দেবে ইপিবি। সেখান থেকেই নিবন্ধনটি প্রতিবছর নবায়ন করতে হবে। বর্তমানে ইপিবির প্রধান কার্যালয়সহ আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে রফতানিকারকদের জিএসপি সনদ নিতে হয়। এতে সময়ের সঙ্গে অর্থেরও অপচয় হয়।

রেক্স পদ্ধতি স্বচ্ছ হওয়ায় অনিয়মের সুযোগ থাকবে না। সময় ও ব্যয় হ্রাস পাবে। অনলাইনে ২৪ ঘণ্টাই সেবা নেয়া যাবে। ছুটির দিনেও সেবা বন্ধ থাকবে না। তৃতীয় কোনো দেশ থেকে বাংলাদেশের শুল্কমুক্ত সুবিধা গ্রহণের সুযোগ নেয়া বন্ধ হবে। স্বয়ংক্রিয় হওয়ায় সেবাটি নিতে রফতানিকারকদের জনবল আগের চেয়ে কম লাগবে।

বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৫১টি দেশ ইইউতে শুল্কমুক্ত পণ্য রফতানির সুবিধা পায়। সদ্য বিদায়ী ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট ৪ হাজার ৫৩ কোটি ডলারের পণ্য রফতানির ২ হাজার ২৮৫ কোটি ডলার বা ৫৬ শতাংশ গেছে ইইউতে। ইইউ রফতানিকারক পর্যায়ে জবাবদিহিতা নিশ্চিত ও জিএসপি সনদ প্রদান প্রক্রিয়া সহজ করতে ২০১০ সালে রেক্স বাস্তবায়ন শুরু করে। ইতোমধ্যে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কায় রেক্স চলমান রয়েছে।

এসআই/এনডিএস/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :