বাংলাদেশিদের ছোটলোক বলে ক্ষমা চাইলেন রূপম


প্রকাশিত: ০৭:৩৭ এএম, ২৮ মার্চ ২০১৫

সম্প্রতি বাংলাদেশিদের কটাক্ষ করে নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাস দেন ওপার বাংলার জনপ্রিয় গায়ক রুপম ইসলাম। আর এর বিষয় ছিলো ক্রিকেট। সেখানে তিনি বাংলাদেশিদের বাঙ্গালিয়ানার চ্যালেঞ্জ করে এদেশের মানুষকে ছোটলোক বলে অবিহিত করেন।

তার এ স্ট্যাটাসের জন্য নিন্দা এবং ক্ষোভ প্রকাশ করে বাংলাদেশে তার ভক্ত-অনুরাগীরা। রুপমকে বাংলাদেশে আজীবন নিষিদ্ধ করার দাবিও তুলেছিলেন কেউ কেউ।

তবে শেষকথা হলো, নিজের বক্তব্যের জন্য নি:শর্ত ক্ষমা চাইলেন এই শিল্পী। এপার বাংলার মানুষের কাছে ক্ষমা চেয়ে বাংলাদেশি একটি অনলাইন পত্রিকাকে সাক্ষাতকার দেন তিনি।

নিজের স্ট্যাটাসের পক্ষে যুক্তি দিয়ে রুপম বলেন, ‘এটা পুরো ঘটনা নয়। একটি বিষয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে স্ট্যাটাস দিয়েছি। কিন্তু মূল বিষয়টি খেয়াল করে কেউ পড়েনি। আমি কথা বলেছি, একজন মিউজিশিয়ানকে নিয়ে। তিনি হচ্ছেন তুর্য (মাইলস ব্যান্ডের ড্রামার জিয়াউর রহমান তুর্য)। আমি সরাসরি কাউকে অপমান করতে পারি না। তাই নামটি বলিনি। ম্যাকভাইসহ (মাকসুদ ও ঢাকা ব্যান্ড’র মাকসুদ) ঢাকার অনেক ব্যান্ডের সদস্যরাই আমার গুরুস্থানীয়। কিন্তু তুর্য হঠাৎ করে এটি করেছে।’

সেই প্রতিক্রিয়াতেই তিনি এই স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন বলে জানান। তিনি আরো বলেন, ‘আমার স্ত্রী রূপসা দাসগুপ্ত একটি স্ট্যাটাস দিয়েছিল। সেখানে সে লিখেছিল, ‘কিছু বন্ধু আইসিসিকে বলছেন, ইন্ডিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল।....’ তখন আমাদের পারিবারিক এক বন্ধু গালিব সেখানে একটি কমেন্ট দেয়। কিন্তু তুর্য স্ট্যাটাসটি শেয়ার দেয় এবং আমার স্ত্রীকে গালি দিয়ে লেখেন ‘বিচ... লে অফ’। এটা একেবারে অগ্রহণযোগ্য। পরে আমি তাকে ‘ছোটলোক’ আখ্যা দিয়ে এটি লিখেছি। কোথাও বাংলাদেশ শব্দ বলিনি। এটা আমার স্ট্যাটাসটি পড়লেই বোঝা যাবে। ম্যাচ অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। ভারতও খালি হাতে ফিরে এসেছে। সেই ম্যাচকে ঘিরে এখনও আমরা একে অন্যের জীবনকে আক্রমণ করছি। এটা বাঙালি আচরণের মধ্যে পড়ে না। তার (তুর্য) কথাতেও সে আচরণের ছিঁটেফোটা নেই।’

বাংলাদেশের প্রতি ভালোবাসা দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমরা দুই বাংলা মিলেমিশে আছি। অনেকেই জানে না, আমার অ্যালবাম প্রথম হিট হয়েছিল বাংলাদেশে। ‘তোর ভরসাতে’ নামের এ অ্যালবাম ’৯৮ সালে প্রকাশ পায়। কলকাতার লোকেরা গ্রহণের আগে বাংলাদেশিরা আমাকে কাছে টেনে নিয়েছে। ’৯২ সালে যখন ব্যান্ড তৈরি করি তখনও বাংলাদেশের ফিডব্যাক, মাইলস, জেমস ভাই, আইয়ুব বাচ্চু ভাইয়ের গান শুনে শুনে শিক্ষা নিয়েছি।’

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সমর্থনে রুপম বলেন, ‘এর আগে যতগুলো ম্যাচ দেখেছি আমি বাংলাদেশকে সমর্থন দিয়েছি। এটা শুধু বিশ্বকাপেই নয়। আগেও হয়েছে। আমরা তো ভারতীয় তাই ভারতকে সমর্থন করব- এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ভারতের পরেই বাংলাদেশ। কারণ আমি বাঙালি। সে ম্যাচের আগে আনন্দবাজার পত্রিকায় আমি বলেছি, বাংলাদেশ যদি জেতে সম্পূর্ণ কৃতীত্বে জিতবে। টুপি খুলে আমি তাদের কুর্ণিশ জানাব। নাড়ির টান রয়েছে ওপার বাংলায়। ফিউচার চ্যাম্পিয়নের হওয়ার মতো দল এটা। আমি তাদের মধ্যে সে মসলা দেখেছি।’

রুপম আরো যোগ করেন, ‘আমার প্রিয় লেখক- হুমায়ূন আহমেদ। প্রিয় চরিত্রের নাম অন্যান্য বাংলাদেশিদের মতোই- হিমু। দূর দুঃস্বপ্নেও বাংলাদেশকে বিচ্ছিন্ন করে বাঁচবার কথা আমি ভাবি না। আমার লেখা নতুন বই ‘রকস্টার’-এ একটি প্রবন্ধের নাম- আমার প্রিয় লেখকের চরিত্র নিয়ে ‘মিসির আলী সমীপেষু’। সুতরাং আমি ভক্তদের বলব, আমার অবস্থান পুরোপুরি পরিষ্কার। আমি আমার লেখার কোথাও বাংলাদেশ শব্দটি উচ্চারণই করিনি। সুতরাং কয়েকজনের বিরুদ্ধে লেখা বিষয়টি আপনার নিজেদের ওপর নেবেন না।

প্রসঙ্গত, এর আগে ভারতের জনপ্রিয় অভিনেতা প্রসেনজিত চট্টোপাধ্যায় বাংলাদেশের ক্রিকেটকে ইঙ্গিত করে নেতিবাচক স্ট্যাটাস দেন। পরে সমালোচনার মুখে সেই স্ট্যাটাস মুছে দেন এবং বাংলাদেশিদের কাছে ক্ষমা চেয়ে দু:খ প্রকাশ বরেন।

এলএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।