হিন্দু অভিনেত্রী ইয়ামি গৌতম যে কারণে কোরআন শিখেছেন
অভিনয়ের ক্ষেত্রে চরিত্রকে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলতে অনেক শিল্পীকেই কঠোর প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়। ভারতীয় অভিনেত্রী ইয়ামি গৌতমও তার ব্যতিক্রম নন। নতুন আইনি নাট্যধর্মী সিনেমা ‘হক’-এ অভিনয়ের জন্য তিনি টানা চার মাস কোরআন শিখেছেন। সেইসঙ্গে রপ্ত করেছেন আরবি উচ্চারণ ও ভাষার ধরন।
বিবিসি এশিয়ান নেটওয়ার্ককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই তথ্য জানিয়েছেন ছবিটির পরিচালক সুপর্ণ ভার্মা। তিনি বলেন, চরিত্রটিকে বাস্তবসম্মতভাবে উপস্থাপন করতে ইয়ামিকে বিশেষভাবে কোরআন এবং ইসলামি আইন সম্পর্কে প্রস্তুতি নিতে হয়েছে।
‘হক’ সিনেমার গল্প আবর্তিত হয়েছে ১৯৭০-এর দশকের ভারতের শাজিয়া বানো নামের এক নারীর জীবনকে কেন্দ্র করে। তিনি একজন আইনজীবীর স্ত্রী। তার স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করার পর প্রতিশ্রুত ভরণপোষণ দিতে অস্বীকার করেন। পরে শাজিয়া বানো আদালতের দ্বারস্থ হলে স্বামী তাকে তালাক দেন।
পরিচালক জানান, সিনেমাটির গবেষণার কাজ ছিল দীর্ঘ ও গভীর। প্রায় দেড় বছর ধরে ইসলামি আইন বোঝার জন্য কাজ করা হয়েছে। তার মতে, বর্তমান সময় ভুল তথ্যের যুগ, যেখানে মানুষ ঠিক আর ভুলের পার্থক্য না জেনেই নানা তথ্য বিশ্বাস করে ফেলে।
তিনি বলেন, ‘আমি চেয়েছিলাম ‘হক’ যেন যুক্তির কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠে।’
‘হক’ সিনেমায় ইমরান হাশমির বিপরীতে অভিনয় করেছেন ইয়ামি গৌতম
সুপর্ণ ভার্মা আরও বলেন, মুসলিম বন্ধুদের সঙ্গে বড় হওয়ায় একজন ভারতীয় হিসেবে তাদের প্রতি তার একটি দায়িত্ববোধ ছিল। ইসলাম নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা দূর করাই ছিল তার অন্যতম লক্ষ্য।
তার ভাষায়, শুধু ইসলাম নয় এই সিনেমার মাধ্যমে তিনি দেখাতে চেয়েছেন ১৯৭০-এর দশক থেকে আজ পর্যন্ত নারীদের সংগ্রাম কতটা একই রয়ে গেছে। তখনও তারা পুরুষশাসিত সমাজে লড়াই করতেন, এখনও করছেন। একই বাধা, একই বৈষম্য আজও বিদ্যমান।
‘হক’ নির্মিত হয়েছে শাহ বানো বেগমের সত্য ঘটনা অবলম্বনে। ১৯৮৫ সালে তিনি ভারতের সর্বোচ্চ আদালতে স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা জিতে ভরণপোষণের অধিকার নিশ্চিত করেছিলেন। এই মামলাকে ভারতে মুসলিম নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে দেখা হয়।
পরিচালক জানান, এই গল্পের সঙ্গে এত মানুষের আবেগের সংযোগ তৈরি হবে, তা তিনি কল্পনাও করেননি। তিনি বলেন, ভালোবাসার আশা করেছিলেন। কিন্তু এত বড় সাড়া পাবেন তা ভাবেননি।
এলআইএ