টেবিলেই তবলার কাজ সারতেন শব্দ সৈনিকরা


প্রকাশিত: ০২:৫৬ পিএম, ২৪ মার্চ ২০১৬

শব্দ সৈনিক কামাল লোহানি বলেছেন, “আজকের দিনে যে কোনো অনুষ্ঠানে কত সহজেই না গিটার, কি-বোর্ড, অক্টোপ্যাডসহ হরেক রকম যন্ত্রপাতি পাওয়া যায়। কিন্তু একাত্তরের সেই দিনগুলোতে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পীদের গান বাজানোর জন্য তবলাও ছিল না। টেবিলের ওপর আঙ্গুলের টোকা দিয়ে তবলা কাজ সেরে গান রেকর্ড করে মানুষকে উদ্দীপ্ত করতাম। সে দিন সংবাদ লেখার জন্য কাগজও ছিল না, খবরের কাগজের পাশের যে সাদা অংশটুকু থাকতো সেখানে লিখে রেখে সংবাদ পাঠ করা হত।”

মহান স্বাধীনতা দিবস-২০১৬ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ)-এ স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পীদের দেয়া এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে একাত্তরের সেই দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

Soldier

তিনি আরো বলেন, “জয় বাংলা কোনো দলীয় স্লোগান নয়। তাই আমরা যেন বুক ফুলিয়ে উচ্চস্বরে ‘জয় বাংলা’ বলতে ভুলে না যাই। আজও যারা মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তোলে, উপহাস করে তাদের বাংলাদেশে বসবাস করার কোনো অধিকার নেই।”

মহান মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনতা অর্জনে স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী বেতার ও পরবর্তীকালে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দ সৈনিকদের ভূমিকা ছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিএসএমএমইউ’র ভিসি অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান বলেন, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পীদের পদধুলীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মাটি আরো পবিত্র হল। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পীরা মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন স্বাধীনতার গান, চরমপত্র পাঠ ইত্যাদির মাধ্যমে একযোগে সমগ্র বাংলাদেশে মুক্তিযোদ্ধাদের উজ্জীবিত করেছেন। প্রকৃতপক্ষে এভাবে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পীরা একযোগে সমগ্র বাংলাদেশে যুদ্ধ করেছেন।

Soldier

তিনি আরো বলেন, তাঁরা এদেশের বড় মাপের মুক্তিযোদ্ধা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সম্মানিত শিল্পীদের বিশেষ ব্যবস্থায় চিকিৎসা সেবা দেয়া হবে।

মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে সকল শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে ভিসি আরো বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম না হলে বাংলাদেশ হত না। তাই জয় বাংলা স্লোগান ও বঙ্গবন্ধুকে আমরা যেন ভুলে না যাই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক ডা. এসএম মোস্তফা জামানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ভিসি অধ্যাপক ডা.কামরুল হাসান খান। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পীদের ফুলেল শুভেচ্ছা, সম্মাননা স্মারক প্রদান এবং উত্তরীয় পরিয়ে দেন তিনি।

শব্দসৈনিক কামাল লোহানী অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খানকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ডা. কামরুল হাসান ছাড়া আরো বক্তব্য রাখেন শব্দসৈনিক কামাল লোহানী।
 
Soldier

এছাড়া শব্দসৈনিক মো. মনোয়ার হোসেন খান ভিসির হাতে মুক্তিযুদ্ধকালীন ২৪টি গানের একটি সিডি ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পীদের তালিকা তুলে দেন। পরে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পীরা মহান মুক্তযুদ্ধকালীন মুক্তিযোদ্ধাদের উজ্জীবিত, উদীপ্ত, অণুপ্রাণিত করার আগুনঝরা স্বাধীনতার গান পরিবেশন করেন। বিএসএমএমইউ’র উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিএসএমএমইউ প্রাঙ্গন শব্দসৈনিকদের পদচারনায় মুখরিত হয়ে উঠে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে আশফাকুর রহমান খান, আশরাফুল আলম, মাওলনা শেখ মো. উবায়দুল্লাহ বিন সাইদ জালালাবাদি, আ ম সারফুজ্জামান, রেজাউল করিম চৌধুরী, মাজহারুল ইসলাম, বুলবুল মহলানবীশ, শিল্পী মহলানবীশ, মঞ্জুলী দাস গুপ্তা, মঞ্জুশ্রী দাস গুপ্তা, মঞ্জুশ্রী নিয়োগী, ডালিয়া নওশিন, রথীন্দ্রনাথ রায়, শহীদ হাসান, আবু নওশের, এমএ মান্নান, মো. কামালউদ্দিন আহমেদ, তিমির নন্দি, আজহারুল ইসলাম, মনোয়ারুল ইসলাম খান, শীলা ভদ্র ও ফকির আলমগীর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এমইউ/আরএস/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।