নর্থ সাউথে ট্রেজারার নিয়োগে নাটকীয়তা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:২৬ পিএম, ২০ মার্চ ২০২০

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে (এনএসইউ) ট্রেজারার নিয়োগ নিয়ে নাটকীয়তা সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচিত ব্যক্তিকে নিয়োগ না দিয়ে গত ১০ মার্চ চার বছরের জন্য এয়ার কমোডর (অব.) এম আবদুস সামাদ আজাদকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। পরে গত ১৮ মার্চ সে আদেশ আবার বাতিল করা হয়।

জানা গেছে, ট্রেজারার পদের জন্য আবদুস সামাদ আজাদের যোগ্যতার ঘাটতি রয়েছে। তার অধ্যাপনায় কোনো অভিজ্ঞতা নেই। এমনকি তিনি যোগ্য নন বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদনও দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। এরপরও তাকেই ট্রেজারার পদে নিয়োগ দেয়া হয়।

ইউজিসি সূত্র জানায়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য এনএসইউয়ের ট্রেজারার পদে তিনজনের নাম পাঠানো হয়। তালিকার এক নম্বরে ছিলেন অধ্যাপক ড. এম ইমদাদুল হক। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। এরপর ২০১০ সাল থেকে তিনি নর্থ সাউথেই অধ্যাপনা ও প্রশাসনিক নানা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। দ্বিতীয় ছিলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. মো. আবদুর রউফ। আর তিন নম্বরে ছিলেন এয়ার কমোডর (অব.) এম আবদুস সামাদ আজাদ।

ইউজিসি যাচাই-বাছাই শেষে গত ১৯ নভেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠায়। সেখানে তারা অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতার দিক থেকে এক ও দুই নম্বর ক্রম ঠিক রাখে। আর তিন নম্বরে থাকা ব্যক্তি আবদুস সামাদ আজাদের অধ্যাপনার অভিজ্ঞতা নেই বিধায় তিনি এ পদের যোগ্য নন বলে উল্লেখ করে।

ইউজিসি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১০-এর ৩৩ ধারার ২ উপধারা উল্লেখ করে প্রতিবেদনে জানায়, ট্রেজারার পদে নিয়োগের জন্য ন্যূনতম স্নাতকোত্তর ডিগ্রিসহ অন্যূন ১৫ বছরের অধ্যাপনা, প্রশাসনিক বা আর্থিক ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। কিন্তু আবদুস সামাদ আজাদের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা থাকলেও অধ্যাপনার অভিজ্ঞতা নেই।

জানা যায়, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ট্রেজারার নিয়োগ দিতে হলে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথমে যোগ্যতাসম্পন্ন তিনজনের নামের তালিকা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হয়। এরপর তা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ইউজিসিতে পাঠায় মন্ত্রণালয়। ইউজিসি যাচাই-বাছাই শেষে মন্ত্রণালয়ে ফেরত পাঠায়। যাচাই-বাছাইয়ে তিনজনই যোগ্য হলে মন্ত্রণালয় থেকে ফাইল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়। সেখান থেকে সেই ফাইল যায় রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে। রাষ্ট্রপতি বা আচার্যের চূড়ান্ত অনুমোদনের পর আবার তা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ফেরত আসে। সব শেষে মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

আরও জানা গেছে, যদি তিনজনের তালিকার একজনও যোগ্য না হন তাহলে আইন অনুযায়ী পুরো ফাইলটিই বিশ্ববিদ্যালয়ে ফেরত পাঠানোর কথা। কারণ রাষ্ট্রপতি তিনজন যোগ্য ব্যক্তির মধ্য থেকে একজনকে নিয়োগ প্রদান করেন। সাধারণত ইউজিসি থেকে যে ক্রম অনুযায়ী তালিকা পাঠানো হয়, সেখান থেকে এক নম্বরে থাকা ব্যক্তিকেই নিয়োগ দেয়া হয়। অথচ অযোগ্য ব্যক্তিকে রেজিস্ট্রার করে গত ১০ মার্চ শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে একটি নির্দেশনা জারি করা হয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, যোগ্যতা ছাড়াই আবদুস সামাদ আজাদ কীভাবে নিয়োগ পেলেন তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসিতে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। কারণ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পাঠানো তালিকা অনুযায়ী এক নম্বরে থাকা ব্যক্তিকেই ট্রেজারার পদে নিয়োগের জন্য সরকারের সব শীর্ষ পর্যায়ের সম্মতি ছিল। কিন্তু কোনো একটি দফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারী পর্যায়ে ফাইল এসে নাম বদলে দেয়া হয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভগের উপসচিব আ ন ম তরিকুল ইসলামের স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়, গত ১০ মার্চের নর্থ সাউথের রেজিস্ট্রার নিয়োগের সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল করা হলো। এ আদের্শ অবিলম্বে কার্যকর করতেও নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এমএইচএম/এএইচ/এমএস