পিপলস লিজিং : টাকা দিয়েও অনাপত্তি পাচ্ছেন না গ্রাহক

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:২৫ পিএম, ০৯ জুন ২০২১

ঋণগ্রহীতাদের টাকা ফেরত নিয়ে অনাপত্তি দিতে গড়িমসি করছে পিপলস লিজিং ও বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে বিপাকে পড়েছেন অনেক গ্রাহক। তারা অনাপত্তির জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ঘুরছেন। তবে কোনো কাজ হচ্ছে না। ফলে ব্যবসায়িক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে অনেক প্রতিষ্ঠান।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, এখন পর্যন্ত পিপলস লিজিংয়েরর হিসাবে প্রায় ৩৪ কোটি টাকা জমা করেছেন গ্রাহকরা। তবে টাকা জমা দিলেও আদালতের নির্দেশনা না পাওয়ায় এখন পর্যন্ত টাকাগুলো আমানতকারীদের ফিরিয়ে দিতে পারছেন না তারা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, আদালতের নির্দেশনা ছাড়া ঋণ পরিশোধকৃত গ্রাহকদের অনাপত্তিপত্র দিতে পারবে না। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনাগ্রহে এতদিন পর্যন্ত কাজগুলো পড়ে আছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে পিপলস লিজিংকে টাকা পরিশোধ করেছে আনিসুজ্জামান চৌধুরী, নুরুল ইসলাম চৌধুরী, কালার লিংক, আব্দুস সামাদ, ফিনিক্স হ্যাচারি ও ডিসেন্ট হোল্ডিংসহ বেশকিছু প্রতিষ্ঠান। কিন্তু টাকা পরিশোধ করলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের অনাপত্তি পাচ্ছে না এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান।

টাকা পরিশোধ করা প্রতিষ্ঠান ডিসেন্ট হোল্ডিংয়ের কর্মকর্তারা জানান, গত বছরের ডিসেম্বরে টাকা পরিশোধ করেছেন। পিপলস লিজিং তাদেরকে অনাপত্তি দিলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের অনাপত্তি পাচ্ছেন না। অনাপত্তির কারণে ঋণের বিপরীতে রাখা জামানতের জমি (মর্টগেজ) অন্য কোনো কাজে লাগাতে পারছেন না তারা। আবার ব্যবসায়িক প্রয়োজনে অন্য ব্যাংকে ঋণের আবেদন করলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনাপত্তির কারণে তা মঞ্জুর হচ্ছে না।

এর আগে ২০১৯ সালের ২৬ জুন পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসকে অবসায়ন করা হয়। একই বছরের পরের মাসের ১৪ তারিখ আদালতের আদেশে প্রতিষ্ঠানটিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের উপ-মহাব্যবস্থাপক আসাদুজ্জামান খানকে অবসায়ক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। এরপর থেকে প্রতিষ্ঠানটির সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এ বিষয়ে আসাদুজ্জামান খান জানান, ‘আমাদের এখানে বেশ কয়েকজন গ্রাহকের আবেদন জমা পড়েছে। এগুলো যাচাই-বাছাই করে অনাপত্তির জন্য হাইকোর্টে পাঠাবো। আদালতের অনুমতি ছাড়া আমরা অনাপত্তি দিতে পারব না।’

১৯৯৭ সালের ২৪ নভেম্বর পিপলস লিজিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে অনুমোদন পায়। প্রতিষ্ঠানটি ২০০৫ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। ২০১৪ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি লোকসানে থাকায় ২০১৯ সালে ২১ মে বাংলাদেশ ব্যাংক অর্থ মন্ত্রণালয়ে পিপলসের অবসায়নের আবেদন করে। গত ২৬ জুন অর্থ মন্ত্রণালয় সে আবেদন অনুমোদন করলে ১০ জুলাই পিপলসের অবসানের বিষয়টি অনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেয়া হয়।

একই বছরের ১১ জুলাই পিপলস লিজিং থেকে https://www.jagonews24.com/economy/news/645671 (টাকা তোলার বিষয়ে বিধিনিষেধ আরোপ) করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ১৪ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিজিএম মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান খানকে প্রতিষ্ঠানটির অবসায়ক নিয়োগ দেয়া হয়।

প্রতিষ্ঠানটিতে ছয় হাজার ব্যক্তি শ্রেণির আমানতকারী এবং বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকারীর এক হাজার ৯৯৬ কোটি টাকা আটকে পড়েছে। এই টাকার পুরোটাই পিপলসের ঋণ হিসেবে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে পাওনা রয়েছে। এর বড় অংশটি প্রতিষ্ঠানটির পরিচালকরা নামে-বেনামে ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ করেছেন। আর এর পেছনে ছিলেন এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার (পি কে) হালদার।

পি কে হালদার নানা কৌশলে নামে-বেনামে অসংখ্য কোম্পানি খুলে শেয়ারবাজার থেকে বিপুল পরিমাণ শেয়ার কেনেন। ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে ও পরে নিজের আত্মীয়, বন্ধু ও সাবেক সহকর্মীসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে পর্ষদে বসিয়ে চারটি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নেন। এর একটি হলো পিপলস লিজিং।

প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা পাচার করার অভিযোগ নিয়ে বিদেশে পলাতক পি কে হালদারকে গ্রেফতারে ইতোমধ্যে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি করা হয়েছে। তার মা লীলাবতী হালদার এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরীসহ ২৫ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন হাইকোর্ট।

ইএআর/এমএসএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।