চাঁদাবাজির অভিযোগ

মন্ত্রীর দেহরক্ষীসহ ছাত্রদলের ৪ নেতাকে আটকে রাখলো গ্রামবাসী

উপজেলা প্রতিনিধি
উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি হিলি (দিনাজপুর)
প্রকাশিত: ১২:৩০ পিএম, ১৬ মে ২০২৬

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে হারভেস্টার মেশিন মালিকের কাছে চাঁদাবাজির অভিযোগে মহিলা ও শিশু এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেনের দেহরক্ষীসহ ছাত্রদলের চার নেতাকে মারধরের পর অবরুদ্ধ করে রাখেন গ্রামবাসী। পরে পুলিশ গিয়ে ঘটনাস্থল থেকে তাদের উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেয়। এ ঘটনায় উপজেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে দু’জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৫ মে) রাতে উপজেলার বড় তেঁতুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা আল আমিনের বোরোধান কাটা ও মাড়াই করার জন্য হারভেস্টার মেশিন ভাড়া করাকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে। নবাবগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ডেভিড হিমাদ্রি বর্মন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

উদ্ধারকৃতরা হলেন, মন্ত্রীর দেহরক্ষী মেহেদী হাসান, ছাত্রদলের নবাবগঞ্জ উপজেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক ফিরোজ কবির শাহী, পুঁটিমারা ইউনিয়ন শাখার সভাপতি আহসান হাবীব রনি, শালখুরিয়া ইউনিয়ন শাখার সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন ওরফে জয় ও বিনোদনগর ইউনিয়ন শাখার সভাপতি হুমায়ুন কবির।

এদের মধ্যে বহিষ্কৃতরা হলেন, শালখুরিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি পদ প্রত্যাশী মো. ইকবাল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক পদ প্রত্যাশী আলমগীর হোসেন জয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত কয়েকদিন আগে উপজেলার বড় তেঁতুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা আল আমিন গ্রামে বোরোধান কাটা ও মাড়াই করার জন্য একটি হারভেস্টার মেশিন ভাড়া করে আনেন। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে ছাত্রদলের শালখুরিয়া ইউনিয়ন শাখার সভাপতি ইকবাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন ওরফে জয়সহ চারজন ছাত্রদল নেতা ওই গ্রামে আল আমিনের কাছে যান। পরে তারা আল আমিনকে হারভেস্টার ভাড়া বাবদ অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। এসময় আল আমিন তাদের টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা আল আমিনকে জোর করে মোটরসাইকেলে তুলে নেন এবং গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে নিয়ে যান। এসময় এক ঘণ্টার মধ্যে টাকা না দিলে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেন এবং সেখান থেকে ওই চারজন চলে যান।

পরে আল আমিন বিষয়টি গ্রামের লোকজনদের জানান। ওইদিন বিকেলে ছাত্রদল নেতা ইকবাল হোসেন আল আমিনকে মুঠোফোনে কল দিয়ে গ্রামে একটি জায়গায় যেতে বলেন। এ সময় আল আমিনসহ গ্রামের লোকজন সেখানে যান এবং চাঁদাবাজির অভিযোগে ওই চারজনকে মারধর করেন।

শুক্রবার সন্ধ্যায় ইকবাল হোসেন ছাত্রদলের উপজেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক ফিরোজ কবির শাহী, মহিলা ও শিশু এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেনের দেহরক্ষী ও ছাত্রদলের অন্যান্য ইউনিয়ন শাখার প্রায় ২০ জন নেতাকর্মী ৭টি মোটরসাইকেল নিয়ে আগের দিনের বিষয়টি তদন্তের নাম করে বড় তেঁতুলিয়া গ্রামে যান। এসময় তারা গ্রামের এক যুবককে মারধর করেন। পরে বিষয়টি জানতে পেরে গ্রামের লোকজন ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মারধর করেন এবং পরে তাদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে কল পেয়ে রাত সাড়ে ৮টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়।

পুলিশ সেখান থেকে ছাত্রদল নেতা ফিরোজ কবির শাহী, আলমগীর হোসেন জয়, হুমায়ুন কবির ও আহসান হাবীব ওরফে রনিকে উদ্ধার করে এবং তাদের থানায় পুলিশ হেফাজতে নেয়। এসময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে ছাত্রদলের অন্য নেতাকর্মীরা পালিয়ে যান।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে নবাবগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মুক্তি মাহফুজ জানান, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনায় দুজন জড়িত থাকায় তাদেরকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

নবাবগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ডেভিড হিমাদ্রি বর্মন বলেন, শুক্রবার রাতে বড় তেঁতুলিয়া গ্রামে গ্রামবাসী কর্তৃক অবরুদ্ধ ছাত্রদলের চার নেতাকে উদ্ধার করে থানায় পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মো. মাহাবুর রহমান/এফএ/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।