চলচ্চিত্রে নিয়মিত কাজ করতে চাই


প্রকাশিত: ০৬:৩৩ এএম, ১৫ অক্টোবর ২০১৫

নোয়াখালির ছেলে জামিল হোসেন। কলকাতার চ্যানেল জি-বাংলায় প্রচারিত দুই বাংলার জনপ্রিয় কমেডি রিয়্যালিটি শো ‘মিরাক্কেল আক্কেল চ্যালেঞ্জার-৬’ এর চূড়ান্ত পর্বের প্রতিযোগী ছিলেন তিনি। নান্দনিক উপস্থাপনা, ব্যতিক্রমী কৌতুক বাছাই আর গানের যাদুতে তিনি পেয়েছেন তারকাখ্যাতি। দেশে ফিরে এসে ব্যস্ত হয়েছেন শোবিজে। কাজ করেছেন বেশ কিছু নাটকে। আর নানা কমেডি শোতে অংশ নেয়া তো রয়েছেই। সম্প্রতি কাজ করলেন পল্লব বিশ্বাসের ধারাবাহিক ‘রিলেশন’-এ। সেই নাটকের শুটিংয়ের ফাঁকে দারুণ এক আড্ডা দিলেন জাগো নিউজের সাথে। তারই চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো এখানে।

জাগো নিউজ : মিরাক্কেলে পারফর্মার হিসেবে যুক্ত হয়েছিলেন কিভাবে?
জামিল : তখন আমি একটি সফটওয়্যার কোম্পানিতে চাকরি করতাম। একদিন অফিসে কাজের ফাঁকে আরাম করে বসে খবরের কাগজ পড়ছিলাম। হঠাৎ চোখে আসে মিরাক্কেলের অডিশন হবার সংবাদটি। জানলাম, বাংলাদেশ থেকে বাচাই করে কয়েক জন সেরা প্রতিযোগীকে মিরাক্কেলের মঞ্চে সুযোগ দেওয়া হবে। তখন খেয়ালের বশে আমিও সেখানে অডিশন দেই। সত্যি কথা বলতে কি আমি তখন খুব বেশি জোকস জানতাম না। তারপরও আত্মবিশ্বাস নিয়ে বাচাই পর্বে কল্যাণপুর অডিশন দেই। সেখানে তারা আমার অনেক পরীক্ষা নেন। আমি ভেবেছিলাম আমি বোধহয় সিলেক্ট হইনি। কিছুদিন পর কলকাতা থেকে শুভংকর চট্টোপাধ্যায় আমাকে ফোন করে জানান যে আমি মিরাক্কেল-৬ এ প্রতিযোগী হিসেবে সিলেক্ট হয়েছি। বিশ্বাসই হচ্ছিলো না। তারপর আর কী... ব্যাগ-পুটলা গুটিয়ে রওনা দিলাম কলকাতা। বাকিটা সবার জানা...

জাগো নিউজ : মিরাক্কেলের মঞ্চে পারফর্ম করতেন সাড়ে তিন মিনিটের। মঞ্চে এতো অল্প সময়ে নিজেকে সঠিক ভাবে উপস্থাপন করতে ঘাম ঝরাতে হতো নিশ্চয়ই?
জামিল : ঠিক তাই। মঞ্চের ওই হাতে গোনা তিন মিনিটে নিজের সেরাটা উপস্থাপন করতে অনেক অনেক রির্হাসেল করতে হতো। এমনও হয়েছে জোকসগুলো অনুশীলন করতে করতে রাত শেষ হয়ে ভোর হয়ে যেত। ভোর রাতে ঘুমিয়ে আবার সকাল সাতটায় উঠতাম। সবসময় নিজের মধ্যে কাজ করতো কিভাবে সেরা পারফর্ম করে বিচারকদের মন জয় করা যায়। আসলে ওই সময়টাতে সব ধ্যান জ্ঞান ছিলো কিভাবে আমি আরো ভালো পারফর্ম করতে পারি। তাছাড়া আমরা যারা প্রতিযোগী ছিলাম সবার মধ্যে অনেক কমপিটিশন ছিলো। তবে সবার মধ্যে বন্ধুত্ব পূর্ণ সম্পর্কও ছিলো। একে অন্যকে সাহায্য করতাম। এছাড়া আমাদের যারা মেন্টর ছিলেন তারা প্রত্যেকেই খুব বেশি হেল্পফুল ছিলেন, মিশুক ছিলেন।

জাগো নিউজ : আপনি তো কিছুদিন পারফর্ম করার পর দেশে ফিরে এসেছিলেন...
জামিল : হ্যাঁ। আমাকে দেশে ফিরে আসতে হয়েছি। তবে সেটা ইচ্ছে করে আসিনি। ওই সময় আমার ভাই মারা গিয়েছিলেন। তিনি দুবাইতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। সেজন্য পারিবারিক কারণে কিছুদিনের জন্য দেশে ফিরে আসতে হয়েছিলো। তবে মিরাক্কেল-৬ এর গ্রান্ড ফিনালের পর ‘অসাম সালা’ নামের আরো বেশ কিছু পর্ব প্রচারিত হয়েছিলো সেখানে আমি উপস্থিত ছিলাম।

জাগো নিউজ : যখন মিরাক্কেলের মঞ্চে বাংলাদেশের নাম উঠতো তখন নিজের ভিতর অনুভূতি কেমন ছিলো?
জামিল : আমরা বাংলাদেশ দেশ থেকে ওই সময় কয়েকজন পারফর্মার ছিলাম মিরাক্কেলে। মীর দা যখন বাংলাদেশের অমুক এলাকার তমুক পারফর্মার এবার মঞ্চে আসছেন বলতেন তখন খুব ভালো লাগত। বিদেশের একটি চ্যানেলের প্রোগ্রামে নিজের দেশের নাম শুনেই চোখে পানি চলে আসতো। ভাবতাম, আমি যদি নাও পারি আমারই স্বদেশি কেউ যেন প্রতিটি পর্বে সেরা হয়। ফাইনালের চ্যাম্পিয়ন হয়। সবাই যখন বাংলাদেশি প্রতিযোগীদের প্রশংসা করতেন গর্বে বুকটা ভরে যেত। আত্মবিশ্বাস পেতাম ভালো করার। কারণ, এই মিরাক্কেল শো সারাবিশ্বের বাঙালিদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি অনুষ্ঠান। সবাই আমাদের দেখছেন, আমাদের ভালো করার জন্য প্রার্থনা করছেন- এটা ভাবতে খুব ভালো লাগত।

জাগো নিউজ : মিরাক্কেলের টিমদের সাথে যোগাযোগ হয় না?
জামিল : অবশ্যই। তাদের সবার সাথে আমার খুবই ভালো সম্পর্ক। প্রায়ই যোগাযোগ হয়। নানা বিষয়ে মজার মজার কথা হয়। স্মৃৃতি রোমন্থন হয়। তাছাড়া সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে সবসময় সবার খোঁজখবর নেয়াটা খুব সহজ হয়েছে। কিছুদিন আগে রনি দা বাংলাদেশে এসেছিলেন তার সাথে আমিসহ মিরাক্কেলের অন্যান্য বাংলাদেশি পারফর্মাররা দেখা করেছি, আড্ডা দিয়েছি। দারুণ কিছু সময় কেটেছে।

জাগো নিউজ : মিরাক্কেল-৬ শেষে দেশে ফিরে আসার পর কেমন লাগতো?
জামিল : দারুণ এক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হই আমি। মিরাক্কেল ৬ শেষ করে যখন দেশে আসি তখন মানুষ আমাকে অন্যভাবে চিনতে শুরু করে। সবাই বলতো ওই যে মিরাক্কেলের জামিল হোসেন! নিজের মধ্যে অন্যরকম ভালো লাগা কাজ করতো যেটা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব না। আজকের এই সবার পরিচিত মানুষটা তো মিরাক্কেলেরই তৈরি করে দেয়া।

জাগো নিউজ : সাম্প্রতিক ব্যস্ততা কি নিয়ে?
জামিল : আমি পুরোদস্তুর অভিনয় নিয়েই ব্যস্ত আছি। এবারে ঈদে আমার দুটি নাটক প্রচারিত হয়েছে। একটি হানিফ সংকেত-এর ‘ভুল থেকে নির্ভুল’ এবং অন্যটি বৃন্দাবন দাসের ‘কপালে যদি থাকে হাড়’। একেবারেই দুটি ভিন্ন গল্প নির্ভর দুটি নাটক ছিলো। তবে এখন আরটিভির জন্য রিলেশন নামে একটি নাটকে কাজ করছি। এছাড়া আরো কিছু খন্ড নাটকে কাজ করছি। কথা হচ্ছে কিছু নোয়াখালীর আঞ্চলিক ধারবাহিকসহ বেশ কিছু ধারাবাহিকে কাজ করার।

জাগো নিউজ : চলচ্চিত্র নিয়ে ভাবনা নেই?
জামিল : অবশ্যই। আমি চলচ্চিত্রে নিয়মিত কাজ করতে চাই। জনপ্রিয় নির্মাতা অমিতাভ রেজার ‘আয়নাবাজি’ ছবিতে কাজ করেছি আমি। আরো দুই একটিতে কাজের কথাবার্তা চলছে। সবমিলিয়ে পুরোপুরি অভিনয়ের মধ্যেই ডুবে আছি।

জাগো নিউজ : ক্যারিয়ার নিয়ে ভবিষ্যত পরিকল্পনা কী?
জামিল : তেমন কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে ভবিষ্যতে বড়পর্দার একজন ভালো অভিনেতা হিসেবে থিতু হতে চাই। এছাড়া যারা মিরাক্কেলে যেতে চায় কিংবা সেখান থেকে ফিরে এসেছে ঠিক করেছি সবাইকে নিয়ে একটি সংগঠন করবো। কতদূর ফলপ্রসূ হবে জানি না।

জাগো নিউজ : আপনাকে ধন্যবাদ জামিল ভাই
জামিল : আপনাকেও ধন্যবাদ ভাই। জাগো নিউজের কাছেও ধন্যবাদ প্রকাশ করছি। সেইসাথে পাঠকদের জানাই ভালোবাসা। বেশি বেশি দেশি অনুষ্ঠান দেখুন, বিনোদনের সঙ্গে থাকুন।

এলএ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]