কৃষিজ পণ্যে ২ শতাংশ উৎসে কর অব্যাহতির দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:৪১ পিএম, ১৮ এপ্রিল ২০২১

বিভিন্ন প্রকার কৃষিজ পণ্য ক্রয়ের বিপরীতে যে ২ শতাংশ হারে উৎসে কর আদায় করা হচ্ছে, তা আগামী বাজেটে তুলে নেয়ার দাবি জানিয়েছেন প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী। পাশাপাশি বাঙালির স্বাভাবিক খাবার বলে পরিচিত মুড়ির ওপর থেকে ১৫ শতাংশ ভ্যাট মওকুফেরও দাবি তুলেছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠীটির এ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)।

রোববার (১৮ এপ্রিল) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এফবিসিসিআই) যৌথ উদ্যোগে ভার্চুয়ালি আয়োজিত ‘জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পরামর্শক কমিটি’র ৪১তম সভায় তিনি এ দাবি করেন।

আহসান খান চৌধুরী বলেন, বিভিন্ন ধরনের কৃষিজ পণ্য, ধান, ডাল, বাদাম, আলু ইত্যাদি উপকরণ ক্রয়ের বিপরীতে ২ শতাংশ হারে উৎসে কর কর্তন করা হচ্ছে। এটা অনেক বেশি। আগামী ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে উৎসস্থলে কর কর্তন অব্যাহতি দেয়ার দাবি করছি।

‘মুড়ির ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট দিতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। বাঙালির স্বাভাবিক খাদ্য মুড়িতে এতো পরিমাণ ভ্যাটের কথা শুনতেও খারাপ লাগে। কোভিড-১৯ পরিস্থিতি এবং দেশের কথা বিবেচনায় নিয়ে আগামী বাজেটে মুড়ির ১৫ শতাংশ ভ্যাট কনসিডার-মওকুফ করার অনুরোধ জানাই’—বলেন প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান।

আহসান খান চৌধুরী বলেন, ‘র’ সুগার আমদানিতে সর্বোচ্চ ব্যয় করতে হয়। প্রতি কেজিতে ২৩ থেকে ২৭ টাকা পর্যন্ত আমদানি ব্যয় লাগে। তাছাড়া মিনিমাম ইনকাম ট্যাক্স ৬ শতাংশ টার্নওভারের। এটাকে যদি আগামী বাজেটে পুনরায় কনসিডার করা যায়, কেননা এটি খুবই হাই (উচ্চ)।

এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রাহমাতুল মুনিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এফবিসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট শেখ ফজলে ফাহিমের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে দেশের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, অ্যাসোসিয়েশন ও চেম্বারের সভাপতিরা বক্তব্য রাখেন।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, আমি মনে করি, ব্যবসায়ীদের সুযোগ-সুবিধা আরও বাড়ানো দরকার। ব্যবসায়ীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো মানে দেশকে শক্তিশালী করা। এটা দেশের স্বার্থেই করতে হবে, ব্যবসায়ীদের সুযোগ দিলে একদিকে যেমন রাজস্ব আয় বাড়বে অন্যদিকে কর্মসংস্থান বাড়বে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, জাতীয় বাজেটে ব্যবসায়ীদের দাবি-দাওয়া বা চাওয়া যুক্তিসঙ্গত; অযৌক্তিক কোনো চাওয়া থাকে না। তারা দেশের নিবিড় অর্থনীতির চালিকাশক্তি। ব্যবসায়ীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়ে দিলে দেশ উন্নত হয়। জাতির পিতার রেখে যাওয়া এই দেশকে আমাদেরকে এগিয়ে নিতে হবে, দেশকে আরও বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

তিনি বলেন, এদেশকে আমাদের আরও দেয়ার আছে। এ দেশের জন্য আপনারা যদি কোনো কিছু করেন, আপনারা ঠকবেন না, আপনারা আরও লাভবান হবেন। বঙ্গবন্ধুর রেখে যাওয়া এই দেশকে আরও এগিয়ে নিতে হবে। ২০৩০ সালের মধ্যেই আমরা ভালো অবস্থানে যেতে চাই।

ইএআর/এআরএ/এইচএ/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]