ইউরিন ইনফেকশন অবহেলা করলে ঝুঁকিতে পড়তে পারে কিডনি
ইউরিন ইনফেকশন বা মূত্রনালির সংক্রমণ (ইউটিআই) অত্যন্ত সাধারণ একটি স্বাস্থ্য সমস্যা। নারী-পুরুষ উভয়েরই এই সমস্যা হতে পারে, যদিও নারীদের মধ্যে এর প্রবণতা তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। সাধারণত কয়েক দিনের সঠিক চিকিৎসা ও যত্নে এই সংক্রমণ সেরে যায়। কিন্তু অনেকেই এটিকে সাধারণ সমস্যা ভেবে অবহেলা করেন।
শুরুতে শুধু প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া বা ঘন ঘন প্রস্রাবের মতো লক্ষণ দেখা দিলেও সময়মতো চিকিৎসা না করালে সংক্রমণ ধীরে ধীরে কিডনি পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে। এমন কি গুরুতর ক্ষেত্রে কিডনি স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও থাকে। তাই ইউরিন ইনফেকশন সম্পর্কে সচেতন থাকা খুবই জরুরি।
কেন হয় ইউরিন ইনফেকশন?
এই সংক্রমণের সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো ‘ই. কোলাই’ নামক ব্যাকটেরিয়া। সাধারণত এই ব্যাকটেরিয়া অন্ত্রে থাকে, তবে কোনোভাবে মূত্রনালীতে প্রবেশ করলে সংক্রমণ তৈরি হয়। ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার অভাব, কম পানি পান করা, দীর্ঘ সময় প্রস্রাব চেপে রাখা এবং অপরিষ্কার টয়লেট ব্যবহারের কারণে এই ঝুঁকি বাড়ে।
অনেক সময় চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ঘন ঘন অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার ফলেও শরীরের স্বাভাবিক ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়, যা ইউটিআইয়ের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। শুরুতে সংক্রমণ মূত্রনালী বা মূত্রথলিতে সীমাবদ্ধ থাকলেও চিকিৎসা না করলে তা কিডনিতে পৌঁছে যেতে পারে।
যখন এটি বিপজ্জনক হয়ে ওঠে
যতক্ষণ পর্যন্ত সংক্রমণ মূত্রথলির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, ততক্ষণ এটি তুলনামূলক কম ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু ব্যাকটেরিয়া যদি মূত্রনালী বেয়ে কিডনি পর্যন্ত পৌঁছে যায়, তখন পরিস্থিতি মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে। দীর্ঘদিন সংক্রমণ থাকলে কিডনির কার্যক্ষমতা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
কিডনিতে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে কিছু গুরুতর উপসর্গ দেখা দিতে পারে। যেমন:
প্রচণ্ড জ্বর, কাঁপুনি দিয়ে ঠান্ডা লাগা, বমি বমি ভাব, বমি হওয়া, তীব্র কোমর ব্যথা এবং প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত আসা। এই ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।
ইউরিন ইনফেকশনের সাধারণ লক্ষণ
ইউরিন ইনফেকশনের কিছু পরিচিত উপসর্গ রয়েছে, যেগুলো দেখা দিলে অবহেলা করা উচিত নয়। প্রস্রাবের সময় তীব্র জ্বালাপোড়া হওয়া, বারবার প্রস্রাবের বেগ পাওয়া, অল্প অল্প প্রস্রাব হওয়া এবং প্রস্রাব থেকে দুর্গন্ধ বের হওয়া এর অন্যতম লক্ষণ। এছাড়া তলপেটে বা কোমরের নিচের অংশে ব্যথাও হতে পারে।
অনেক সময় শরীর দুর্বল লাগা বা অস্বস্তিও দেখা দেয়। শুরুতেই এসব লক্ষণ চিহ্নিত করা গেলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া সহজ হয়।
কারা বেশি ঝুঁকিতে থাকেন?
যদিও যে কেউ ইউরিন ইনফেকশনে আক্রান্ত হতে পারেন, কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি থাকে। বিশেষ করে প্রবীণ ব্যক্তিদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকায় তারা সহজে আক্রান্ত হন। ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রেও সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি দেখা যায়।
এছাড়া গর্ভবতী নারীদের শরীরে হরমোনজনিত পরিবর্তনের কারণে ইউটিআই হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। যাদের ইমিউনিটি দুর্বল, তারাও সহজে এই সংক্রমণে আক্রান্ত হতে পারেন।
যেভাবে সুরক্ষিত থাকবেন
ইউরিন ইনফেকশন প্রতিরোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো পর্যাপ্ত পানি পান করা। বেশি পানি খেলে মূত্রনালিতে থাকা ব্যাকটেরিয়া প্রস্রাবের মাধ্যমে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে।
দীর্ঘ সময় প্রস্রাব চেপে রাখা উচিত নয়। কারণ এতে ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং পরিষ্কার টয়লেট ব্যবহার করাও খুব জরুরি।
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে। কারণ ভুল ওষুধ সংক্রমণ আরও জটিল করে তুলতে পারে।
সূত্র: ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক, দ্য ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস
এসএকেওয়াই