হতাশ প্রকাশকরা, পরিসর বাড়লেও বাড়েনি বিক্রি

সালাহ উদ্দিন মাহমুদ
সালাহ উদ্দিন মাহমুদ সালাহ উদ্দিন মাহমুদ , লেখক ও সাংবাদিক
প্রকাশিত: ০৫:৫১ পিএম, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০

চলছে অমর একুশে বইমেলা। বাঙালির প্রাণের এ উৎসবের দুই-তৃতীয়াংশ সময় শেষ হয়ে গেছে। লেখক-পাঠক-প্রকাশকের এ মহামিলনের অন্তিম সময় সন্নিকটে। মুজিববর্ষ সামনে রেখে ব্যাপক আয়োজন করা হয়েছে বইমেলা ঘিরে। বাড়ানো হয়েছে মেলার পরিসর। মেলায় ঘুরতে আসা মানুষদের বিশ্রামের জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছে। বেড়েছে স্টল ও প্যাভিলিয়নের সংখ্যাও। কিন্তু বাড়েনি পাঠক বা ক্রেতা। হতাশা প্রকাশ করেছেন প্রকাশকরা।

গত ২০ দিন বইমেলা ঘুরে দেখা গেছে, শুক্রবার ছাড়া তেমন ভিড় লক্ষ্য করা যায়নি মেলায়। ভিড় থাকলেও বেশিরভাগ মানুষ আসেন ঘুরতে। সময় কাটাতেই ভালোবাসেন অনেকে। পাঠকের হাতে বইয়ের দেখা তেমন পাওয়া যায়নি। তবে এর মধ্যে হাতেগোনা কয়েকটি স্টলে বিক্রি হতে দেখা গেছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তরুণ লেখক সাদাত হোসাইন, তরুণ কবি ও অভিনেতা মারজুক রাসেল, আইমান সাদিকের বই ভালো বিক্রি হতে দেখা গেছে। এ দু’তিনটি প্রকাশনী ছাড়া বেশিরভাগই হতাশা ব্যক্ত করেছেন।

in-(2).jpg

পুঁথি নিলয়ের প্রকাশক শ্যামল পাল বলেন, ‘বইমেলার পরিসর বেড়েছে এটা একদিকে যেমন ভালো, অন্যদিকে আবার সমস্যারও কারণ। সমস্যা বলছি এ কারণে যে, একেকটি স্টল বা প্যাভেলিয়ন থেকে অন্যটির দূরত্ব বা বিচ্ছিন্নতাও বিক্রির জন্য দায়ী। এছাড়া তিনটি বিশেষ দিন শুক্রবার হওয়ায় সেদিনের বিক্রিও হাতছাড়া হয়েছে।’

মাতৃভাষার প্রকাশক নেসার উদ্দীন আয়ূব বলেন, ‘মেলা প্রাঙ্গণে অযথাই কিছু জায়গা পড়ে আছে। কোনো কোনো স্টলের সামনের জায়গা সরু হয়ে গেছে। ভিড় বাড়লে পাঠক এসব গলি এড়িয়ে চলেন। ফলে তাদের বিক্রি কম হওয়াই স্বাভাবিক।’

ভাষাচিত্রের প্রকাশক খন্দকার সোহেল বলেন, ‘পরিসর বাড়লেও বিক্রি বাড়েনি। স্টল বিন্যাসের কারণে অনেক ক্ষেত্রে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। কোন কোন স্টল প্রবেশপথের বিপরীতমুখী হওয়ায় তারা আড়ালেই থেকে গেছেন। পাঠকও তাদের খুঁজে পেতে বেগ পেয়েছেন।’

in-(2).jpg

অন্যধারার প্রকাশক মনির হোসেন পিন্টু বলেন, ‘আমরা আসলেই হতাশ। অন্যান্য বছরের তুলনায় এখনো বিক্রি কম। মেলার পরিসর বাড়ানো হলেও পাঠক বা ক্রেতা বাড়েনি। বই কেনা মানুষের সংখ্যা খুবই কম।’

শিশু চত্বরে অবস্থিত পঙ্খিরাজের প্রকাশক দেওয়ান আজিজ বলেন, ‘শিশুতোষ প্রকাশনীগুলো এবার অবহেলার শিকার হয়েছে। শিশু চত্বরের বিন্যাসের ক্ষেত্রে গুরুত্ব কম দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শিশু চত্বরে প্রবেশেও জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।’

লিটলম্যাগ কর্নারের ছিন্নপত্রের প্রকাশক খালেদ রাহী বলেন, ‘লিটলম্যাগ চত্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আনার পর ভেবেছিলাম বিক্রি ভালো হতে পারে। কিন্তু আশানুরূপ বিক্রি হয়নি।’

এসইউ/এমএস