সিনেমা বানাব, কয়েকটা গল্প রেডি : আদনান আল রাজীব

নাহিয়ান ইমন
নাহিয়ান ইমন নাহিয়ান ইমন , বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১:২৭ এএম, ২৪ জুলাই ২০১৭

জনপ্রিয় বিজ্ঞাপন ও নাট্যনির্মাতা আদনান আল রাজীব। ইতোমধ্যেই দেশে ও দেশের বাইরে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন নির্মাণ করে মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন, কুড়িয়েছেন প্রশংসাও। এর আগে উচ্চতর পদার্থ বিজ্ঞান (পার্ট ২), প্রশ্নবোধক, পার্শ্ববর্তী প্রেম নিবেদন, অ্যাট এইটটিন : অল টাইম দৌড়ের উপর, মিডিল ক্লাস সেন্টিমেন্ট-এর মত জনপ্রিয় নাটকগুলো নির্মাণ করেছিলেন তিনি। গেল ঈদে ‘বিকাল বেলার পাখি’ নামের একটি নাটক নির্মাণ করে আলোচনার শীর্ষে এসেছেন আদনান আল রাজীব। ওই নাটক এবং অন্যান্য বিষয়ে তিনি কথা বলেন জাগো নিউজের বিনোদন বিভাগে...

জাগো নিউজ : ‘বিকাল বেলার পাখি’ নাটকটি দর্শকরা সাদরে গ্রহণ করেছেন। পরের কাজের জন্য কেমন অনুপ্রেরণা পেয়েছেন?

আ আ রাজীব : মানুষ আমার কাজকে পছন্দ করেছেন এটাই অনেক বড় পাওয়া। পরে কাজের জন্য অনেক বেশি প্রেরণা পেয়েছি। দায়িত্ব আরও বেড়ে গেছে, পরের কাজ যেন আরও ভালোভাবে করতে পারি। আমার আগের কাজগুলো যারা দেখেছেন তারা বুঝতে পারবেন প্রতিটি আলাদাভাবে প্রকাশ করেছি। এমনকি ‘অ্যাট এইটটিন’ কাজটি দিয়ে তারুণ্যের মধ্যে নতুন একটা ধারা তৈরি করেছি। আরেকটা বিষয় হচ্ছে, আমি আসলে অনেক ধরনের গল্প প্রকাশ করতে পারি বা চাই। অনেকদিন পর আবারও একটা কাজ করলাম ‘বিকাল বেলার পাখি’ । আবার যখন আসব নতুন গল্প নিয়ে আসব। যেটা আগে কেউ করেনি। ওই সময়ও একটা ধারা তৈরি হবে বলে মনে করি।

জাগো নিউজ : এ ধরনের নাটক কেন নির্মিত হচ্ছে না?

আ আ রাজীব : আমার মনে হয় আমাদের চিন্তাভাবনার অভাব আছে বলেই এ ধরনের নাটক নির্মিত হচ্ছে না। এছাড়া বিদেশের কাজ দেখে অনেকে উৎসাহিত হয়ে সেভাবে কাজ করছেন। কিন্তু আমাদের চারপাশে যে কত ভালো গল্প আছে সেটা নিয়ে ভাবা হচ্ছে না। আমাদের প্রচুর গল্প আছে। আমরা আসলে কাজের ব্যাপারে সিরিয়াস না। যতটুকু কাজে সন্তুষ্ট হই তারচেয়ে আরও বেশি সিরিয়াস হয়ে কাজে মনোযোগ দেয়া উচিত বলে মনে করি। তাহলে আরও ভালো গল্প বেরিয়ে আসবে। ভালো নাটক নির্মিত হবে।

জাগো নিউজ : ‘বিকাল বেলার পাখি’ নাটকে আপনার নিজের জীবনের সঙ্গে কোনো মিল আছে?

আ আ রাজীব :  হ্যাঁ, আমার জীবনের সঙ্গে মিল আছে। নাটকে দর্শকরা একটি মধ্যবিত্ত পরিবারকে শহর থেকে কিছুটা দূরে যেতে দেখেছেন ওই প্রেক্ষাপটটা আমার সঙ্গে মিল আছে। আমার বাবার সঙ্গে আমার কৈশোর বয়সেও কিছুটা দূরত্ব ছিল। তাছাড়া আমাদের মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেকের সঙ্গেই এই গল্পের কিছুটা হলেও মিল রয়েছে।

জাগো নিউজ : প্রতিটি ভালো কাজের বিপরীতে মন্দ সমালোচনা থাকে। আপনার এই কাজটি নিয়ে কেউ নেতিবাচক মন্তব্য করেছে?

আ আ রাজীব :  হ্যাঁ, সমালোচনা পেয়েছি। একজন নির্মাতা আমাকে বলেছে এ গল্পটা নাকি নকল! বিশেষ করে বীমায় কাজ করেন একজন মধ্যবিত্ত বাবার চরিত্রটি চুরি করা! এটা খুবই হাস্যকর ছিল; হা হা হা...।

জাগো নিউজ : এই নাটকটি এত সফল হওয়ায় কারণ কী?

আ আ রাজীব :  সবার জীবনের সঙ্গে গল্পটা কোনো না কোনোভাবে মিল আছে। প্রত্যেক মধ্যবিত্ত মানুষ গল্পটা নিজের জীবনের সঙ্গে অনুভব করেছেন। এছাড়া আমাদের মধ্যবিত্ত পরিবারের বাবা-ছেলের মধ্যে গ্যাপটা মুখে প্রকাশ না পেলেও মনের সঙ্গে মিল পাওয়া যায়। সেটাও অনুভব করেছেন। এটা একটা বড় কারণ। আরও একটা কারণ হচ্ছে অনেক সাবলীল চিত্রনাট্য। আমাদের পরিকল্পনা ছিল গল্পটা সহজভাবে কীভাবে উপস্থাপন করা যায়। এছাড়া শিল্পী নির্বাচন প্রক্রিয়া সঠিক ছিল বলে আমি মনে করি। প্রত্যেক শিল্পীর সমন্বয়টা খুব ভালো ছিল। যারাই এটি নির্মাণের সঙ্গে জড়িত ছিলেন তারা প্রত্যেকেই নিজেদের সেরা কাজটা উপহার দিয়েছেন। এই নাটকের মিউজিকটাও দর্শকদের মধ্যে নাড়া দিয়েছে। আর আমি নির্মাতা হিসেবে সবকিছু আদায় করে নিয়েছি।

জাগো নিউজ : এই ধরনের গল্প কেন নির্বাচন করলেন?

আ আ রাজীব :  ছবিয়াল রি-ইউনিয়ন থেকে আমি প্রথমে থ্রিলার গল্পে নাটক বানাতে চেয়েছিলাম। সবকিছুর প্রস্তুতিও নিচ্ছিলাম। কীভাবে দর্শকদের মধ্যে টেনশন আনা যায় সেটা নিয়ে কাজ করছিলাম। এরপর যখন একদিন মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ভাইকে বললাম জানালাম।  উনি বললেন, যাও বানাও। কদিন পর আমার বাবার সঙ্গে একটা নিউজ ফেসবুকে পোস্ট করি। সেদিন সরয়ার ভাইয়ের সঙ্গে মিটিং ছিল। উনি আমাকে বসিয়ে তার বাবার সঙ্গে একটা খুনসুটির গল্প বলেন। এরপর আমার এবং বাবার মধ্যে কিছু গল্প খুঁজতে বলেন। তবে আমি তার ওপর বিশ্বাস করেছিলাম যে তিনি যেকোনো একটা কারণ থেকে বলছেন। আমি সময় চাইলাম। এর মধ্যে সময় সংকটে পড়েছিলাম। কোনোভাবে ঠিক করতে পারছিলাম না কেমন গল্প তৈরি করব। অবশেষে ‘বিকাল বেলার পাখি’ গল্পটা আমার মাথায় আসে। এটা নিয়েই কাজ করি। পাঁচদিনে শুটিং শেষ করি। মোহাম্মদপুর,  বিমানবন্দর থেকে অনেক ভিতরে একটা জায়গায় শুটিং করি। সবকিছু ফাইনাল করতে ঈদের দিন পর্যন্ত চলে যায়। 

জাগো নিউজ : এবার বলেন সিনেমা বানাচ্ছেন না কেন?

আ আ রাজীব :  সিনেমার জন্য যে পরিমাণ সিনেমা হল আর মার্কেটিং দরকার সেটা আমাদের দেশে নেই। ধরেন সিনেমা আমি বানালাম; মানুষ যদি সেটা না দেখে, না জানে, তাহলে সিনেমা বানিয়ে লাভ কি? আর আমি এমন সিনেমা বানাতে চাই না যেটা মানুষ দেখল না। প্রচারের ব্যাপারটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। বড় ব্যাপার হচ্ছে আমাদের অনেক সিনেপ্লেক্স দরকার। তবে বলে রাখি অবশ্যই সিনেমা বানাব, কয়েকটা গল্প রেডি। যেকোনো একদিন হয়তো বানিয়ে ফেলব।

‘বিকাল বেলার পাখি’ নাটকটি দেখুন


এনই/আরআইপি

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস নিয়ে লিখতে পারেন আপনিও - [email protected]