আনোয়ারা ঢাকায়, কক্সবাজারে তার জন্মদিন পালন করলেন শিল্পীরা

বিনোদন ডেস্ক
বিনোদন ডেস্ক বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫:০২ পিএম, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬
আনোয়ারার জন্মদিন পালন করলেন শিল্পীরা

ঢাকাই চলচ্চিত্রের জীবন্ত কিংবদন্তি অভিনেত্রী আনোয়ারা জামাল। যাকে সবাই আনোয়ারা নামে চেনেন। তিনি নিজেকে ঋদ্ধ করেছেন বৈচিত্র্যময় চরিত্রে। তার সেই সব চরিত্র দিয়ে সমৃদ্ধ হয়েছে বাংলাদেশের সিনেমা। এই অভিনেত্রীর গতকাল (১৮ জানুয়ারি) ছিল জন্মদিন।

কক্সবাজার থেকে আনোয়ারার জন্মদিন পালন করেন অভিনেত্রী রোজিনা, তার মেয়ে অভিনেত্রী মুক্তিসহ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির বেশ কয়েক অভিনয়শিল্পী। তারা কক্সবাজার গিয়েছিলেন অভিনেতা রুবেল ও উস্তাদ ওস্তাদ জাহাঙ্গীর মার্শাল আর্টের এক অনুষ্ঠানে। সেখানে ফোনের অপর পাশে ঢাকা থেকে ভারচুয়ালি যোগ দেন আনোয়ারা। কাট হয় কেক।

আরও পড়ুন
শাকিবের সঙ্গে ছুটি কাটানোর পর থেকে মা হওয়ার গুঞ্জন, যা বললেন বুবলী
মাহি ও জয়কে গ্রিনকার্ড দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র, গুঞ্জনে সতর্ক তারকারা

এসময় অনেক কথাও বলেন আনোয়ারা। সবাইকে ধন্যবাদ দিয়ে বাসায় আসার আমন্ত্রণ জানান এই কিংবদন্তি।

মাত্র ছয় বছর বয়সে শিশুশিল্পী হিসেবে চলচ্চিত্রে পথচলা শুরু হয়েছিল আনোয়ারার। ফজলুল হক পরিচালিত ‘আজান’ সিনেমাতে নৃত্যশিল্পীর চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে রুপালি পর্দায় তার যাত্রা। যদিও শুটিংয়ের দিক থেকে এটি তার প্রথম সিনেমা, মুক্তির দিক থেকে আনোয়ারার প্রথম চলচ্চিত্র আবদুল জব্বার খান পরিচালিত ‘নাচঘর’। উর্দু ভাষার এ ছবি মুক্তি পায় ১৯৬৩ সালে।

নবাব সিরাজউদ্দৌল্লা চলচ্চিত্রটি ছিল আনোয়ারার জীবনের টার্নিং পয়েন্ট। এ চলচ্চিত্রে তিনি আলেয়া চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের অন্তরে স্থায়ী আসন গড়ে নেন। এ ছবি তাকে আলেয়া খ্যাতি এনে দেয়।

চলচ্চিত্রটি লাহোর, করাচি, কোয়েটা, মুলতান, পেশোয়ারে মুক্তির পরে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানেও আনোয়ারার নামধাম ছড়িয়ে পড়ে। এরপরে বহুবার নবাব সিরাজউদ্দৌর মঞ্চায়ন হয়েছে বহুবার। আলেয়া চরিত্রে তিনি ছিলেন নির্ধারিত।

আনোয়ারার চলচ্চিত্র জীবনের আরও ৩টি উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র হচ্ছে ১৯৭৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’, ১৯৮২ মুক্তিপ্রাপ্ত ‘দেবদাস’ ও ১৯৮৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘শুভদা’।

গোলাপী এখন ট্রেনে চলচ্চিত্র দিয়ে ১৯৭৮ সালে সেরা পার্শ্বচরিত্রে অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন আনোয়ারা। এ চলচ্চিত্রে তিনি ‘ময়না বু’ চরিত্রে অভিনয় করেন।


অভিনেত্রী আনোয়ারা

ব্যক্তি জীবনে ১৯৭২ সালে মুহিতুল ইসলাম মুহিতের সাথে আনোয়ারার বিয়ে হয়। তাদের একমাত্র সন্তানের নাম মুক্তি। তিনিও একজন অভিনেত্রী। তার একমাত্র নাতনী কারিমা ইসলাম দরদী।

সারাটা জীবন অভিনয়ের পেছনেই সময় দিয়েছেন। এর প্রভাব পড়তো নিজের সংসারে। সে নিয়ে একটি গণমাধ্যমে সাক্ষাতকারে আনোয়ারা বলেন, ‘প্রথম প্রথম তো আমার স্বামী খেপে অস্থির হয়ে যেতেন। তাকে বুঝিয়ে কানের কাছে ফিসফিস করে বলতাম, ‘হাতের ছবিগুলো শেষ করে নতুন ছবি নেবো না। এগুলো শেষ না করলে পরিচালক বিপদে পড়বেন।’

দীর্ঘ অভিনয়জীবনে আনোয়ারা মোট ৮ বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। ২০২২ সালে পান আজীবন সম্মাননা।

স্বামী মুহিতুল ইসলামের মৃত্যু হয় ২০২১ সালের ডিসেম্বরে। এরপর আর ক্যামেরার সামনে দাঁড়াননি। ২০২২ সালে ব্রেন স্ট্রোক করার পর জীবনযাপন আরও সীমিত হয়ে আসে এই অভিনেত্রীর।

 

এমআই/এলআইএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।