সাত ‘পচা’ কোম্পানিসহ ২৫টির বিক্রেতা উধাও

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:২৭ পিএম, ১৩ আগস্ট ২০২০

সুবাতাস বইতে শুরু করেছে দেশের শেয়ারবাজারে। প্রতিদিনই বাড়ছে মূল্য সূচক ও লেনদেন। এতে বড় লোকসান কাটিয়ে মুনাফার দেখা পাচ্ছেন কিছু বিনিয়োগকারী।

প্রায় দেড় মাস ধরে শেয়ারবাজারে উর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিলেও ঈদের আগের শেষ সপ্তাহ থেকে শেয়ারবাজার চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। একদিকে সূচকের বড় উত্থান হচ্ছে, অন্যদিকে তারল্য সংকট কাটিয়ে লেনদেনের গতিও বেড়েছে বেশ।

এতে বাজারের ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থাও বাড়তে শুরু করেছে। এমনকি বাড়তি দামেও কিছু কিছু প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বিক্রি করতে চাচ্ছেন না বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ।

সোমবার দফায় দফায় দাম বাড়ার পরও ২৫টি কোম্পানির শেয়ারের বিক্রেতা এক প্রকার উধাও হয়ে যায়। এর মধ্যে ৫টি কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠে যায়। বাকিগুলোর শেয়ার সর্বোচ্চ দামের কাছাকাছি চলে রয়েছে।

এরপর যাদের কাছে কোম্পানিগুলোর শেয়ার রয়েছে তারা বিক্রি করতে চাচ্ছেন না। এই ২৫ কোম্পানির মধ্যে 'জেড' গ্রুপের পচা কোম্পানি রয়েছে ৭টি।

এর মধ্যে রয়েছে- সি অ্যান্ড এ টেক্সটাইল, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, বিডি ওয়েল্ডিং, শাহিন পুকুর সিরামিকস, ডেল্টা স্পিনিং, শ্যামপুর সুগার মিল এবং মিথুন নিটিং। বছরের পর বছর ধরে বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ না দেয়ায় এ কোম্পানিগুলোর ঠিকানা হয়েছে জেড গ্রুপ।

এর মধ্যে সি অ্যান্ড এ টেক্সটাইলের কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরেই বন্ধ রয়েছে। অথচ এই পচা কোম্পানিটিই আজ দাম বাড়ার ক্ষেত্রে সব থেকে বেশি এগিয়েছিল। দাম বাড়ার সর্বোচ্চ সীমা স্পর্শ করা কোম্পানিটি ২০১৫ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। ২০১৬ সালে ১০ শতাংশ বোনাস শেয়ার লভ্যাংশ দেয়ার পর কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের আর কোনো লভ্যাংশ দেয়নি।

বছরের পর বছর ধরে বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ দিতে না পারা আইসিবি ইসলামী ব্যাংকও দাম বাড়ার সর্বোচ্চ সীমা স্পর্শ করেছে। ২০১৪ সালের পর থেকে লভ্যাংশ না দেয়া বিডি ওয়েল্ডিংয়ের শেয়ার দাম বেড়েছে ৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ।

বিক্রেতা উধাও হয়ে যাওয়া শাহিন পুকুর সিরামিকস ২০১২, ডেল্টা স্পিনিং ২০১৭ এবং মিথুন নিটিং ২০১৬ সালের পর বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ দেয়নি। আর শ্যামপুর সুগার মিল সর্বশেষ কবে লভ্যাংশ দিয়েছে সে সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যায়নি।

এই পচা কোম্পানিগুলোর পাশাপাশি বিক্রেতা উধাও হয়ে যাওয়া অন্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে- ছবি ব্যাংক, সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্স, আইএফআইসি ব্যাংক, অগ্রণী ইন্স্যুরেন্স, এশিয়া প্যাসিফিক ইন্স্যুরেন্স, প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স, ফেডারেল ইন্স্যুরেন্স, স্যোসাল ইসলামী ব্যাংক, প্রগতী ইন্স্যুরেন্স, জিবিবি পাওয়ার, পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স, পিপলস ইন্স্যুরেন্স, সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্স, ইস্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্স, ইষ্টার্ণ ইন্স্যুরেন্স, ব্যাস ফাইন্যান্স, বে-লিজিং এবং প্রভাতী ইন্স্যুরেন্স।

এমএএস/এনএফ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]