দর্শকদের বিনোদন দিবে ইউটার্ন
শুক্রবার সারাদেশে মুক্তি পেতে যাচ্ছে সময়ের আলোচিত অভিনেত্রী সোনিয়া হোসেনের প্রথম চলচ্চিত্র ‘ইউটার্ন’। আলভী আহমেদের পরিচালনায় এই চলচ্চিত্রটিতে তিনি অভিনয় করেছেন নায়ক শিপনের বিপরীতে। জাগো নিউজের সাথে আলাপকালে সোনিয়া জানালেন ক্যারিয়ারের প্রথম চলচ্চিত্র নিয়ে নিজের প্রত্যাশা ও ভবিষ্যত ভাবনার কথা। লিখেছেন লিমন আহমেদ
জাগো নিউজ : ক্যারিয়ারের প্রথম চলচ্চিত্রটি মুক্তি পেতে যাচ্ছে। অনুভূতি কেমন?
সোনিয়া : এ অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করবার মতো নয়। প্রথম যে কোনো কিছুর প্রতিই মানুষের আগ্রহ এবং ভালোবাসা প্রবল। আমার ক্ষেত্রেও তাই হচ্ছে। খুব টেনশান আর উত্তেজনা কাজ করছে। এ দিনটির জন্যই অনেক পরিশ্রম করেছি আমি, পুরো ইউটার্ন টিম।

জাগো নিউজ : এখানে কাজ করে আপনি কতোটা সন্তুষ্ট?
সোনিয়া : কেউ কোনোদিন শতভাগ সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারে না। আমারও মনে হয়েছে আরো ভালো করার সুযোগ হয়তো ছিলো। তবে যেহেতু এটি প্রথম, তাই নিজেকে কিছুটা ছাড় দেয়ার জায়গা খুঁজে পাওয়া যায়। পরবর্তীতে আরো ভালো হবে, পরিণত হবে। তবে আপাতত আমার ধারণা, যেটুকু চেষ্টা আমি নিজের চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে করেছি তাতে দর্শকরা হতাশ হবেন না।
জাগো নিউজ : তার মানে ভালোই সাড়া পাবেন বলে ভাবছেন?
সোনিয়া : এটা বলে আসলে মুশকিল। কেননা, চলচ্চিত্রে একক পারফর্মেন্সে সাফল্য আসে না। এখানে সবাই একটা টিম হয়ে কাজ করে সফলতা লাভের প্রয়াস করেন। আমরাও তাই করেছি। যে যার মতো করে সবটুকু ঢেলে দিয়েছি। সে হিসেবে আমাদের অনেক প্রত্যাশা ছবিটি নিয়ে। এবার ইউটার্ন কতোটা ভালো হয়েছে সে রায় দিবেন দর্শক। আর সে অপেক্ষাতেই রয়েছি আমরা।
জাগো নিউজ : ছবির গল্পটি কেমন?
সোনিয়া : ইউটার্ন মাফিয়াদের গল্প। শিপন চলচ্চিত্রের মূল ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। বাকী চরিত্রগুলো তাকে সমর্থন করে গেছে। এখানে আমি, মৌটুসী, আইরিন, আরশাদ আদনানসহ সবার চরিত্রই গুরুত্বপূর্ণ। একেকজন একেক রকম চমক নিয়ে হাজির হবো। আশা করছি বেশ উপভোগ করবেন দর্শকেরা।
জাগো নিউজ : আপনি তো দেশের বাইরে ছিলেন। দেশে ফিরেই ইউটার্নের সাথে কিভাবে জড়িত হলেন?
সোনিয়া : হা হা হা। এটা আমি নিজেও বুঝতে পারছি না কীভাবে কী হয়ে গেল। আসলে আমার কোনো কিছুই পরিকল্পনা করে হয় না। যেটা হবার সেটা হুট করেই হয়ে যায়। দেশে ফিরে আমি যখন নাটক-বিজ্ঞাপনে কাজ শুরু করলাম হঠাৎ একদিন ফেসুবকে ইউটার্ন ছবিতে জন্য প্রস্তাব দিলেন আলভী আহমেদ। আমি তখন উনাকে ভালো করে চিনিও না। উনিও আমাকে তেমন করে জানতেন না। আমার কিছু নাটক দেখেই উনি ছবিটিতে আমাকে নেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। আর ছবির গল্প ও নিজের চরিত্র পছন্দ হয়ে যাওয়ায় আমিও রাজি হয়ে গেলাম। ব্যাস....
জাগো নিউজ : এখানে কাজ করাটা কেমন উপভোগ করেছেন?
সোনিয়া : দারুণ সময় কেটেছে ইউটার্নের টিমের সাথে। এখানে অনেকের সাথে প্রথমবার কাজ করার সুযোগ হয়েছে। যেমন আইরিন, শিপন। জীবনের প্রথম চলচ্চিত্র বলে কথা। এই অভিজ্ঞতা কোনোদিন ভুলে যাবার নয়।
জাগো নিউজ : চলচ্চিত্রে নিয়মিত হচ্ছেন কী?
সোনিয়া : এ প্রশ্নটা আজকাল সবাই করছেন। আমি আগেই বলেছি পরিকল্পনা করে কিছু করি না আমি। আর হয়ও না। আমার কাছে অভিনয়টাই প্রধান। সেই নাটকই হোক, আর চলচ্চিত্র। আমি কাজ করে যেতে চাই। ভালো গল্প এবং চরিত্র পেলে চলচ্চিত্রে নিয়মিত হতে কোনো আপত্তি নেই আমার।
জাগো নিউজ : ভালো গল্প ও চরিত্র বলতে ঠিক কী বুঝাতে চাইছেন?
সোনিয়া : সাদামাঠা নাচ-গান-মারামারির ছবি নয়। আমি চাই পরিবারের সবাইকে নিয়ে দেখা যায়, সব শ্রেনীর মানুষের কাছে পৌঁছানো যায় এমন গল্প ও চরিত্র। ঠিক যেমনটি ইউটার্ন। এখানে মানসম্পন্ন একটি চলচ্চিত্রের সব আছে। ভাববার মতো গল্প। কিছু করে দেখানোর মতো চরিত্র। নাচ-গান তো থাকছেই।
জাগো নিউজ : ইউটার্ন দেখতে আপনি কোন যাচ্ছেন?
সোনিয়া : শুধু আমি নই, ইউটার্নের পুরো টিম সকাল ১০টায় হাজির থাকবো বলাকা সিনেমা হলে। সেখানে আমরা পুরো ছবিটি দেখবো। তারপর বের হবো রাজধানীর হলগুলো ঘুরে দেখতে। সবশেষে যাবো যমুনা ফিউচার পার্কে। আর সম্ভব হলে ঢাকার বাইরেও দর্শকদের সাথে যোগ দেব আমরা।

জাগো নিউজ : সাম্প্রতিক ব্যস্ততা কী নিয়ে?
সোনিয়া : আপাতত ইউটার্ন নিয়েই ব্যস্ত আছি। পাশাপাশি আসছে ঈদের জন্য কিছু নাটক-টেলিছবিতে কাজ করছি। চেষ্টা করছি মানসম্পন্ন গল্প আর চরিত্রে নিজেকে উপস্থাপন করতে। কেননা, এই ক’দিনে আমার কাছে দর্শকদের একটা চাওয়া পাওয়ার সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। তাই মানহীন কাজে গা ভাসিয়ে দিতে চাই না।
জাগো নিউজ : দর্শকদের জন্য কিছু বলবেন?
সোনিয়া : দর্শকদের বলবো, আপনাদের বিনোদন দিতেই আমরা সবাই মিলে একটা প্রচেষ্টা চালিয়েছি। ইউটার্ন তৈরি করেছি। আপনারা ছবিটি হলে দেখতে আসুন। আপনাদের সাড়া পেলেই আমাদের শ্রম-মেধা সার্থক হবে। ছবিটি দেখে জানান আপনাদের প্রত্যাশার কাছে আমরা কতটুকু সফল হয়েছি। ভুল-ত্রুটিগুলো আঙুল দিয়ে ধরিয়ে দিন। শুধরে নিয়ে আবার নতুন করে আসব। আর যদি ভালো লাগে তবে পাশের মানুষটিকেও বলুন ইউটার্ন দেখার জন্য। সবাই ভালো থাকুন।
জাগো নিউজ : আপনাকে ধন্যবাদ সময় দেয়ার জন্য। ইউটার্নের জন্য শুভকামনা...
সোনিয়া : আপনাকেও ধন্যবাদ। জাগো নিউজের জন্যও অনেক শুভকামনা থাকলো।
এলএ