জমজমাট আয়োজনে শেষ হলো বাপা ফুডপ্রো ইন্টারন্যাশনাল এক্সপো

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:৪৪ পিএম, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৩

শেষ হলো নবম বাপা ফুডপ্রো ইন্টারন্যাশনাল এক্সপো-২০২৩। শনিবার ছিল মেলার শেষ দিন। বৃহস্পতিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) তিনদিনব্যাপী এ মেলার উদ্বোধন করেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন।

বাংলাদেশ এগ্রো প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশন (বাপা) ও রেইনবো এক্সিবিশন অ্যান্ড ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সার্ভিসেস (রিমস) এ মেলার আয়োজন করে। তিন দিনব্যাপী এ মেলায় প্রদর্শনী ছাড়াও কারিগরি সেশনে এ খাতের সঙ্গ যুক্ত দেশ-বিদেশের বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দেশীয় প্রতিষ্ঠানের বিজনেস ম্যাচিং সেশনও হয়েছে মেলায়।

মেলায় ভারত, চীন, জার্মানি, ইতালি, যুক্তরাষ্ট্র, সুইজারল্যান্ড, স্লোভেনিয়াসহ প্রায় ২০টি দেশের শতাধিক প্রতিষ্ঠান নিজেদের পণ্য এবং সেবা প্রদর্শন করে। এ মেলার সঙ্গে ১১তম এগ্রো বাংলাদেশ এক্সপো ২০২৩ এবং ইনডিয়েন্ট এক্সপো ২০২৩ নামে আরও দুটি মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনটি মেলারই শনিবার ছিল শেষ দিন।

জমজমাট আয়োজনে শেষ হলো বাপা ফুডপ্রো ইন্টারন্যাশনাল এক্সপো

বাপা ফুডপ্রো ইন্টারন্যাশনাল এক্সপো বিষয়ে শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বাপার সাধারণ সম্পাদক মো. ইকতাদুল হক জাগো নিউজকে বলেন, বাপা শুরু থেকেই ফুড প্রসেসিং খাতের উন্নয়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। বাপার মূল লক্ষ্যই হলো— এ খাতের ক্রমবর্ধমান বিকাশ নিশ্চিত করা। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাওয়া। এ মেলা দেশি-বিদেশি খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ খাতের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন তৈরি করেছে।

আরও পড়ুন>> প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের সব আয়োজন এক আঙিনায়

তিনি বলেন, বাংলাদেশ প্রক্রিয়াজাত খাদ্য বিশ্বের ১৪০টিরও বেশি দেশে রপ্তানি করছে। বিগত অর্থবছরে খাদ্য রপ্তানির মাধ্যমে বাপার সদস্যরা ২০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করেছে। প্রায় অধিকাংশ সদস্য এ মেলায় অংশ নিয়েছে। তারা একে অন্যের মধ্যে নিজেদের প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন শেয়ার করেছেন উদ্যোক্তারা।

জমজমাট আয়োজনে শেষ হলো বাপা ফুডপ্রো ইন্টারন্যাশনাল এক্সপো

শেষ দিনে মেলায় কথা হয় বেশ কিছু তরুণ উদ্যোক্তার সঙ্গে। ফরহাদুল হক নামের একজন উদ্যোক্তা দর্শনার্থী বলেন, প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের জন্য প্রয়োজনীয় পণ্য, যন্ত্র, প্রযুক্তি ও পরিষেবার পাশাপাশি হাজারো অভ্যন্তরীণ এবং রপ্তানি কৃষিপণ্যের পসরা বসেছিল এক অঙিনায়। ফলে ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য অভিজ্ঞতা অর্জনের একটি বড় জায়গা ছিল এ মেলা।

মেলায় এবার কৃষিকাজে ব্যবহৃত আকর্ষণীয় যন্ত্র ছিল এসিআই’র ডিজেআই অ্যাগরাস। ড্রোনের মতো উপর থেকে জমিতে সার ও কীটনাশক দেওয়ার কাজে এটি ব্যবহার করা হয়। কৃষি যন্ত্রটি নিয়ে সাড়া কেমন ছিল জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির টিএসএ হুজাইফা ইসলাম বলেন, যন্ত্রটি মেলায় আকর্ষণের কেন্দ্রে ছিল। এ যন্ত্র দিয়ে ১৫ মিনিটে এক একর জমিতে কীটনাশক ও সার দেওয়া সম্ভব। মাত্র দুটি যন্ত্র মেলায় প্রদর্শনের জন্য আনা হয়ে, যার অভূতপূর্ব সাড়া পাওয়া গেছে।

মেলায় প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যের স্টলগুলোতে ক্রেতা আকর্ষণের বড় জায়গা ছিল আইসিসিবি’র এক নম্বর প্যাভিলিয়নে প্রাণের স্টলে। দেশি প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের সবচেয়ে বড় পসরার স্টল ছিল এটি। এখানে কোমল পানীয়, কেক, বিস্কুট, গুঁড়া মশলা ও কালিনারি পণ্য, নুডলস, ডেইরি পণ্য, স্ন্যাকস (নাস্তা), ফ্রোজেন ফুডসসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য দৃষ্টি কেড়েছে দর্শনার্থীদের।

জমজমাট আয়োজনে শেষ হলো বাপা ফুডপ্রো ইন্টারন্যাশনাল এক্সপো

এক্সপো বিষয়ে প্রাণ বেভারেজের ম্যানেজার খন্দকার আব্দুল ওয়াদুদ (আকতার)। তিনি বলেন, শুক্রবার ও শনিবার সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় মেলায় ক্রেতা-দর্শনার্থীর উপস্থিতি খুব ভালো ছিল। তারা আমাদের পণ্যে বিশেষ আগ্রহ দেখিয়েছেন। আমাদের জন্য এটি বড় অনুপ্রেরণা।

তিনি বলেন, আমাদের অ্যালোভেরা জুস এবং বাসিল সিড ড্রিংকস অনেক আগে থেকেই রপ্তানি হচ্ছে, স্থানীয় বাজারে আনার জন্য এগুলো মেলায় প্রদর্শন করেছি। অনেক ভালো সাড়া পেয়েছি। এছাড়া প্রাণের প্যাভিলিয়নে প্রায় ২০০ ধরনের পণ্য প্রদর্শন করা হয়েছে এবার, যা এ মেলায় সর্বোচ্চ।

আরও পড়ুন>> পর্দা উঠলো বাপা ফুডপ্রো ইন্টারন্যাশনাল এক্সপোর

কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াকরণের জন্য চীনের প্রতিষ্ঠান ইয়াংজিয়াং ওয়েনভার বেশকিছু যন্ত্র নিয়ে অংশ নিয়েছিল এই মেলায়। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক ভেরা জানান, বাংলাদেশ তাদের জন্য খুব বড় বাজার। তার প্রতিষ্ঠান এ মেলায় বিস্কুট তৈরির মেশিন বিক্রি করতে এসেছে, যা আগেও দেশের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করেছেন তারা। মেলায় খুব ভালো সাড়া মিলেছে, তারা খুশি।

জমজমাট আয়োজনে শেষ হলো বাপা ফুডপ্রো ইন্টারন্যাশনাল এক্সপো

মেলার শুরুর দিনে ভেরা জানিয়েছিলেন, তার প্রদর্শিত এক মেশিনে বিস্কুট তৈরি ও মোড়কজাত করা সম্ভব। যার দাম চার লাখ মার্কিন ডলার। এটি ১০০ মিটার লম্বা। যার একটি ডামি মেশিনও স্টলে ছিল। মেলায় কোনো প্রতিষ্ঠান যন্ত্রটি কেনার আগ্রহ দেখিয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, চারটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চূড়ান্ত কথা চলছে। এছাড়া বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান তাদের চীনের ফ্যাক্টরি ভিজিটের আগ্রহ দেখিয়েছে।

১৯৯৮ সালে মাত্র ১৩ জন সদস্য নিয়ে বাপা যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে এর সদস্য সংখ্যা ৪৭৯। তারা বাংলাদেশে প্রক্রিয়াজাত খাদ্য বিশ্বের ১৪০টিরও বেশি দেশে রপ্তানি করছে। বাপার প্রায় অধিকাংশ সদস্য এ মেলায় অংশ নেয়।

মেলার আয়োজক সংস্থা রিমস’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক চানমোহন সাহা বলেন, মেলা নিয়ে আমাদের অনেক প্রত্যাশা। এবারের আয়োজন সার্থক হয়েছে। এবার শুরু থেকেই ভালো সাড়া পেয়েছি। আশা করছি প্রতি বছর বাপার এ আয়োজনের সঙ্গে ক্রেতা-দর্শনার্থীরা থাকবেন।

এনএইচ/ইএ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।