লিফলেট থেকে জন্মাবে গাছ, জানুন উপায়

ফিচার ডেস্ক
ফিচার ডেস্ক ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫:৩৪ পিএম, ৩০ জানুয়ারি ২০২৬
এই কাগজ পরিচিত ‘বন-কাগজ’ বা ‘সিড পেপার’ নামে

লিফলেট থেকে জন্মাবে গাছ, এমনটা শুনে নিশ্চয়ই অবাক হচ্ছেন? ভাবছেন কি অবান্তর কথা বলছি! একদমই না। নিশ্চয়ই সিড পেপার দিয়ে কলম, ক্যালেন্ডার তৈরির কথা জানেন। যে কাগজ দিয়ে কলম তৈরি করে ব্যবহারের পর মাটিতে ফেলে দিলে গাছ জন্মায়। সেই কাগজের কথাই বলছিলাম। যা পরিচিত ‘বন-কাগজ’ বা ‘সিড পেপার’ নামে।

এবার বাংলাদেশের নির্বাচনি প্রচারণায় যুক্ত হলো এক অভিনব ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দলের একাধিক শীর্ষ নেতা ও প্রার্থী প্রচারণায় ব্যবহার করছেন এই বিশেষ ধরনের বীজযুক্ত কাগজের লিফলেট, যা মাটিতে পড়লেই পরিণত হতে পারে সবজির চারা গাছে।

বিএনপি নেতারা বলছেন, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য শুধু নির্বাচনী বার্তা পৌঁছে দেওয়া নয়, বরং পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়নের গুরুত্ব সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা। প্রচারণার কাগজ মাটিতে পড়ে নষ্ট না হয়ে যদি গাছ হয়ে ওঠে, তাহলে সেটি হবে ‘জিরো ওয়েস্ট’ ভাবনার বাস্তব উদাহরণ।

এটি কিন্তু একেবারেই নতুন কোনো উদ্ভাবন নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে বীজযুক্ত কাগজ বা পোস্টার ব্যবহার জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, স্পেন, নেদারল্যান্ডস, কানাডা ও দক্ষিণ আফ্রিকায় নির্বাচনসহ নানা সামাজিক ও সচেতনতামূলক প্রচারণায় সিড পেপার ব্যবহৃত হচ্ছে।

কীভাবে তৈরি হয় বন-কাগজ? বন-কাগজ তৈরির পুরো প্রক্রিয়াটিও পরিবেশবান্ধব। এটি মূলত পরিত্যক্ত বা ব্যবহৃত কাগজ থেকে তৈরি করা হয়। প্রথমে কাগজগুলো ছোট টুকরো করে প্রায় ৪২ ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখা হয়, যাতে কাগজ পুরোপুরি গলে যায়। এরপর সেই গলিত কাগজ থেকে মণ্ড তৈরি করে নির্দিষ্ট ফ্রেমের মধ্যে বসানো হয়। পরবর্তী ধাপে বিশেষ পদ্ধতিতে কাগজের মণ্ডের সঙ্গে বীজ যুক্ত করা হয়, যাতে কাগজ শুকানোর পরও বীজের কার্যকারিতা নষ্ট না হয়। সবশেষে কাগজ শুকিয়ে লিফলেট বা পোস্টারের আকার দেওয়া হয়।

জানেন কি, কীভাবে বন-কাগজ থেকে গাছ জন্মায়? বন-কাগজ মূলত এমন এক ধরনের কাগজ, যার ভেতরে বিভিন্ন সবজি বা ভেষজ উদ্ভিদের বীজ সংযুক্ত থাকে। এই লিফলেট পুরোটা বা ছিঁড়ে ছোট টুকরো করে মাটিতে পুঁতে বা ফেলে দিলে, মাটিতে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা থাকলে ৮ থেকে ১০ দিনের মধ্যেই বীজ অঙ্কুরোদ্গম শুরু হয়।

মাটি যদি শুষ্ক হয়, তবে কাগজটি মাটির ওপর রেখে হালকা পানি ছিটিয়ে ভিজিয়ে দিতে হয়। উপযুক্ত পরিবেশে একটি বন-কাগজ থেকে চারা গজিয়ে স্বাভাবিক নিয়মেই গাছে পরিণত হয়। এই কাগজ এক বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকে অর্থাৎ এক বছরের মধ্যে মাটিতে ফেললে সেখান থেকে গাছ জন্মানোর সম্ভাবনা থাকে।

কোন ধরনের গাছের বীজ ব্যবহা করা হয় এই সিড পেপারে? সাধারণত ভেষজ উদ্ভিদ ও ফলের বীজ দিয়ে এই কাগজ তৈরি করা হলেও এবারের নির্বাচনে পাঁচ ধরনের দেশি সবজির বীজ ব্যবহার করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে বেগুন, টমেটো, মরিচ, লালশাক ও ডাঁটাশাক। এগুলো সহজে জন্মায় এবং ঘরোয়া পরিবেশে পরিচর্যাও তুলনামূলক কম লাগে। তাই লিফলেট পেলে বারান্দায় টবে লাগিয়ে দিন। কিছুদিনের মধ্যে সবজির চারা পাবেন। মাসখানিক পর পাবেন সবজি।

এই পরিবেশবান্ধব লিফলেট তৈরির খরচ সাধারণ কাগজের তুলনায় কিছুটা বেশি। প্রতিটি বন-কাগজের লিফলেট তৈরিতে খরচ পড়ছে প্রায় ৮ টাকা। তবে উদ্যোক্তাদের মতে, পরিবেশের জন্য এর সুফল বিবেচনায় এই ব্যয় যুক্তিসংগত। পরিবেশ দূষণ কমানো এবং ‘জিরো ওয়েস্ট’ লক্ষ্য অর্জনের পথে এই ধরনের উদ্যোগকে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবেই দেখছেন পরিবেশবিদরা।

আরও পড়ুন
মাদুলির মোড়কে নিরাপত্তার খোঁজ, ভ্রান্ত বিশ্বাসে বাঁধা বাস্তবতা

২৫ বছরেও অবিবাহিত, দারুচিনি গুঁড়া ছিটাবে আপনার বন্ধুরা

কেএসকে

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।