প্রশ্নব্যাংক তৈরির মাধ্যমে মাধ্যমিকে নতুন ধারণা সৃষ্টির উদ্যোগ
মাধ্যমিক শিক্ষাব্যবস্থায় দেশে নতুন ধারণা সৃষ্টি করতে যাচ্ছে যশোর শিক্ষা বোর্ড। ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বার্ষিক, অর্ধবার্ষিক, প্রাক ও নির্বাচনীর পরীক্ষার প্রশ্ন প্রণয়ণে শিক্ষা বোর্ড তৈরি করতে যাচ্ছে প্রশ্নব্যাংক।
এরফলে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ, মানসম্মত সৃজনশীল প্রশ্ন প্রণয়ন ও পরিশোধনে শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষাকে তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
প্রশ্ন ব্যাংকের ধারণাপত্রে বলা হয়েছে, বর্তমানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক সকলেই পরীক্ষাকেই শিক্ষার মূল লক্ষ্য মনে করছেন। এ জন্য শিক্ষার্থীরা পাঠ্যবই বাদ দিয়ে গাইড বা নোট বই মুখস্ত করে ভালো ফলাফলের চেষ্টা চালাচ্ছে। যে কারণে শিক্ষার্থীরা সৃজনশীল হওয়ার পরিবর্তে মুখস্ত নির্ভর হয়ে পড়ছে। শিক্ষকরাও শিক্ষার্থীদের মেধা যাচাইয়ের জন্য নিজেরা প্রশ্ন না করে গাইড বই, শিক্ষক সমিতি বা বিভিন্ন প্রকাশনীর কাছ থেকে প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করে পরীক্ষা নিচ্ছেন। এ সমস্যা সমাধান কল্পে শিক্ষা সচিব নজরুল ইসলাম খানের পরামর্শে প্রথম পর্যায়ে যশোর শিক্ষা বোর্ডে তৈরি হচ্ছে প্রশ্ন ব্যাংক।
শিক্ষা বোর্ডের অধীন সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিষয় ভিত্তিক শিক্ষকগণ বাধ্যতামূলকভাবে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের সিলেবাস অনুযায়ী প্রশ্নপত্র তৈরি করবেন। প্রশ্নপত্র হবে নৈব্যাত্তিক, সৃজনশীল এবং রচনামূলক। এ প্রশ্নপত্র শিক্ষকগণ তাদের নিজেদের আইডি ব্যবহার করে শিক্ষা বোর্ডের সাইডে আপলোড করবেন। প্রত্যেক প্রশ্নের অভিন্ন আইডি স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হবে। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরাও প্রশ্নপত্র তৈরি করে আপলোডের সুযোগ পাবেন। বিষয় ভিত্তিক শিক্ষকগণের আপলোডকৃত সকল প্রশ্ন যাচাই বাছাইয়ের জন্য সম্পাদনা প্যানেল নিবাচন করবে বোর্ড কর্তৃপক্ষ। এ প্যানেল নির্বাচিত প্রশ্নপত্র শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত সফটওয়ারে জমা রাখবে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকগণ তাদের অভ্যন্তরীন অর্ধবাষিক, বার্ষিক, প্রাক ও নির্বাচনী পরীক্ষার জন্য পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে প্রশ্ন ব্যাংক হতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করবেন। তবে, নিরাপত্তার স্বার্থে প্রশ্নের আউটপুট ক্ষমতা শুধু প্রতিষ্ঠান প্রধানের থাকবে। কোন প্রতিষ্ঠান কতটা প্রশ্ন ডাউনলোড করেছে সেটা সময় ও তারিখ অনুযায়ী একটি নির্দিষ্ট সার্ভারে রেকর্ড থাকবে।
ধারণাপত্রে আরও বলা হয়েছে, শিক্ষা বোর্ডের নিদের্শনা অনুযায়ী সকল শিক্ষকের প্রশ্নপত্র প্রশ্ন ব্যাংকে জমা দেয়া বাধ্যতামূলক। প্রশ্নপত্র গৃহিত হলে শিক্ষক পয়েন্ট পাবেন। এ পয়েন্টের ভিত্তিতেই তারা পরীক্ষক, প্রধান পরীক্ষক হতে পারবেন। এছাড়াও তাদের পদোন্নতি, বিদেশে প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন বিষয়ে এ অর্জিত পয়েন্ট বিবেচিত হবে। একই সাথে শিক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্র গৃহিত হলে তাদেরকে পয়েন্টে দেয়া হবে। এবং এ পয়েন্টের দ্বারা তাদের পুরস্কৃত করার ব্যবস্থা থাকবে।
এ বিষয়ে যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মাধব চন্দ্র রুদ্র জানিয়েছেন, প্রশ্ন ব্যাংক তৈরির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে সার্ভার তৈরির কাজ চলছে। তাছাড়া এ বিষয়ে যশোর ও খুলনায় শিক্ষকদের নিয়ে সেমিনার করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষা সচিবের নির্দেশে তারা এ উদ্যোগ নিয়েছেন। বিশ্বের অনেক দেশে এমন ধারণা থাকলেও বাংলাদেশে এটিই প্রথম।
মিলন রহমান/এমএএস/আরআই