রাজনৈতিক সুবিধা নিতে বুয়েট অচল রাখার চেষ্টা বিএনপির : উপমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:৪১ পিএম, ১৮ নভেম্বর ২০১৯

রাজনৈতিক সুবিধা নিতে বিএনপির এক নেতা তার সন্তানকে উসকানি দিয়ে দেশের শীর্ষমানের প্রতিষ্ঠান বুয়েটকে অস্থির করে রেখেছেন বলে দাবি শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরীর। সোমবার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন দাবি করেন তিনি।

উপমন্ত্রী বলেন, বুয়েটে মেধাবী শিক্ষার্থীরা ভর্তি হওয়ার সুযোগ পায়। সরকারের অর্থে পরিচালিত হলেও এটি স্বায়ত্তশায়িত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সম্প্রতি আবরার হত্যার একটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। সন্দেহভাজন অপরাধীদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেফতার করেছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে আদালতে চার্জশিট জমা দিয়েছে পুলিশ। অথচ এরপরও নতুন নতুন ইস্যু সৃষ্টি করে বুয়েটকে অচল করে রাখা হয়েছে। আন্দোলনের নামে অরাজকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। আইনজীবী সমিতির বিএনপিপন্থী এক নেতা তার সন্তানকে উসকানি দিয়ে এ আন্দোলন অব্যাহত রাখছেন।

তবে তিনি ওই নেতার নাম উল্লেখ করেননি।

‘এখন কেন বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ? সাধারণ শিক্ষার্থীরা আমাদের কাছে তা জানতে চাচ্ছে’, এ কথা জানিয়ে মহিবুল হাসান বলেন, প্রযুক্তির সহায়তায় আমাদের কাছে সব তথ্য রয়েছে। মেধাবীদের প্রতিষ্ঠান বুয়েট, তাই আমরা কারও বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহী মামলা বা অন্য কোনো ব্যবস্থা নিতে চাই না। আপনারা (অভিভাবকরা) সন্তানদের মঙ্গলের কথা চিন্তা করে তাদের সঠিক পথ দেখান। উসকানিমূলক আচরণ করে জনগণের অর্থে পরিচালিত বিশ্ববিদ্যালয় অচল রাখার চেষ্টা করে রাজনৈতিক ফায়দা নেয়ার চেষ্টা করবেন না।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে উপমন্ত্রী বলেন, অভিযুক্ত অপরাধীরা কারাগারে আটক। তাদের বিচারকাজ চলছে, এ সময় বুয়েট থেকে তাদের স্থায়ী বহিষ্কারের ইস্যু তুলে শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করছেন।

তিনি বলেন, স্থায়ী বহিষ্কারের জন্য একটি প্রক্রিয়া রয়েছে, এ জন্য সময় প্রয়োজন। যেহেতু অপরাধীরা পুলিশের হাতে আটক, তখন তাদের স্থায়ী বহিষ্কার মুখ্য বিষয় নয়। এ ইস্যুতে আন্দোলন চাঙা রাখা হবে, তা হতে পারে না।

সব শিক্ষার্থীর ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে অভিভাবকদের সর্তক করে তিনি বলেন, আমরা সব কিছু মনিটরিং করছি, আপনারা সন্তানের মঙ্গলের জন্য সঠিক পরামর্শ দেন, নতুবা আমরা কঠোর হয়ে উসকানিদাতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।

উপমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে আবাসিক কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইস্যুতে কথা বলছেন, আমাদের সমস্যা নিয়ে তাদের কথা বলাটা একটি সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। এটি প্রত্যাশা করি না।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান সংকট কবে কাটবে এমন প্রশ্নের জবাবে মহিবুল হাসান বলেন, ভিসির পক্ষে-বিপক্ষে শিক্ষকরা দুটি আলাদা অভিযোগ জমা দিয়েছেন। আমরা প্রাথমিক তদন্ত কাজ শুরু করেছি। দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এমএইচএম/জেডএ/এমএস