শুভ জন্মদিন মুক্তির ফেরিওয়ালা


প্রকাশিত: ০৯:১০ এএম, ১৪ মে ২০১৫

উপমহাদেশীয় বাংলা চলচ্চিত্রের ট্রিলজি বলা হয় সত্যজিৎ রায়, ঋত্বিক ঘটক ও মৃণাল সেনকে। তিনজনই ছিলেন নিজ নিজ স্থানে অতুলনীয়। তাদের মধ্যে অন্যতম প্রখ্যাত এ চলচ্চিত্রকার মৃণাল সেন।

খ্যাতিমান এই চলচ্চিত্রকার বার্ধক্যের কারণে এখন আর চলচ্চিত্র পরিচালনায় সমর্থ না হলেও চলচ্চিত্র বিষয়ক বিবিধ কর্মকাণ্ডে এখনো তার সচল উপস্থিতি। বৃহস্পতিবার ১৪ মে, তিনি পদার্পণ করেছেন ৯৩ বছরে।

বর্তমান বাংলাদেশের ফরিদপুরে ১৯২৩ সালের ১৪ মে জন্মগ্রহণ করেন কিংবদন্তি নির্মাতা মৃণাল সেন। পড়াশোনা করেছেন কলকাতার স্কটিশ চার্চ কলেজে পদার্থবিদ্যায়। ছাত্র জীবনে বাম ধারার রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি।

তিনি কমিউনিস্ট পার্টির সাংস্কৃতিক শাখার সঙ্গে যুক্ত হন। যদিও তিনি কখনও কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য হন নি। চল্লিশের দশকে তিনি সমাজবাদী সংস্থা গণনাট্যসংস্থার (ইন্ডিয়ান পিপলস থিয়েটার অ্যাসোসিয়েশন/আইপিটিএ) সঙ্গে যুক্ত হন এবং এর মাধ্যমে তিনি সমমনভাবাপন্ন মানুষদের কাছাকাছি আসেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করবার পর তিনি একজন সাংবাদিক, একজন ওষুধ বিপননকারী হিসাবে কাজ করেন। পরবর্তীতে হয়ে উঠেন বাংলা চলচ্চিত্রের কালপুরুষ।

ছবির স্বস্তা জনপ্রিয়তার আদল ভেঙ্গে মৃণাল সেন মানুষের কথা বলতে শুরু করেন চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। যে মুক্তির স্বপ্ন তিনি ছাত্র জীবনে দেখতেন তারই সন্ধাণ চালিয়েছেন সেলুলয়েডের রঙিন ফিতায়। তাই এত বছর পেরিয়েও, টেকনোলজি আর জীবন যাপনের চরম আধুনিক সময়টাতেও একটুও আবেদন কমেনি সেইসব গল্প আর চরিত্রদের। বরং আজকের সভ্যতার পথে মৃণাল সেন হয়ে উঠেছেন মুক্তির এক ফেরিওয়ালা। যার হাতিয়ার চলচ্চিত্র।

মৃণাল সেন প্রথম নির্মাণ করেন ‘রাতভোর’ (১৯৫৫) চলচ্চিত্রটি। এর চার বছর পর ১৯৫৯ সালে মুক্তি পায় তার দ্বিতীয় চলচ্চিত্র ‘নীল আকাশের নিচে’। ১৯৬০ সালে মুক্তি পায় তৃতীয় চলচ্চিত্র ‘বাইশে শ্রাবণ’। ১৯৬৯ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ভুবন সোম’ সিনেমার মাধ্যমে প্রচলিত ধারাকে বদলে দেন তিনি। এতে অভিনয় করেন উপমহাদেশের শক্তিমান অভিনেতা উৎপল দত্ত। ১৯৭১ সালে মক্তি পায় ‘ইন্টারভিউ’ ছবিটি। এতে অভিনয় করেন বর্তমান কলকাতার প্রখ্যাত অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিক।

এরপর ক্যালকাটা ৭১ (১৯৭২), পদাতিক (১৯৭৩), একদিন প্রতিদিন (১৯৭৯), মহাপৃথিবী (১৯৯২), অন্তরীণ (১৯৯৪), আকালের সন্ধানে (১৯৮০) ও খারিজ (১৯৮২) চলচ্চিত্রগুলো নির্মাণ করেন মৃণাল সেন।

বাংলা ছাড়াও হিন্দী, ওড়িয়া ও তেলেগু ভাষাতেও দেখিয়েছেন চলচ্চিত্র নির্মাণের মুন্সিয়ানা। কালীন্দিচরণ পাণিগ্রাহীর গল্প অবলম্বনে ১৯৬৬ সালে ওড়িয়া ভাষায় নির্মাণ করেন ‘মাটির মনীষ’। ১৯৬৯ সালে বনফুলের কাহিনী অবলম্বনে হিন্দিতে নির্মাণ করে ‘ভুবন সোম’। ১৯৭৭ সালে প্রেম চন্দের গল্প অবলম্বনে তেলেগু ভাষায় নির্মাণ করেন ‘ওকা উরি কথা’। ১৯৮৫ সালে হিন্দী, ফরাসী ও ইংরেজি ভাষায় নির্মাণ করেন ‘জেনেসিস’।

‘খারিজ’ ১৯৮৩ সালের কান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বিশেষ জুরি পুরস্কার ও ‘আকালের সন্ধানে’ ১৯৮১ সালের বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বিশেষ জুরি পুরস্কার অর্জন করে।

১৯৮১ সালে মৃণাল সেন ভারতের সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার পদ্মভূষণ লাভ করেন। ২০০৫ সালে ভারতীয় চলচ্চিত্রের সর্বোচ্চ পুরস্কার দাদাসাহেব ফালকে অর্জন করেন। ১৯৯৮-২০০৩ সালে তিনি ভারতীয় সংসদের সাম্মানিক সদস্যপদ লাভ করেন। ২০০০ সালে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তাকে অর্ডার অব ফ্রেন্ডশিপ সম্মানে ভূষিত করেন। এছাড়াও ফরাসী সরকার তাদের সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান কমান্ডার অব দি আর্টস এ্যান্ড লেটারসে ভূষিত করেন এই ইতিহাস বিখ্যাত চলচ্চিত্রওয়ালাকে।

পাশাপাশি মৃণাল সেন ভারত ও ভারতের বাইরে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। একবার ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব দ্য ফিল্মের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

মৃণাল সেনের আত্মজীবনী বেরিয়েছে ২০০৪ সালের শেষভাগে। দিল্লির স্টেলার পাবলিশার্স থেকে প্রকাশিত ৩১০ পৃষ্ঠার এ বইটির নাম ‘অলওয়েজ বিয়িং বর্ন’।

সূত্র : অনলাইন

এলএ/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।