মহামারির মধ্যে আয় বেড়েছে ১৩ বীমার

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১:৪০ এএম, ২০ অক্টোবর ২০২০

মহামারি করোনাভাইরাসের প্রকোপ ঠেকাতে চলতি বছরের ২৬ মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত টানা ৬৬ দিন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। জনজীবন ও অর্থনীতিতে নেমে আসে স্থবিরতা। ফলে স্বাভাবিকভাবেই এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে প্রায় সব ধরনের ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

অবশ্য মহামারিকে বৃদ্ধাঙুলি দেখিয়ে এই সময়ে বড় অঙ্কের আয় করেছে ১৩টি জীবন বীমা কোম্পানি। এর মধ্যে চারটি কোম্পানির আয় বেড়েছে ১০০ শতাংশের ওপরে। এগুলোর মধ্যে তিনটি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি।

এদিকে চলতি বছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে আয় বাড়া জীবন বীমা কোম্পানিগুলোর মধ্যে পাঁচটি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত। বাকি আটটি কোম্পানি অতালিকাভুক্ত। অপরদিকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সাতটি কোম্পানিসহ মোট ১৯টি জীবন বীমা কোম্পানির আয় কমেছে। বীমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিক জানুয়ারি-মার্চের তুলনায় এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে সব থেকে বেশি আয় বেড়েছে ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের। এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে কোম্পানিটির প্রিমিয়াম আয় বেড়েছে ১০২ কোটি ১৮ লাখ টাকা অর্থাৎ ১৭৮ শতাংশ। এপ্রিল-জুন এই তিন মাসে কোম্পানিটি ১৫৯ কোটি ৫৮ লাখ টাকা প্রিমিয়াম সংগ্রহ করেছে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে (জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত) কোম্পানিটি প্রিমিয়াম আয় করেছিল ৫৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

প্রথমস্থানের মতো পরের দুটি স্থানেও রয়েছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি। এর মধ্যে ৩৬ কোটি ৪৭ লাখ টাকা বা ১২৮ শতাংশ প্রিমিয়াম আয় বাড়ার মাধ্যমে দ্বিতীয়স্থানে রয়েছে মেঘনা লাইফ। কোম্পানিটি চলতি বছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে ৬৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকা প্রিমিয়াম আয় করেছে। বছরের প্রথম তিন মাসে (জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে) প্রিমিয়াম আয় হয় ২৮ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।

তৃতীয়স্থানে থাকা সানলাইফ ইন্স্যুরেন্সের আয় বেড়েছে ১০ কোটি টাকা অর্থাৎ ১২০ শতাংশ। জানুয়ারি-মার্চ সময়ে কোম্পানিটির প্রিমিয়াম আয় ছিল আট কোটি ৩৩ লাখ টাকা, যা এপ্রিল-জুনে এসে বেড়ে হয়েছে ১৮ কোটি ৩৩ লাখ টাকা।

১০০ শতাংশের ওপরে আয় বাড়া অন্য কোম্পানি গোল্ডেন লাইফ ইন্স্যুরেন্স। অনিয়মে জড়িত থাকায় পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে ব্যর্থ হওয়া এই কোম্পানিটি এপ্রিল-জুন সময়ে দুই কোটি ৪৫ লাখ টাকা প্রিমিয়াম আয় করেছে। বছরের প্রথম তিন মাসে কোম্পানিটির আয় ছিল এক কোটি ১৭ লাখ টাকা। এ হিসাবে মহামারির মধ্যে কোম্পানিটির আয় বেড়েছে ১০৯ শতাংশ অর্থাৎ এক কোটি ২৮ লাখ টাকা।

চলতি বছরের এপ্রিল-জুন সময়ে আয় বাড়া অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে- প্রাইম ইসলামী লাইফের ৮৮ শতাংশ, ট্রাস্ট ইসলামী লাইফের ৩৯ শতাংশ, আলফা ইসলামী লাইফের ৩০ শতাংশ, ডেল্টা লাইফের ২৯ শতাংশ, ডায়মন্ড লাইফের ২৪ শতাংশ, জেনিথ ইসলামী লাইফের ১৯ শতাংশ, বেস্ট লাইফের ১৯ শতাংশ, সানফ্লাওয়ার লাইফের ১৫ শতাংশ এবং স্বদেশ লাইফের ১০ শতাংশ আয় বেড়েছে। এর মধ্যে প্রাইম ইসলামী লাইফ এবং ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি।

অপরদিকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত- পদ্মা ইসলামী লাইফ, সন্ধানী লাইফ, ফারইস্ট ইসলামী লাইফ, রূপালী লাইফ, প্রগতি লাইফ, প্রগ্রেসিভ লাইফ এবং পপুলার লাইফের আয় কমেছে।

আয় কমা অতালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে- জীবন বীমা করপোরেশন, মেটলাইফ, এলআইসি, মার্কেন্টাইল ইসলামী লাইফ, চার্টার্ড লাইফ, হোমল্যান্ড লাইফ, প্রোটেক্টিভ ইসলামী লাইফ, সোনালী লাইফ, এনআরবি গ্লোবাল লাইফ, গার্ডিয়ান লাইফ, যমুনা লাইফ এবং বায়রা লাইফ।

এমএএস/বিএ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]