খোলা তেল বিক্রি বন্ধে আরও সময় চায় কোম্পানিগুলো

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:২৭ পিএম, ০২ আগস্ট ২০২৩
ফাইল ছবি

খোলা ভোজ্যতেল বিক্রি বন্ধে আরও ছয় মাস সময় চেয়েছে তেল বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। তাদের সংগঠন বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিবের কাছে সময়ের আবেদন করে চিঠি দিয়েছে। যদিও এর আগে আরেক দফায় চিঠি দিয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সময় নিয়েছিল তেল বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী গত বছরের (২০২২) ৩১ জুলাই থেকে বাজারে খোলা সয়াবিন তেল এবং ৩১ ডিসেম্বর খোলা পাম অয়েল বিক্রি বন্ধ হওয়ার কথা। তবে ওই সময় অবকাঠামো স্থাপনে পিছিয়ে থাকা এবং বাজার অস্থিতিশীল হওয়ার শঙ্কা তুলে খোলা সয়াবিন বিক্রি বন্ধ করতে আরও ১৯ মাস সময় চায় বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন। ওই সময় খোলা তেল বিক্রি বন্ধে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় চেয়ে শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয় ভোজ্যতেল রিফাইনারিদের সংগঠন।

আরও পড়ুন: ভোজ্যতেলের আমদানি কমাতে সরিষার উৎপাদন বাড়ানোর সুপারিশ

এদিকে মান নিশ্চিত করতে মঙ্গলবার থেকে বাজারে খোলা ভোজ্যতেল বিক্রি বন্ধের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিলো। এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর মাঠে নামে। বিএসটিআই ভোজ্যতেল আমদানিকারক ও বাজারজাতকারী মিল মালিকদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছে। পাইকারি বাজারের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। তবে গতকালও খুচরা বাজারে বিক্রি হয়েছে খোলা তেল।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলেন, সারাদেশে দপ্তরের কর্মকর্তাদের নিয়ে ভার্চুয়ালি বৈঠক হয়। ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের সচেতন করতে অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে কথা হচ্ছে সবার সঙ্গে। যতো দ্রুত সম্ভব এটি বন্ধ করা হবে।

আরও পড়ুন: ভোজ্যতেলে ভিটামিন ‘এ’ নিশ্চিত হয়নি এক দশকেও

যদিও অল্প তেল কেনার বিকল্প ব্যবস্থা না করে খোলা ভোজ্যতেল বিক্রি বন্ধের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনশাস কনজ্যুমারস সোসাইটি। পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত হবে আত্মঘাতী। এতে ভোক্তাপর্যায়ে তেলের দাম বাড়বে।

মিল মালিকেরা বলছেন, ভোজ্যতেল বোতলজাত করতে যন্ত্রপাতি আমদানি ও স্থাপনের কাজ চলমান। পরিশোধিত তেলের ৬০-৮০ শতাংশ বোতলজাত করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। ডলার-সংকট ও ঋণপত্র জটিলতায় নির্ধারিত সময়ে শতভাগ বোতলজাত করা সম্ভব হয়নি। এজন্য সময় প্রয়োজন।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ.এইচ.এম.সফিকুজ্জমান বলেন, খোলা সয়াবিন তেল বিক্রির বিষয়ে অধিদপ্তর তদারকি করছে। ভোজ্যতেল রিফাইনারিগুলোকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে। এজন্য আমরা যৌথ উদ্যোগে রিফাইনারিসহ অংশীজনদের নিয়ে সচেতনতামূলক সভা আয়োজন করবো।

আরও পড়ুন: ভোজ্যতেলের দাম কমানোর দাবি ক্যাবের

এর আগে সম্প্রতি ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের উদ্যোগে খোলা ভোজ্যতেল বিপণন এবং বিক্রয় পর্যায়ক্রমে বন্ধ করা সংক্রান্ত অ্যাডভোকেসি কার্যক্রম সভায় জানানো হয়, খোলা ভোজ্যতেলে নির্ধারিত মান অনুযায়ী ভিটামিন ‘এ’ ও ভিটামিন ‘ডি’ পাওয়া যায় না। এছাড়া খোলা তেলের ক্ষেত্রে ফুড গ্রেড কন্টেইনার না হওয়ায় তেলের পুষ্টিগুণ নষ্ট হয় এবং রিফাইনিং প্রসেসে ব্লিচিং করে তেলের রঙ পরিবর্তনের মাধ্যমেও এর গুণাগুণ নষ্ট হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী মনিটরিংয়ের মাধ্যমে এসব সমস্যা সমাধানে সহযোগিতা চায় ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন।

শিল্প মন্ত্রণালয় বলছে, খোলা ভোজ্যতেল সঠিকভাবে পরিশোধন ছাড়াই বাজারজাত করা হয়। এছাড়া বাজারে যেসব ড্রামে খোলা তেল বিক্রি হচ্ছে, সেগুলো নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর।

এনএইচ/জেডএইচ/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।