বুক রিভিউ

আদর্শ হিন্দু হোটেল: শোষণ এবং শাসিতের মেলবন্ধন

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:২৮ পিএম, ১৫ মে ২০২৪

খাদিজা তুল কোবরা

‘আদর্শ হিন্দু হোটেল’ বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি উপন্যাস। একমাত্র বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখাতেই খুব সম্ভবত ফুটে ওঠে এত সুন্দর প্রকৃতিপ্রেম। যুক্ত করে প্রতিটি মানুষকে একই সুতায়। যোগ ঘটে আত্মার সাথে আত্মার। আদর্শ হিন্দু হোটেলকে তুলে ধরা হয়েছে একই চরিত্রের প্রতিফলন এবং বৈপরীত্যকে সামনে রেখে। উপন্যাসের মূল চরিত্রে রয়েছে রসুই হাজারি, বেচু চক্কত্তি, পদ্ম ঝি, টেপী, নরেন, কুসুম এবং অতসী। উপন্যাসের একদম প্রথম পর্বে দেখা যায় হাজারী, বেচু চক্কত্তির হোটেলে রসুই কাজ শুরু করে! উপন্যাসজুড়েই প্রতিফলিত হয়েছে রসুই হাজারী।

রসুই হাজারীর স্বপ্ন দেখার অভ্যাস। স্নেহময়তা, মানবিকতা, সততা, ধৈর্য এবং কঠোর পরিশ্রমই তার ভাগ্যের উত্থান ঘটায়। পদ্ম ঝি চরিত্রের মধ্য দিয়ে ফুটে উঠেছে চিরায়ত কুটিল হিংসুক নারীশ্রেণি। যে বরাবরই কিভাবে রসুই হাজারীকে আরও বেশি ছোট, অপমানিত, তাচ্ছিল্য এবং দোষী সাব্যস্ত করা যায়; সেই কার্যক্রমেই বেশি ব্যস্ত থাকে। রাণাঘাটে রসুই হাজারীর সবচেয়ে স্নেহময়ী এবং সন্তান সমতুল্য আস্থার জায়গা ছিল কুসুম! রক্তের সম্পর্ক ছাড়াও যে কিছু কিছু সম্পর্ক হয়ে উঠতে পারে অত্যন্ত মূল্যবান, যেখানে স্নেহাতুর আত্মা বারবার আহ্বান করে। ঠিক তেমনই মধুর সম্পর্ক ফুটিয়ে তোলা হয়ে হয়েছে রসুই হাজারী এবং কুসুম চরিত্রের মাধ্যমে।

আরও পড়ুন

অতসী অন্যতম একটি চরিত্র যে কি না রসুই হাজারীকে দুইশত টাকা দিয়ে নিজের হোটেল খোলার তাগাদা দেয় এবং রসুইয়ের মধ্যকার প্রস্ফুটিত স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করার অন্যতম অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে। উপন্যাসের মূল মর্মে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে শোষণ এবং শাসিতের মধ্যে এক চমৎকার মেলবন্ধনের মাধ্যমে! আমাদের সমাজে আজও নিপীড়িত মানুষের সংখ্যা কম নয়। বলাই বাহুল্য, বেশিরভাগ মানুষই এই নিপীড়িত মানুষকে শোষণ করেই বড় হতে চায়। শুধু সেটাই নয়, কিভাবে পণ্যে ভেজাল মিশিয়ে, কিভাবে মানুষকে বোকা বানিয়ে মুনাফা অর্জন করা যায়; সেই নেশাতেই বুদ যেন সবাই। কিন্তু জাতে বড় ব্রাহ্মণ হাজারী ঠিক এমনই এক হোটেলের স্বপ্ন দেখত; যেখানে সে শুধু সর্বোচ্চটা ভালো দেওয়ার চেষ্টা করবে।

একেই কি বলে জাতে বড়, মনেও বড়। একই চরিত্র একই দৃশ্যপট সময়ের অন্তরালে বদলে দেয় জীবন এবং জীবিকা। উপন্যাসটিতে দেখানো হয়েছে মানুষের মহৎ গুণ এবং মহৎ কর্ম মানুষকে সম্মান এবং সফলতার ঠিক কতটা শীর্ষে নিয়ে যায়। অপরদিকে দেখানো হয়েছে সংকীর্ণতা, খারাপ কাজ কিভাবে সম্মান এবং গৌরবকে ধূলিস্যাৎ করে। শুধু কিছুটা সময়ের অপেক্ষা! সর্বশেষ সৃষ্টিকর্তা কোনো মানুষের ইচ্ছাকেই অপূর্ণ রাখেন না! আমরা ঠিক যা চাই, তার থেকেও অধিক কিছু দিয়ে আমাদের অন্তরকে পরিপূর্ণ করে দেন!

তবে আর দেরী কেন? জীবনের সাথে জীবনকে যোগ করতে, জীবনের উত্থান-পতনকে বুঝতে দ্রুত সময় করে পড়ে ফেলুন চমৎকার বইটি। বাংলা সাহিত্যের কালজয়ী এই উপন্যাস পাবেন দেশের সব ধরনের বইয়ের দোকানে।

লেখক: শিক্ষার্থী, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

এসইউ/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।