যে কারণে রূপমের বাংলাদেশবিরোধী স্ট্যাটাস
ক্রিকেট বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে বাড়ির ফেরা নিশ্চিত করেছে ভারত। এরই মধ্যে ভারত জুড়ে ধোনিবাহিনীর সমালোচনা শুরু হয়ে গেছে। নতুন করে ফিরে এসেছে বাংলাদেশের সাথে অন্যায়ভাবে ভারতের জিতে যাওয়ার প্রসঙ্গটি।
ঠিক এমন সময়টাতেই বাংলাদেশিদের নিয়ে বেফাঁস মন্তব্য করে বসেছেন ওপার বাংলার কণ্ঠশিল্পী বাংলা ব্যান্ড ফসিলসের জনপ্রিয় ভোকাল রূপম ইসলাম। ভারতের হার নিশ্চিত হওয়ার কিছুক্ষণ পর নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে বাংলাদেশিদের উদ্দেশ্য করে কুরুচিপূর্ণ ইঙ্গিত দিয়ে ‘নতুন পাকিস্তান’-এর অভ্যূদ্বয় ঘটেছে বলে মন্তব্য করেন এই গায়ক।
বলেছিলেন, অনেক ম্যাচ জিতেছি, তার থেকে অনেক অনেক বেশি ম্যাচ হেরেছি। তথাকথিত ভারত-পাকিস্তান বিদ্বেষের গল্প শুনেছি, কিন্তু আমার পরিবেশে কখনো ছায়া ফেলেনি। অত্যন্ত লজ্জার সঙ্গে গত কয়েক দিন ধরে এক নতুন পাকিস্তানের অভ্যূদ্বয় সহ্য করছি, আমার অভিজ্ঞতায় যা বিরলতম।
রূপমের স্ট্যটাসের পরই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে গোটা বাংলাদেশ। ফেসবুকে রূপমের বিরুদ্ধে শুরু হয় বিষেদাগার। কেউ কেউ তার এ মন্তব্য প্রত্যাহারেরও দাবি জানান। ঘটনা সামাল দিতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট কিছু সময়ের জন্য ডিঅ্যাকটিভও করে ফেলেন।
অবশেষে সে স্ট্যাটাস দেওয়ার পর কারণ ব্যাখ্যা করলেন রূপম। সাংবাদিকদের তিনি জানিয়েছেন, আসলে একপ্রকার ক্ষিপ্ত হয়েই তিনি এমন স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন।
সাংবাদিকদের রূপম জানান, আমার স্ত্রী রূপসা দাসগুপ্ত একটি স্ট্যাটাস দিয়েছিল। সেখানে সে লিখেছিল, ‘কিছু বন্ধু আইসিসিকে বলছেন, ইন্ডিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল।….’ তখন আমাদের পারিবারিক এক বন্ধু গালিব সেখানে একটি কমেন্ট দেয়। কিন্তু তুর্য স্ট্যাটাসটি শেয়ার দেয় এবং আমার স্ত্রীকে গালি দিয়ে লেখেন ‘বিচ… লে অফ’। এটা একেবারে অগ্রহণযোগ্য। পরে আমি তাকে ‘ছোটলোক’ আখ্যা দিয়ে এটি লিখেছি। কোথাও বাংলাদেশ শব্দ বলিনি। এটা আমার স্ট্যাটাসটি পড়লেই বোঝা যাবে।
সেই ম্যাচকে ঘিরে এখন আমরা একে অন্যের জীবনকে আক্রমণ করছি। এটা বাঙালি আচরণের মধ্যে পড়ে না। তার (তুর্য) কথাতেও সে আচরণের ছিঁটেফোটা নেই। আমরা দুই বাংলা মিলেমিশে আছি। অনেকেই জানে না, আমার অ্যালবাম প্রথম হিট হয়েছিল বাংলাদেশে। ‘তোর ভরসাতে’ নামের এ অ্যালবাম ১৯৯৮ সালে প্রকাশ পায়। কলকাতার লোকেরা গ্রহণের আগে বাংলাদেশিরা আমাকে কাছে টেনে নিয়েছে। ১৯৯২ সালে যখন ব্যান্ড তৈরি করি তখনও বাংলাদেশের ফিডব্যাক, মাইলস, জেমস ভাই, আইয়ুব বাচ্চু ভাইয়ের গান শুনে শুনে শিক্ষা নিয়েছি।
রূপম বলেন, ৯৮’ সালে কলকাতার কাগজে বাংলাদেশের সংগীত নিয়ে কলাম লেখা শুরু করি। সেসময় ম্যাক ভাইয়ের একটি ইন্টারভিউ প্রকাশ করেছিলাম। তখন অ্যালবাম তৈরিতে বাংলাদেশের একজন আমার সঙ্গে ছিল। গোড়া থেকে এখন অবধি সবার সঙ্গে যোগাযোগ আছে।
তিনি বলেন, সংগীতবিষয়ক একটি পত্রিকা আমি নিজে সম্পাদনা করি। সেখানে আইয়ুব বাচ্চুর সাক্ষাৎকার ছেপেছি। প্রত্যেক সংখ্যাতেই বাংলাদেশ নিয়ে লেখা থাকে ওখানে। পশ্চিমবঙ্গের আর কোন শিল্পী বাংলাদেশের সংগীত সাহিত্য নিয়ে এতটা সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য লাগাতার কাজ করে যাচ্ছেন? আমি কিন্তু আর একজনের নামও বলতে পারবো না। বাংলাদেশকে আমি সংস্কৃতির জমিন মনে করি। আমি কেন আক্রমণ করে বসব? একটি ব্যক্তিগত স্ট্যাটাসে সেই ব্যক্তিকে ন্যূনতম সম্মান দিতে চেয়েছি, নাম প্রকাশ না করে। আমি তার আচারণ নিয়ে কথা বলেছি। তাকে আমার বাঙালি ও বাংলাদেশি মনে হয়নি। তার মধ্যে বাঙালিয়ানা তো নেই, এমনকি বাংলাদেশিয়ানাও নেই। আমি নাম ধরে অসম্মান করতে চাইনি।
রূপম বলেন, এখানে যদি তার নাম ধরে বলতাম তাহলে এ ভুল বোঝাবুঝি হতো না। অনেক মানুষ ভেবেছে, বাংলাদেশেকে বলেছি। তাদের কাছে আমি নিঃশর্ত ক্ষমা চাইছি। যারা আঘাত পেয়েছেন তারা ক্ষমা করবেন।
বিশ্বকাপে বাংলাদেশ নিয়ে তিনি বলেন, এর আগে যতগুলো ম্যাচ দেখেছি আমি বাংলাদেশকে সমর্থন দিয়েছি। এটা শুধু বিশ্বকাপেই নয়। আগেও হয়েছে। আমরা তো ভারতীয় তাই ভারতকে সমর্থন করব- এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ভারতের পরেই বাংলাদেশ। কারণ আমি বাঙালি।
বিএ/আরআইপি