অভিভাবকহীন বদরুন্নেসা মহিলা কলেজ
অভিভাবকহীন বদরুন্নেসা মহিলা কলেজ। অধ্যক্ষ এবং উপাধাক্ষ্য পদ প্রায় এক মাস আগে একসঙ্গে শূণ্য হওয়ায় রাজধানীর এই ঐতিহ্যবাহী কলেজটি অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে। দ্রুত এসব পদে নিয়োগ দেয়া না হলে সরকারি এই মহিলা কলেজটি অচল হয়ে পড়বে বলে মন্তব্য সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের।
জানা গেছে, রাজধানীর সুনামধারী বদরুন্নেসা মহিলা কলেজে ২০টি বিভাগে প্রায় আট হাজার ছাত্রী রয়েছে। ২০ ডীনসহ রয়েছেন ১২৭ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা। কলেজটিতে একাদশ শ্রেণি থেকে মাস্টার্স কোর্স পর্যন্ত চালু রয়েছে। গত ৪ জানুয়ারি বদরুন্নেসা মহিলা কলেজ থেকে এক সঙ্গে অধ্যক্ষ অধ্যাপক মাহাবুবা রহমান ও উপাধাক্ষ্য অধ্যাপক মাকসুদা আক্তার চলে যান। অধ্যক্ষ অবসর গ্রহণ করেন, আর উপাধাক্ষ্যকে কবি নজরুল ইসলাম কলেজে অধ্যক্ষ করে বদলি করা হয়েছে। ফলে কলেজ প্রশাসন অচল হয়ে পড়েছে। যদিও সাবেক অধ্যক্ষ মাহাবুবা রহমান মৌখিকভাবে অর্থনীতি বিভাগের ডীন দিপিকা দেওয়ানকে ভারপ্রাপ্ত প্রধাণ শিক্ষিকার দায়িত্ব দিয়ে গেছেন। নিয়ম বর্হিভূত হলেও তাকে দিয়েই কোনমতে কলেজটি চলছে।
এ বিষয়ে দিপিকা দেওয়ানের কাছে জানতে চাইলে তিনি জাগো নিউজকে বলেন, প্রথমবারের মত বদরুন্নেসা মহিলা কলেজ থেকে এক সঙ্গে অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ চলে যাওয়ায় আমরা চরম বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ে গেছি। কলেজের প্রশাসনিক কাঠামো ঠিক রাখতে সাবেক অধ্যক্ষ তাকে মৌখিকভাবে ভারপ্রাপ্ত প্রধানের দায়িত্ব দিয়ে গেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, তিনি নামে মাত্র থাকলেও কলেজ প্রশাসনিক সকল কাজ স্থবির হয়ে পড়েছে। অধ্যক্ষ ছাড়া আর্থিক লেনদেন বন্ধ হয়ে গেছে, অথচ দৈনদিন ব্যয় করতে হচ্ছে। পরিস্থিতি এমন যে ব্যক্তিগত অর্থ দিয়ে কলেজ পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আগে কখনই প্রতিষ্ঠানের প্রধান দুইজন একসঙ্গে অনুপস্থিত ছিলেন না। তাই একজন না থাকলেও অপরজন চালিয়ে নিতে পারতেন। দুইজন এক সঙ্গে চলে যাওয়ায় অসহায় হয়ে পড়েছেন অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাংস্কৃতিক দিবস ও বিশেষ দিনগুলোতে নানা অনুষ্ঠান উদযাপন করা হয়। প্রশাসন শূণ্য হওয়ায় কোনো অনুষ্ঠান আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছে না। সামনে স্বরস্বতী পূজা কিভাবে পালন করবেন সে নিয়েও তারা দুশ্চিতায় রয়েছেন।
অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ পদ শূণ্য থাকায় শুধু শিক্ষিকারাই নয় শিক্ষার্থীদের মাঝেও অসন্তোস বিরাজ করছে। তাই দ্রুত পদ পদ দুটিপূরণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রণালয়ের কলেজ শাখার অতিরিক্ত সচিব মোল্লা জালাল বলেন, হঠাৎ করে কলেজের প্রধান দুই কর্ণধার চলে যাওয়ায় কিছুটা সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। আমরা নতুনভাবে নিয়োগ দিতে কাজ শুরু করেছি। চলতি মাসের মধ্যেই বদরুন্নেসা কলেজে অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগ দেয়া হবে।
এমএইচএম/এমএমজেড/পিআর