এক সপ্তাহে বাজার মূলধন কমলো ২১ হাজার কোটি টাকা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:২২ পিএম, ২০ মে ২০২২

গেলো সপ্তাহে লেনদেন হওয়া চার কার্যদিবসের প্রতিদিনই দরপতনের মধ্য দিয়ে পার করেছে দেশের শেয়ারবাজার। এতে এক সপ্তাহে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার মূলধন ২১ হাজার কোটি টাকা কমে গেছে। বড় অঙ্কের বাজার মূলধন কমার পাশাপাশি সবকটি মূল্যসূচকের বড় পতন হয়েছে। সেই সঙ্গে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ।

গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসের লেনদেন শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৯ হাজার ৮৭২ কোটি টাকা। যা তার আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল ৫ লাখ ৩১ হাজার ১২ কোটি টাকা। অর্থাৎ গেলো সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে ২১ হাজার ১৪০ কোটি টাকা। বাজার মূলধন কমার অর্থ ডিএসইতে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার ও ইউনিটের দাম সম্মিলিতভাবে ওই পরিমাণ কমে গেছে।

বাজার মূলধন কমার পাশাপাশি গেলো সপ্তাহে ডিএসইতে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম কমার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া মাত্র ২০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৩৬০টির। আর ৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

এতে গেলো সপ্তাহে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স কমেছে ৩০৭ দশমিক ২২ পয়েন্ট বা ৪ দশমিক ৬৮ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচকটি কমে ৯০ দশমিক ২০ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৩৬ শতাংশ। তার আগের সপ্তাহে কমে ৬ দশমিক ৭০ পয়েন্ট বা দশমিক ১০ শতাংশ। অর্থাৎ তিন সপ্তাহের টানা পতনে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক হারিয়েছে ৪০৩ পয়েন্ট।

বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচকেরও টানা তিন সপ্তাহ পতন হয়েছে। গত সপ্তাহজুড়ে এই সূচকটি কমেছে ৯০ দশমিক ২৪ পয়েন্ট বা ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচকটি কমে ৫৩ দশমিক ৮৫ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ১৯ শতাংশ। তার আগের সপ্তাহে কমে ১৭ দশমিক ৩১ পয়েন্ট বা দশমিক ৭০ শতাংশ। অর্থাৎ তিন সপ্তাহের টানা পতনে ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত সূচকটি কমেছে ১৬১ পয়েন্ট।

প্রধান মূল্যসূচক এবং ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত বাছাই করা সূচকের পাশাপাশি ইসলামি শরিয়াহ ভিত্তিতে পরিচালিত কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই শরিয়াহ্ সূচকও টানা তিন সপ্তাহ কমেছে। গেলো সপ্তাহে এই সূচকটি কমেছে ৪৯ দশমিক ১৩ পয়েন্ট বা ৩ দশমিক ৪৩ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচকটি কমে ১৪ দশমিক ৮১ পয়েন্ট বা ১ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ। তার আগের সপ্তাহে কমে ১৭ দশমিক ৬৪ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ২০ শতাংশ। অর্থাৎ তিন সপ্তাহের পতনে এই সূচকটি কমেছে ৮১ পয়েন্ট।

গত সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয়েছে ৮০৮ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয় ১ হাজার ৭৯ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন কমেছে ২৭০ কোটি ৬৫ লাখ টাকা বা ২৩ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ।

আর গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৩ হাজার ২৩৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে লেনদেন হয় ৫ হাজার ৩৯৭ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। সে হিসাবে মোট লেনদেন কমেছে ২ হাজার ১৬২ কোটি ২০ লাখ টাকা বা ৪০ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ। মোট লেনদেন বেশি হারে কমার কারণ গত সপ্তাহে এক কার্যদিবস কম লেনদেন হয়।

গত সপ্তাহে ডিএসইতে টাকার অঙ্কে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে বেক্সিমকোর শেয়ার। সপ্তাহজুড়ে কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২০৩ কোটি ৫৩ লাখ ৪৩ হাজার টাকা, যা মোট লেনদেনের ৬ দশমিক ২৯ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা শাহিনপুকুর সিরামিকের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৫৯ কোটি ৪৯ লাখ ৩১ হাজার টাকা। ১৩২ কোটি ৭৭ লাখ ১৭ হাজার টাকা লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে জেএমআই হসপিটাল রিকুইজিট ম্যানুফ্যাকচারিং।

এছাড়া লেনদেনের শীর্ষ দশ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- ইসলামী ব্যাংক, রংপুর ডেইরী অ্যান্ড ফুড প্রডাক্টস, স্যালভো কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ, ওরিয়ন ফার্মা, এসিআই ফরমুলেশন, ফু-ওয়াং সিরামিক ও লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ।

এমএএস/আরএডি/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]