সোয়া দুই লাখ টাকার ‘রাজকীয়’ খাট

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:৪৪ পিএম, ২৮ জানুয়ারি ২০২০

মনের মতো সাজানো গোছানো একটি শোয়ার ঘর কার না পছন্দ। সাধ্য অনুযায়ী নিজের মতো করে এটি সাজাতে চান সবাই। সঙ্গে যদি একটু আভিজাত্যের পরশ বুলিয়ে দেয়া যায়, তাহলে তো কথাই নেই। নিজ ঘরে নেমে আসে স্বর্গীয় সুখ।

এবারের বাণিজ্য মেলায় সেই স্বর্গীয় সুখ দিতে নান্দনিক নকশা আর মানসম্মত আসবাবপত্র নিয়ে এসেছে দেশের বিভিন্ন নামি দামি প্রতিষ্ঠান। এসব আসবাবপত্রের মধ্যে অন্যতম দামি খাটের সন্ধানে খোঁজ মিলে ‘রাজকীয়’ নামের খাটের। এ রাজকীয় খাট কিনতে চাইলে ভ্যাটসহ ক্রেতাকে গুনতে হবে ২ লাখ ২৮ হাজার টাকা।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে মাসব্যাপী ২৫তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার প্রধান গেট দিয়ে ঢুকে একটু সোজা গিয়ে হাতের বামে নিউ এনটিক ফার্নিচারের ৫৮ নম্বর প্রিমিয়াম প্যাভিলিয়নে এ খাট বিক্রি হচ্ছে। নিউ এনটিক ফার্নিচার এ খাটসহ পাঁচ দরজার একটি আলমিরা, একটি ড্রেসিন টেবিল ও একটি বেড সাইড টেবিলের একটি সেট তৈরি করেছে। এ সেটের নাম দেয়া হয়েছে প্রেসিডেন্ট সেট। প্রেসিডেন্ট সেট কিনতে খরচ পড়বে ভ্যাটসহ ৫ লাখ ৬৩ হাজার ৫০০ টাকা। এসব আসবাবপত্র চট্টগ্রামের সেগুন কাঠ দিয়ে তৈরি বলে জানিয়েছে নিউ এনটিক ফার্নিচার কর্তৃপক্ষ। এসব পণ্যে ২০ বছরের রিপ্লেসমেন্ট গ্যারান্টিও দিচ্ছে তারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নিউ এনটিক ফার্নিচার বিক্রয় প্রতিনিধি মো. রাজীব হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘তাদের পক্ষ থেকে এবার মেলায় বিশেষ আকর্ষণ হচ্ছে খাটসহ পাঁচ দরজার একটি আলমিরা, একটি ড্রেসিন টেবিল ও একটি বেড সাইড টেবিলের সমন্বয়ে গঠিত প্রেসিডেন্ট সেট। এ সেট কিনতে খরচ পড়বে ভ্যাটসহ ৫ লাখ ৬৩ হাজার ৫০০ টাকা। অবশ্য ক্রেতা এসব পণ্য আলাদা আলাদাভাবেও কিনতে পারবেন। আলাদাভাবে কিনলে প্রতিটি পণ্যের গায়ের রেট থেকে মেলা উপলক্ষে ২০ শতাংশ ছাড়ও দেয়া হবে।’

‘২০ শতাংশ ছাড় দেয়ার পর রাজকীয় খাটের দাম পড়বে ভ্যাটসহ ২ লাখ ২৮ হাজার, পাঁচ দরজার আলমিরার দাম পড়বে ২ লাখ ৩০ হাজার, ড্রেসিন টেবিলের দাম পড়বে ৯৩ হাজার এবং বেড সাইড টেবিলের দাম পড়বে ১৯ হাজার ৫০০ টাকা। এছাড়া তাদের প্যাভিলিয়নে সর্বনিম্ন ৪০ হাজার টাকার খাট রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এসব আসবাবপত্র চট্টগ্রামের সেগুন কাঠের তৈরি। কাঠের ওপর তিনটি উন্নতমানের বার্নিশ দিয়ে কালার করা হয়েছে। আমরা বিক্রির পর ২০ বছরের লিখিত গ্যারান্টি নেই। এ সময়ের মধ্যে কোনো পণ্য নষ্ট হলে নষ্টটা ফেরত নিয়ে নতুন পণ্য দিয়ে থাকি।’

‘এ কোম্পানি ২২ বছর ধরে এ ধরনের উন্নত প্রোডাক্ট তৈরি করছে। ১৬ বছর ধরে বিভিন্ন ফার্নিচার প্রদর্শনীতে আমরা অংশগ্রহণ করি। তবে বাণিজ্য মেলায় এবার প্রথম অংশগ্রহণ। মেলায় ভালো সাড়া পাচ্ছি। এ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট সেট যার দাম ৫ লাখ ৬৩ হাজার ৫০০ টাকা- এ সেটের দুটি অর্ডার পেয়েছি আরও অর্ডার পাবো বলে আশা করছি। অন্য পণ্যের বিক্রিও ভালো।’

এছাড়া বাণিজ্য মেলা ঘুরে দেখা গেছে, নতুন নতুন ডিজাইনের সর্বনিম্ন ১৫ হাজার থেকে শুরু করে বিভিন্ন মূল্যের খাট নিয়ে এসেছে পারটেক্স, হাতিল, নাভানা, আখতার, রিগ্যালসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের নান্দনিক প্যাভিলিয়নে পাওয়া যাচ্ছে আকর্ষণীয় সব খাট।

বরাবরের মতো এবারও বছরের প্রথম দিন (১ জানুয়ারি) শুরু হয় বাণিজ্য মেলা। মাসব্যাপী এ বাণিজ্য মেলা উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ৩১ জানুয়ারি মেলা শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মেলার সময় বাড়িয়েছে সরকার।

প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকবে। টিকিটের দাম এ বছর প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য ৪০ এবং অপ্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য ২০ টাকা।

এবারের মেলায় স্টল/প্যাভিলিয়নের সংখ্যা ৪৮৩টি। এর মধ্যে বিভিন্ন ক্যাটাগরির প্যাভিলিয়নের সংখ্যা ১১২টি, মিনি প্যাভিলিয়নের সংখ্যা ১২৮টি এবং বিভিন্ন ক্যাটাগরির স্টলের সংখ্যা ২৪৩টি। এর মধ্যে বিদেশি প্যাভিলিয়ন ২৭টি, বিদেশি মিনি প্যাভিলিয়ন ১১টি এবং বিদেশি প্রিমিয়ার স্টলের সংখ্যা ১৭টি।

এবারের মেলায় বাংলাদেশের পাশাপাশি থাইল্যান্ড, ইরান, তুরস্ক, নেপাল, চীন, মালয়েশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, পাকিস্তান, হংকং, দক্ষিণ কোরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, ভুটান, ব্রুনাই, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইতালি ও তাইওয়ানের প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে।

এমইউএইচ/জেএইচ/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]