তনির বিরুদ্ধে সাবেক স্বামীর মামলা খারিজ, মায়ের সঙ্গেই থাকবে সানভি
আলোচিত নারী উদ্যোক্তা ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটর রোবাইয়াত ফাতিমা তনি। তার বিরুদ্ধে সাবেক স্বামী সদরুল ইসলাম সোয়েব গুরুতর অভিযোগ তুলেছিলেন। তিনি দাবি করেন, তাদের একমাত্র শিশুসন্তান মানতাহা ইসলাম সানভিকে জোরপূর্বক আটকে রেখে বিদেশে পাঠানোর চেষ্টা করছেন তনি।
এ বিষয়ে সোয়েব গত ২৪ নভেম্বর কিশোরগঞ্জের ১ নং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি এজাহার দাখিল করেছেন। সেই মামলা খারিজ করে দিয়েছে আদালত। তনি আইনজাবী অ্যাডভোকেট জান্নাতুল ফেরদৌস নিজের ফেসবুক পোস্ট জানিয়েছেন।
পোস্ট তিনি লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, সফল মামলার শুনানির পর। সানভিকে ব্যবহার করে ভাইরাল হওয়ার উদ্দেশ্যে বাদির দায়ের করা মিথ্যা মামলা বিজ্ঞ আদালত আজ খারিজ করে দিয়েছেন। সানভি এখন তার মায়ের পূর্ণ কাস্টডিতেই থাকবে।’
তিান আরও লিখেছেন, ‘আজ বিজ্ঞ আদালতে বিবাদী পক্ষের হয়ে জোরালো সাবমিশন উপস্থাপন করি। বিজ্ঞ আদালত তাতে সন্তুষ্ট হয়ে ন্যায়বিচারের পক্ষে আদেশ দিয়েছেন। সত্যের জয় হয়েছে, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। অত্র মামলার বাদি আমাকে ডাল-ভাতের দাওয়াত দিয়েছেন! তাই আপাতত আপনাকে বাসায় গিয়ে (হুটকি) ভর্তা দিয়ে ভাত খেয়ে, আমার মক্কেলের কাবিনের টাকা প্রস্তুত রাখার পরামর্শ রইল। আর মামলার পরবর্তী তারিখে আমার ঢাকার জজকোর্ট চেম্বারে বিরিয়ানির দাওয়াত রইল, আজকে মামলায় জয়ের ট্রিট হিসেবে ইনশাল্লাহ। আমি বাক্য দিয়ে নয়, কাজে প্রমাণ দিই।’
মামলা জয়ের পর মেয়ে ও আইনজীবীদের সঙ্গে ছবিটি পোস্ট করেন তনি
সোয়েব জানান, ২০১৩ সালের ২৮ জুন তাদের বিয়ে হয় এবং পরবর্তীতে জন্ম নেয় মেয়ে সানভি।
দাম্পত্য কলহের কারণে ২০১৮ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তারা আলাদা হয়ে যান। আদালতের শর্ত অনুযায়ী শিশু হওয়ায় সানভি মায়ের কাছেই বড় হচ্ছিলো। তবে বাবার সঙ্গে নিয়মিত দেখা করার সুযোগ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তনি সেই সুযোগ দিচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন সোয়েব। তিনি দাবি করেন, তনি মেয়েকে ঢাকায় আটকে রেখেছেন এবং তিনি যখনই দেখা করতে চান তখনই বিভিন্নভাবে বাধা দেওয়া হয়।
সোয়েব আরো বলেন, আলাদা হওয়ার পর তনি দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন শাহাদাৎ হোসাইনকে। তার মৃত্যুর পর ইংল্যান্ডপ্রবাসী সিদ্দিক নামের এক ব্যক্তিকে বিয়ে করেছেন তিনি। বর্তমানে মেয়েকে নিয়ে সিদ্দিকের কাছে ইংল্যান্ড যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে দাবি করেন সোয়েব।
তিনি অভিযোগ করেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিশুটিকে ব্যবহার করে তনি ব্যাবসায়িকভাবে ভাইরাল হওয়ার চেষ্টা করছেন। যা শিশুর জন্য মানসিক চাপ তৈরি করছে। তবে তার সব অভিযোগই খারিজ হয়ে গেছে।
এমআই/এলআইএ