যেভাবে মহাকাশ থেকে ভোট দেওয়া হয়

আনিসুল ইসলাম নাঈম
আনিসুল ইসলাম নাঈম আনিসুল ইসলাম নাঈম , ফিচার লেখক
প্রকাশিত: ১২:৪৮ পিএম, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নাসার অনেক মহাকাশচারী কক্ষপথ থেকেই তাদের নাগরিক অধিকার প্রয়োগ করেছেন

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভোট প্রদানের ক্ষেত্রে ভিন্নতা রয়েছে। তবে পৃথিবীর বাইরে থেকেও ভোট দেওয়ার পদ্ধতি রয়েছে কী? হ্যাঁ আছে, ১৯৯৭ সাল থেকে মহাকাশ থেকে ভোট দেওয়া শুরু হয়েছে। সেসময় যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে এ সংক্রান্ত একটি বিল পাস হয়। সেই বছর নাসা মহাকাশচারী ডেভিড উলফ মির মহাকাশ স্টেশন থেকে প্রথম আমেরিকান হিসেবে মহাকাশ থেকে ভোট দেন। তিনি হিউস্টনের স্থানীয় নির্বাচনে একটি সুরক্ষিত ইলেকট্রনিক ব্যালট ব্যবহার করে ভোট পাঠিয়েছিলেন। এরপর থেকে নাসার অনেক মহাকাশচারী কক্ষপথ থেকেই তাদের নাগরিক অধিকার প্রয়োগ করেছেন।

​এটি মূলত এক ধরনের অ্যাবসেন্টি ব্যালট বা অনুপস্থিত ভোটদান প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়াটি শুরু হয় একটি ফেডারেল পোস্টকার্ড অ্যাপ্লিকেশন (এফপিসিএ) পূরণের মাধ্যমে। বিদেশে কর্মরত মার্কিন সামরিক বাহিনীর সদস্য এবং তাদের পরিবারও একই ফর্ম পূরণ করে থাকে। নাসা জানায়, মহাকাশযাত্রার আগেই এই ফর্মটি পূরণ করে মহাকাশচারী মহাকাশ থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

jagonews​অনেক বিজ্ঞানী টেক্সাসের বাসিন্দা হিসেবে ভোট দেওয়া বেছে নেন। কারণ তারা হিউস্টনে নাসার জনসন স্পেস সেন্টারে প্রশিক্ষণ নেন। তবে অন্য অঙ্গরাজ্যের মহাকাশচারীও তাদের নিজ নিজ কাউন্টির সঙ্গে বিশেষ ব্যবস্থা করে মহাকাশ থেকে ভোট দিতে পারেন।

জালভোট দেওয়ার শাস্তি কী জানেন?

এক্ষেত্রে ভোটদানের কয়েকটি ​ধাপ পাড় করতে হয়-
​পরীক্ষামূলক যাচাই: ফেডারেল পোস্টকার্ড অ্যাপ্লিকেশন (এফপিসিএ) অনুমোদিত হওয়ার পর একটি ট্রায়াল বা পরীক্ষা চালানো হয়। মহাকাশচারীর নিজ কাউন্টির নির্বাচন কর্মকর্তা একটি টেস্ট ব্যালট স্পেস সেন্টারের টিমের কাছে পাঠান। এরপর তারা একটি মহাকাশ স্টেশন প্রশিক্ষণ কম্পিউটার ব্যবহার করে পরীক্ষা করেন যে, ব্যালটটি পূরণ করে সফলভাবে কাউন্টিতে ফেরত পাঠানো যাচ্ছে কি না।

​ব্যালট পাঠানো: সফল পরীক্ষার পর, টেক্সাসের বিভিন্ন কাউন্টি নির্বাচন কর্মকর্তা অফিস থেকে তৈরি একটি সুরক্ষিত ইলেকট্রনিক ব্যালট জনসন স্পেস সেন্টারের মিশন কন্ট্রোল সেন্টারের মাধ্যমে ভোটদানকারী মহাকাশচারীর কাছে পাঠানো হয়। কাউন্টি নির্বাচন কর্মকর্তা সরাসরি মহাকাশচারীকে একটি ইমেইল পাঠান যাতে বিশেষ কিছু 'ক্রেডেনশিয়াল' বা গোপন কোড থাকে। এই কোড ব্যবহার করেই মহাকাশচারী সেই সুরক্ষিত ব্যালটটি দেখতে পারেন।

jagonews​তথ্য আদান-প্রদান: পূরণকৃত ব্যালটটি নাসার স্পেস নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পৃথিবীতে ফিরে আসে। একই ভাবে মহাকাশ স্টেশনের অন্যান্য তথ্য আদান-প্রদান করা হয়। মেরিল্যান্ডের নাসার গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টার এই নেটওয়ার্কটি পরিচালনা করে।

​পৃথিবীতে অবতরণ: মহাকাশচারী যখন কক্ষপথে বসে বিশেষভাবে তৈরি এই ইলেকট্রনিক ব্যালটটি পূরণ করেন, তখন সেই ফাইলটি ‘ট্র্যাকিং অ্যান্ড ডাটা রিলে স্যাটেলাইট’-এর মাধ্যমে নিউ মেক্সিকোর ‘হোয়াইট স্যান্ডস কমপ্লেক্স’-এর একটি গ্রাউন্ড অ্যান্টেনায় পৌঁছায়।

​চূড়ান্ত গণনা: নিউ মেক্সিকো থেকে নাসা ব্যালটটি হিউস্টনের জনসন স্পেস সেন্টারের মিশন কন্ট্রোল সেন্টারে পাঠায় এবং সেখান থেকে সংশ্লিষ্ট কাউন্টি নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। ভোটের গোপনীয়তা বজায় রাখার জন্য ব্যালটটি এনক্রিপ্টেড থাকে এবং এটি শুধু মহাকাশচারী ও সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তা দেখতে পারেন।

​সময়সীমা: টেক্সাসের বাসিন্দা হিসেবে ভোট দিলে মহাকাশচারীকে অবশ্যই নির্বাচনের দিন স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে ভোট রেকর্ড করতে হয়।

ভবিষ্যতে ​নাসা চাঁদে এবং পরবর্তীতে মঙ্গল গ্রহে মহাকাশচারী পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। সংস্থাটি নিশ্চিত করেছে যে, মহাকাশচারীরা সৌরজগতের যেখানেই থাকুক না কেন, তারা যেন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। পাশাপাশি এই প্রক্রিয়াটি তারা অব্যাহত রাখবে।

আরও পড়ুন
ইতিহাসে বিশ্ব নেতাদের আলোচিত উত্থান, পতন ও পরিসমাপ্তি
ভোটার আইডি কার্ড অনলাইন কপি ডাউনলোড করবেন যেভাবে

কেএসকে

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।