‘দুই মন্ত্রীর অভিযুক্তের ঘটনায় সরকারের ক্ষতি হয়েছে’


প্রকাশিত: ১২:৪৩ পিএম, ৩০ মার্চ ২০১৬

আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেছেন, দুই মন্ত্রীর উচ্চ আদালতে অভিযুক্ত হওয়ার ঘটনায় বর্তমান সরকারের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে । ন্যায়-নিষ্ঠার উপরে কেউ না। সবাইকে ন্যায়-নিষ্ঠার মধ্যে থেকেই কাজ করতে হবে।
 
বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনের মিডিয়া সেন্টারে এক প্রেস ব্রিফিং-এ সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন। অভিযুক্ত হওয়া মন্ত্রীদের পদত্যাগ করা উচিত কি না জানতে চাইলে তিনি সরাসরি উত্তর না দিয়ে বলেন, আমি এই বির্তকে জড়াতে চাই না। তবে রাষ্ট্র ও সমাজের কাছে নৈতিকতার দিক থেকে সকলেই দায়বদ্ধ। আমার প্রাইভেট সেক্রেটারি কি করেছে। তার টাকার লোভ ছিলো। আমি তো কোন দোষ করিনি। তারপরও আমি পদত্যাগ করি।
 
সুরঞ্জিত বলেন, নির্বাহী বিভাগে কাজ করতে গেলে অন্যায় কাজ করা চলবে না। আইন পাস করতে গেলে বে-আইনি কিছু তো করতে পারবো না। বিচার হতে গেলেও ন্যায় বিচার হতে হবে।
 
তিনি আরো বলেন, তুমি বিচারক হয়েছো। তোমার কাছে দুই মন্ত্রী গিয়ে বললো, আমাদের মাফ করে দাও। প্রধানবিচারপতি বললেন না, ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা। এটা হলো? তিনি বলেন, রাষ্ট্র ও সামাজের কাছে নৈতিকভাবে সবাই দায়বদ্ধ। রাষ্ট্রই হচ্ছে আমাদের সমাজের নীতি -নৈতিকতা ও চিন্তা চেতনার আঁধার।

এরআগে জাতীয় সংসদ ভবনে সংসদীয় কমিটির বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। ওই বৈঠকে আলোচনা শেষে এমপিদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর লক্ষ্যে সংসদে উত্থাপিত বিলটি ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়।

কমিটির সভাপতি সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির সদস্য আইন মন্ত্রী আনিসুল হক, মো. তাজুল ইসলাম চৌধুরী, বেগম সাহারা খাতুন, মো. শামসুল হক টুকু, তালুকদার মো. ইউনুস ও বেগম সফুরা বেগম উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ আমন্ত্রণে চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ ও ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর অংশ নেন।

কমিটি সূত্র জানায়, বৈঠকে স্পিকার অ্যান্ড ডেপুটি স্পিকার (রেমুন্যারেশন এন্ড প্রিভিলেজেস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট-২০১৬ ও মেম্বর অব পার্লামেন্ট (রেমুন্যারেশন এন্ড অ্যালাউন্সেস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট-২০১৬ নামের বিল দুটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। এরমধ্যে একটি বিল পাসের সুপারিশ করা হলেও আরেকটি বিল ফেরত পাঠানো হয়।

ওই বিলটি পাসের আগে সংসদ সদস্যগণ জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি আর সরকারি কর্মকর্তারা জনগণের সেবক সেদিকে লক্ষ্য রেখে ওয়ারেন্ট অব প্রেসিডেন্স এবং সংসদ সদস্যদের সম্মানী ভাতা নির্ধারণের লক্ষ্যে অধিকতর আলোচনার সুপারিশ করা হয়।

এবিষয়ে কমিটির সভাপতি সাংবাদিকদের বলেন, জাতীয় সংসদে উত্থাপিত রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, হুইপ ও মন্ত্রী পরিষদের সদস্যদের রেমুনারেশন সংক্রান্ত বিল পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে কমিটি চূড়ান্ত করে পাসের জন্য পাঠিয়েছে।

আগামী অধিবেশনেই তা পাস হবে। তবে সংসদ সদস্যদের রেমুনারেশন (ভাতা) সংক্রান্ত বিলটি অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ফেরত পাঠানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে এমপিদের ভাতা নির্ধারণ করেই বিলটি চূড়ান্ত করা হবে।

এইচএস/এসকেডি/এবিএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।