এই ‘ইতিহাস’ কাজী হায়াতের ‘ইতিহাস’ নয়, সমালোচনার জবাবে কাজী মারুফ
দীর্ঘদিন অভিনয় থেকে দূরে থাকা কাজী মারুফ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। প্রায়ই তাকে ফেসবুকে সরব দেখা যায়। আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) তিনি একটি পোস্ট করেছেন বাবা কাজী হায়াতের সঙ্গে ছবি দিয়ে। সেখানে তিনি ‘ইতিহাস’ সিনেমার রিমেক নিয়ে চলমান সমালোচনার জবাব দিয়েছেন।
বরেণ্য নির্মাতা কাজী হায়াতের ক্যারিয়ারের অন্যতম হিট ও প্রশংসিত সিনেমা ‘ইতিহাস’। সম্প্রতি জানা গেছে, দীন ইসলাম নামের এক নতুন নির্মাতা একই নাম নিয়ে সিনেমা বানাতে যাচ্ছেন। সেই সিনেমায় আবার কাজী হায়াত নিজে অভিনয়ও করবেন। এই পরিচালকের ভক্ত-অনুরাগীরা বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না। একজন নতুন আনকোরা নির্মাতাকে তিনি তার সেরা সিনেমাটির নামে সিনেমা নির্মাণের অনুমতি দিয়েছেন, এটা বিশ্বাস করতে পারছেন না অনেকে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে চলছে অনেক সমালোচনা ও আলোচনা।
তারই প্রেক্ষিতে ‘ইতিহাস’ সিনেমার নায়ক কাজী মারুফ মুখ খুলেছেন। তিনি বাবার পক্ষ অবলম্বন করে নিজের যুক্তি ও মতামত প্রকাশ করেছেন। তার ভাষ্য, ‘এই ‘ইতিহাস’ আর কাজী হায়াতের পরিচালিত ‘ইতিহাস’ এক নয়। কাজী হায়াৎ এখানে শুধুই অভিনেতা। আমার বাবাকে কিছু বলার সাহস আমার কখনোই ছিলো না, আর কোনোদিন হবেও না।’
যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেওয়া ওই পোস্টে বাবার ব্যক্তিত্ব, আদর্শ ও চলচ্চিত্র ভাবনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন কাজী মারুফ। তিনি লেখেন, ‘আমার আব্বা যা করেন, তা ভুল হলেও আমার কাছে সঠিক। কারণ উনি আমার বাবা।’
বাবার প্রতি নিঃশর্ত ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, অন্য কেউ লিখলে হয়তো আরও ‘ডিপ্লোমেটিক’ হতো। কিন্তু নিজের অনুভূতি থেকেই কথাগুলো তুলে ধরেছেন।
পোস্টে কাজী হায়াতের দীর্ঘ ক্যারিয়ারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন মারুফ। তিনি উল্লেখ করেন, তার বাবা বহু পুরস্কারপ্রাপ্ত নির্মাতা, যিনি অসংখ্য জনপ্রিয় ও উৎসবমুখী চলচ্চিত্র উপহার দিয়েছেন। তবে একজন ছেলে হিসেবে তিনি বাবাকে দেখেছেন ভিন্নভাবে। একজন আদর্শবাদী মানুষ হিসেবে। তার রাজনৈতিক দর্শন ছিল বাম ঘরানার। ছাত্রজীবনে তিনি ছাত্র ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সব মানুষের সমান অধিকারে বিশ্বাস করতেন।
শৈশবের একটি স্মৃতি তুলে ধরে কাজী মারুফ বলেন, তার বাবা কখনোই শ্রেণিভেদ মানতেন না। বাসার কাজের মানুষ বা ড্রাইভারের জন্য আলাদা খাবারের ব্যবস্থা করলে তিনি আপত্তি জানাতেন। এ থেকেই তিনি বুঝেছেন, তার বাবার মানবিকতা কতটা গভীর।
চলচ্চিত্রের প্রসঙ্গে তিনি বাবার প্রথম সিনেমা ‘The Father’-এর নির্মাণ কাহিনি তুলে ধরেন। সে সময় যখন একটি সিনেমা নির্মাণে ১৫-২০ লাখ টাকা লাগত, তখন মাত্র আড়াই লাখ টাকায় পুরোনো ক্যামেরা দিয়ে ছবিটি নির্মাণ করেন কাজী হায়াৎ। সাদাকালো সেই ছবিতে প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা থাকলেও, দর্শকের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা ছিল ব্যাপক।
একটি আলোচিত প্রসঙ্গে কাজী মারুফ জানান, তিনি একবার বাবাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, কেন তিনি হিরু আলমের মতো একজনের সঙ্গে কাজ করবেন। উত্তরে কাজী হায়াৎ বলেন, ‘সে কি মানুষ না? তার কি অধিকার নেই?’ এই উত্তর থেকেই বাবার মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় পান তিনি।
পোস্টের শেষদিকে সাম্প্রতিক চলচ্চিত্র পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন কাজী মারুফ। তিনি বলেন, বিতর্ক না বাড়িয়ে বরং গবেষণা করা উচিত কেন ঈদের সিনেমাগুলো প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি কিংবা কেন কিছু সিনেপ্লেক্স বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
সবশেষে বাবার সুস্বাস্থ্যের জন্য সবার কাছে দোয়া চান এই অভিনেতা।
এলআইএ