মধ্যপ্রাচ্যে বিদেশি শ্রমিকরা কোথা থেকে আসেন, বাংলাদেশির সংখ্যা কত?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:১৬ পিএম, ১০ মার্চ ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি শ্রমিক রয়েছেন/ ফাইল ছবি: এএফপি

মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ বা জিসিসি-ভুক্ত ছয়টি দেশে বর্তমানে প্রায় ৬ কোটি ২০ লাখ মানুষ বসবাস করছেন। ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনা সত্ত্বেও এই অঞ্চলের অর্থনীতি সচল রাখতে মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করছেন প্রায় ৩ কোটি ৫০ লাখ বিদেশি শ্রমিক। এই বিশাল শ্রমবাজারে দ্বিতীয় বৃহত্তম সম্প্রদায় হিসেবে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করেছেন বাংলাদেশিরা।

জিসিসি দেশগুলোর বিদেশি শ্রমিকরা কোথা থেকে আসেন?

জিসিসি দেশগুলোতে প্রজন্মের পর প্রজন্ম বিদেশি শ্রমিক কর্মক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছেন। নির্মাণশ্রমিক, গৃহকর্মী, নিরাপত্তাকর্মী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ বিভিন্ন পেশার শ্রমিকরা উপসাগরীয় দেশগুলোর আধুনিক অবকাঠামো গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডিজিটাল মার্কেটিং সংস্থা গ্লোবাল মিডিয়া ইনসাইট অনুসারে, ছয়টি জিসিসি দেশে বসবাসকারী ১০টি বৃহত্তম বিদেশি সম্প্রদায় হলো:

  • ভারত: ৯১ লাখ
  • বাংলাদেশ: ৫০ লাখ
  • পাকিস্তান: ৪৯ লাখ
  • মিশর: ৩৩ লাখ
  • ফিলিপাইন: ২২ লাখ
  • ইয়েমেন: ২২ লাখ
  • নেপাল: ১২ লাখ
  • সুদান: ১১ লাখ
  • সিরিয়া: ৬ লাখ ৯৪ হাজার
  • শ্রীলঙ্কা: ৬ লাখ ৫০ হাজার

সৌদি আরব

জিসিসি দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় সৌদি আরব। দেশটির মোট জনসংখ্যা প্রায় ৩ কোটি ৭০ লাখ। তেলসমৃদ্ধ এই দেশে স্থানীয় নাগরিকের সংখ্যা প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ, আর বিদেশি বাসিন্দা প্রায় ১ কোটি ৬৪ লাখ।

আরও পড়ুন>>
মধ্যপ্রাচ্যে হামলায় ২ বাংলাদেশি নিহত, আহত ৭
ইরানের পাল্টা হামলায় আমিরাতে নিহত বাংলাদেশির পরিচয় মিলেছে
দুই দশকে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি জনগোষ্ঠী বেড়েছে ৫৬৯ শতাংশ

 

সৌদি আরবে বসবাসকারী বিদেশিদের মধ্যে সবচেয়ে বড় পাঁচটি গোষ্ঠী এসেছে যেসব দেশ থেকে:

  • বাংলাদেশ: ২৫ লাখ ৯০ হাজার
  • ভারত: ২৩ লাখ ১০ হাজার
  • পাকিস্তান: ২২ লাখ ৩০ হাজার
  • ইয়েমেন: ২২ লাখ ১০ হাজার
  • মিশর: ১৮ লাখ
  • সুদান: ১০ লাখ

সংযুক্ত আরব আমিরাত

সংযুক্ত আরব আমিরাত জিসিসি অঞ্চলের দ্বিতীয় বৃহত্তম জনসংখ্যার দেশ। এখানে মোট জনসংখ্যা প্রায় ১ কোটি ১৩ লাখ। এখানে স্থানীয় আমিরাতি নাগরিক মোট জনসংখ্যার প্রায় ১২ শতাংশ, আর বিদেশিরা প্রায় ৮৮ শতাংশ।

দেশটিতে বসবাসকারী বিদেশিদের সবচেয়ে বড় পাঁচটি গোষ্ঠী এসেছে যেসব দেশ থেকে:

  • ভারত: ৪৩ লাখ ৬০ হাজার
  • পাকিস্তান: ১৯ লাখ
  • বাংলাদেশ: ৮ লাখ ৪০ হাজার
  • ফিলিপাইন: ৭ লাখ ৮০ হাজার
  • ইরান: ৫ লাখ ৪০ হাজার
  • মিশর: ৪ লাখ ৮০ হাজার

কুয়েত

কুয়েতের মোট জনসংখ্যা প্রায় ৪৮ লাখ, যা জিসিসি অঞ্চলের তৃতীয় বৃহত্তম। এর মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ ৬০ হাজার কুয়েতি নাগরিক এবং প্রায় ২১ লাখ ৬০ হাজার বিদেশি শ্রমিক রয়েছেন।

কুয়েতে বসবাসকারী বিদেশিদের সবচেয়ে বড় পাঁচটি গোষ্ঠী এসেছে যেসব দেশ থেকে:

  • ভারত: ১০ লাখ
  • মিশর: ৭ লাখ
  • বাংলাদেশ: ৩ লাখ ৫০ হাজার
  • ফিলিপাইন: ২ লাখ ৫০ হাজার
  • পাকিস্তান: ২ লাখ
  • নেপাল: ১ লাখ ২০ হাজার

ওমান

ওমানের জনসংখ্যা প্রায় ৪৭ লাখ। এর মধ্যে প্রায় ২৫ লাখ স্থানীয় নাগরিক, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫৯ শতাংশ। বাকি প্রায় ২০ লাখ ৫০ হাজার বা ৪১ শতাংশ বিদেশি শ্রমিক।

ওমানে বসবাসকারী বিদেশিদের সবচেয়ে বড় পাঁচটি গোষ্ঠী এসেছে যেসব দেশ থেকে:

  • ভারত: ৭ লাখ ৬৬ হাজার ৭৩৫
  • বাংলাদেশ: ৭ লাখ ১৮ হাজার ৮৫৬
  • পাকিস্তান: ২ লাখ ৬৮ হাজার ৮৬৮
  • মিশর: ৪৬ হাজার ৯৭০
  • ফিলিপাইন: ৪৫ হাজার ২১৩
  • উগান্ডা: ২০ হাজার ৮৮৬

কাতার

কাতারের জনসংখ্যা প্রায় ৩২ লাখ। এর মধ্যে প্রায় ২৮ লাখ ৭০ হাজার বিদেশি শ্রমিক, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৮৮ শতাংশ। কাতারি নাগরিকের সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার, অর্থাৎ প্রায় ১২ শতাংশ।

কাতারে বসবাসকারী বিদেশিদের সবচেয়ে বড় পাঁচটি গোষ্ঠী এসেছে যেসব দেশ থেকে:

  • ভারত: ৭ লাখ
  • বাংলাদেশ: ৪ লাখ
  • নেপাল: ৪ লাখ
  • মিশর: ৩ লাখ
  • ফিলিপাইন: ২ লাখ ৩৬ হাজার
  • পাকিস্তান: ১ লাখ ৮০ হাজার

বাহরাইন

বাহরাইনের মোট জনসংখ্যা প্রায় ১৫ লাখ ৮০ হাজার, যা জিসিসি অঞ্চলের সবচেয়ে কম। এখানে স্থানীয় নাগরিকরা মোট জনসংখ্যার অর্ধেকের কিছু কম।

বাহরাইনে বসবাসকারী বিদেশিদের সবচেয়ে বড় পাঁচটি গোষ্ঠী এসেছে যেসব দেশ থেকে:

  • ভারত: ৩ লাখ ৫০ হাজার
  • বাংলাদেশ: ১ লাখ ৫০ হাজার
  • পাকিস্তান: ১ লাখ ২০ হাজার
  • ফিলিপাইন: ৮০ হাজার
  • মিশর: ৬০ হাজার
  • নেপাল: ৩৫ হাজার

সূত্র: আল-জাজিরা
কেএএ/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।