পেনশন প্রক্রিয়া সহজে টিসিবির কল্যাণ কর্মকর্তা মনোনয়ন

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:৫৪ পিএম, ১৪ আগস্ট ২০২০

সারাজীবন চাকরি করে জীবনসায়াহ্নে পেনশনের টাকা তুলতে গিয়ে এক সময় পদে পদে ভোগান্তিতে পড়তে হতো সরকারি চাকরিজীবীদের। তবে এসব মানুষদের ভোগান্তি কমাতে ‘ছুটি নগদায়ন মঞ্জুরির আদেশ বিল দাখিলের তিন কর্মদিবসের মধ্যে পেনশনভোগীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পেনশনের অর্থ দেয়া হবে’ উল্লেখ করে গত ফেব্রুয়ারিতে পেনশন সহজীকরণ আদেশ-২০২০ ইতোমধ্যেই জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

পেনশন দেয়ার পদ্ধতি সহজ করা হলেও বেশকিছু কাগজপত্র জমা দিতে হয়। এসব কাগজপত্রে প্রিন্ট ভার্সন এখনও না আসায় অর্থ বিভাগের ওয়েবসাইট থেকে ফর্মসহ বেশকিছু কাগজপত্র সংগ্রহ করতে হয়। এতে করে পেনশনের আবেদন করতে গিয়ে নিম্ন শ্রেণির কর্মচারীরা সমস্যায় পড়েন। তাই এ সমস্যা সমাধানে এক উপসচিবকে কর্মচারীদের পেনশন কেস প্রক্রিয়াকরণে সহায়তা করার জন্য কল্যাণ কর্মকর্তা মনোনয়ন করেছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) এ সংক্রান্ত একটি অফিস আদেশ জারি করে বিষয়টি বাণিজ্য সচিবকেও জানিয়েছে সরকারি এ প্রতিষ্ঠানটি।

আদেশে বলা হয়, সরকারি কর্মচারীদের পেনশন কেইস প্রক্রিয়াকরণে সহায়তা করার জন্য টিসিবির মো. জসিম উদ্দিনকে কল্যাণ কর্মকর্তা হিসেবে মনোনয়ন করা হলো। জসিম উদ্দিনের মোবাইল নম্বর- 01762502424 এবং ই-মেইল হচ্ছে- [email protected]

ছুটি নগদায়ন মঞ্জুরির আদেশের বিল দাখিলের তিন কর্মদিবসের মধ্যে পেনশন সুবিধা পেতে নতুন করে বেশকিছু কাগজপত্র জমা দেয়ার বিধান রাখা হয়েছে। আর এসব ফরম ও কাগজপত্র অর্থ বিভাগের ওয়েবসাইট পাওয়া যাচ্ছে। গত ১৯ মার্চ স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি নতুন পরিপত্র সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

এতে বলা হয়, ‘সরকারি কর্মচারীগণের পেনশন সহজীকরণ আদেশ-২০২০’ এর ৪.০৯ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীর নিজের এবং তার মৃত্যুর পর তার পরিবারের পারিবারিক পেনশন প্রাপ্তির আবেদনের নিমিত্তে পেনশন আবেদন ফরম, সনদ ও কাগজপত্রাদি সংশোধিত আকারে প্রণয়ন করা হয়েছে।

এগুলো হচ্ছে- প্রত্যাশিত শেষ বেতনপত্র (ইএলপিসি) (সংযোজনী-১), প্রাপ্তব্য পেনশনের বৈধ উত্তরাধিকারী ঘোষণাপত্র (সংযোজনী-২), উত্তরাধিকার সনদপত্র ও নন-ম্যারেজ সার্টিফিকেট (সংযোজনী-৩), পেনশন ফরম ২.১ (সংযোজনী- ৪), পারিবারিক পেনশন ফরম ২.২ (সংযোজনী- ৫), নমুনা স্বাক্ষর ও হাতের পাঁচ আঙুলের ছাপ (সংযোজনী- ৬), আনুতোষিক ও অবসরভাতা উত্তোলন করার জন্য ক্ষমতা অর্পণ ও অভিভাবক মনোনয়নের প্রত্যয়নপত্র (সংযোজনী- ৭) এবং না-দাবি প্রত্যয়নপত্র (সংযোজনী-৮)।

এ আট ধরনের ফরম, সনদ ও কাগজপত্রাদির মুদ্রণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তাই বর্তমানে এসব ফরম, সনদ ও কাগজপত্রাদি অর্থ বিভাগের ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করে ব্যবহার করতে হবে। এ অবস্থায় ‘সরকারি কর্মচারীগণের পেনশন সহজীকরণ আদেশ-২০২০’- এ সংযোজিত উল্লিখিত ফরম, সনদ ও কাগজপত্রাদি পেনশন আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ব্যবহার করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ করা হলো।

এদিকে পেনশন সহজীকরণ আদেশে বলা হয়, ছুটি নগদায়ন মঞ্জুরির আদেশ বিল দাখিলের তিন কর্মদিবসের মধ্যে পেনশনভোগীর ব্যাংক হিসাবে ওই টাকা চলে যাবে।

এছাড়া মাসিক সুবিধার টাকা ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের (ইএফটি) মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ব্যাংক হিসাবে পাঠিয়ে দেয়া হবে। প্রত্যেক মন্ত্রণালয়, বিভাগ শুধু পেনশনের বিষয়টি দেখার জন্য একজন কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হবে।

আদেশে বলা হয়, অবসরগ্রহণকারী সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীর মৃত্যুর ক্ষেত্রে তাদের পরিবারবর্গের অবসরজনিত সুবিধাদি সঠিক সময়ে প্রাপ্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অর্থ বিভাগ কর্তৃক জারিকৃত ‘বেসামরিক সরকারি কর্মচারীদের পেনশন মঞ্জুরি ও পরিশোধ সংক্রান্ত বিধি/পদ্ধতি অধিকতর সহজীকরণ আদেশ-২০০৯’ কে নিম্নরূপ আদেশ দ্বারা প্রতিস্থাপন করার জন্য সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। যা ‘সরকারি কর্মচারীগণের পেনশন সহজীকরণ আদেশ-২০২০’ নামে অভিহিত হবে।

নতুন জারিকৃত পেনশন সহজীকরণ আদেশে যা আছে-

সরকারি চাকরিজীবীদের পেনশন সহজীকরণ আদেশে বলা হয়, অবসরগ্রহণের আগে ইএলপিসি পাওয়ার এক মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট চাকরিজীবীকে নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হবে। ওই আবেদনে প্রাপ্য ছুটি, ছুটি নগদায়ন, ভবিষ্যৎ তহবিলের স্থিতি উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিতে হবে। এই আবেদন পাওয়ার পাঁচ মাসের মধ্যে কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করবে। বিশেষ করে সরকারের আদায়যোগ্য অর্থের পরিমাণ নির্ধারণ করে আদায়ের ব্যবস্থা করবে। এই প্রক্রিয়ার পর তিন মাসের মধ্যে কর্তৃপক্ষ অবসরোত্তর ছুটি, ছুটি নগদায়ন ও পেনশন মঞ্জুরিপত্র জারি করবেন।

সেখানে বলা হয়, ছুটি নগদায়ন মঞ্জুরির আদেশ পাওয়ার পর বিল দাখিলের তিন কর্মদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট পেনশনভোগীর ব্যাংক হিসাবে ওই টাকা চলে যাবে।

পেনশন মঞ্জুরির কাগজপত্র প্রাপ্তির ১০ কর্মদিবসের মধ্যে পেনশন নির্ণয়-সংক্রান্ত হিসাব যথাযথভাবে যাচাইপূর্বক সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিস পেনশন পরিশোধ আদেশ (পিপিও) জারি করবে। আনুতোষিকের টাকার চেক বা ইএফটি পিআরএল শেষ হওয়ার পর দিন চূড়ান্ত অবসরগ্রহণের দিন সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর নিকট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রেরণ নিশ্চিত করতে হবে।

অনুত্তোলিত পেনশন এবং বকেয়া পেনশনের ক্ষেত্রে সাত কর্মদিবসের মধ্যে নিষ্পত্তিকরণ : ইএফটি জেনারেট করতে হবে। অডিট আপত্তি থাকলে তিন মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে। চূড়ান্ত অবসরগ্রহণের এক বছরের মধ্যে বিভাগীয় মামলা থাকলে নিষ্পত্তি করতে হবে। প্রতি মাসের পেনশন পরবর্তী মাসের এক তারিখে পেনশনারের ইএফটির মাধ্যমে তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রেরণ করতে হবে।

এছাড়া পেনশন সংক্রান্ত সব ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কর্মকর্তাদের বদলিতে এলপিসি ইলেকট্রনিকালি পূরণ করতে হবে এবং অনলাইনে প্রেরণ নিশ্চিত করতে হবে। কোনো সরকারি কর্মচারী পিআরএলে যাওয়ার তিন বছর আগের কোনো কাগজপত্র, রেকর্ড বা না-দাবি প্রত্যয়নপত্র তার কাছে চাওয়া যাবে না।

এমইউএইচ/এফআর/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]