সমাজ পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখছি : মেহেদী হাসান

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১:১১ পিএম, ১০ মে ২০১৮

সত্য, সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন সমাজ সৃষ্টির মনোভাব নিয়ে মেহেদী হাসান গড়ে তুলেছেন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আর.পি ফাউন্ডেশন। এ অদম্য তরুণের জন্ম চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা থানার চন্ডিপুর গ্রামে। তিনি সমাজ পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখছেন। দেশ ও জাতিকে এগিয়ে নিতে ‘মানসম্মত শিক্ষার প্রসারে’ কাজ করছেন নিয়মিত। পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও সামাজিক বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করছেন। সংগঠনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন আলমগীর হোসেন-

জাগো নিউজ : বাংলাদেশের শিক্ষা খাতের প্রধান চ্যালেঞ্জ কী?

মেহেদী হাসান : আমাদের দেশে শিক্ষার সুযোগ আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। কারণ এ খাতে সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগ দিন দিন বাড়ছে। শিক্ষায় অবকাঠামোর উন্নয়ন হয়েছে। ধনী-গরিব সবাই শিক্ষায় আগ্রহী হয়েছে। এখন এ দেশের প্রায় সব শিশু প্রাথমিক শিক্ষা পাচ্ছে। শিক্ষা ও স্বাক্ষরতার হারে আমাদের উন্নতি ঈর্ষণীয়। এ বিষয়ে বৈশ্বিক পর্যায় থেকে আমরা স্বীকৃতিও পেয়েছি। তবুও শিক্ষাঙ্গন নিয়ে নতুন কিছু প্রশ্ন উঠেছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস, শিক্ষার মান, বহুমুখী শিক্ষাব্যবস্থা এসব নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

জাগো নিউজ : দেশের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে কী করা উচিত?

মেহেদী হাসান : পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দিকে সরকারের নজর দিতে হবে। এখানে যোগ্যতার ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগ-নীতি কড়াকড়িভাবে অনুসরণ করা উচিত। ঢাকার বাইরের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে স্থানীয় রাজনৈতিক দলের প্রভাবমুক্ত করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গণতন্ত্র চর্চা বন্ধ হয়ে গেছে। গণতন্ত্র চর্চা জরুরি। এজন্য ছাত্র-সংসদের নির্বাচনগুলো অবিলম্বে চালু করতে হবে।

rp-in-(2)

জাগো নিউজ : আপনার সংগঠন শিক্ষকদের কেমন দেখতে চান?

মেহেদী হাসান : শিক্ষক হবেন শিক্ষার্থীদের আদর্শ। তিনি হবেন শিক্ষার্থীর ‘ফ্রেন্ড, ফিলোসফার অ্যান্ড গাইড’। শিক্ষার্থীরা কেবল শিক্ষকের কাছে পাঠগ্রহণ করে না, তাঁর কাছে শেখে সমাজ ও দেশকে এগিয়ে নেয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নের কলাকৌশল। আদর্শ শিক্ষক কেবল পাঠ্যক্রমে উল্লেখিত বিষয়ে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেন না। সুনির্দিষ্ট বিষয়ে পাঠদানের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীকে সমাজ, দেশ ও মানবতার কল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ, পরোপকারী, মানবতাবাদী ও কল্যাণকামী হিসেবে গড়ে তোলেন।

জাগো নিউজ : কোচিং বাণিজ্য নিয়ে আপনাদের মতামত কী?

মেহেদী হাসান : কোচিং বাণিজ্য ক্যান্সারের মতো অশুভ প্রভাব নিয়ে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় বিরাজ করছে। এতে স্বাভাবিক পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। বেড়ে যাচ্ছে শিক্ষাব্যয়। কোচিং করতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা নির্যাতনেরও শিকার হচ্ছে। এ বিকল্প ব্যবস্থা আমাদের মূলধারার শিক্ষাকে কলুষিত করছে। তাই জনস্বার্থেই কোচিং বাণিজ্য অবৈধ ঘোষণা করে সব ধরনের কোচিং বন্ধ করা প্রয়োজন। কিন্তু দেখার কেউ নেই। বর্তমানে ভালোভাবে পাস করতে হলে শিক্ষার্থীদের কোনো না কোনো কোচিং বাণিজ্যের শিকার হতে হয়। তাই এক্ষেত্রে শিক্ষক নিজের প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অধিকারকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তিনি কতটা ভালো দায়িত্ব পালন করছেন তা-ও বিবেচনায় আনা দরকার। প্রকৃতপক্ষে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক নিজ নিজ দায়িত্ব ভালোভাবে পালন করলে কোনো শিক্ষার্থীরই কোচিংয়ে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। শ্রেণিকক্ষে সব শিক্ষার্থীকে সমানভাবে পাঠদান সম্ভব না হলে প্রয়োজনে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিকভাবেই বিশেষ ব্যবস্থায় এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করা যায়।

rp-in-(1)

জাগো নিউজ : প্রশ্নফাঁস নিয়ে আর.পি ফাউন্ডেশনের ভাবনা কী?

মেহেদী হাসান : পাবলিক পরীক্ষাসহ সরকারি চাকরির পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস এখন নিয়মিত ঘটনা। হয় পরীক্ষার আগের রাতে কিংবা পরীক্ষার দিন সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বদৌলতে প্রশ্নপত্র পৌঁছে যাচ্ছে শিক্ষার্থীদের হাতে হাতে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় নানা উদ্যোগ নিলেও প্রশ্নফাঁস রোধ করতে ব্যর্থ। সমাজে নৈতিকতাহীনতার চর্চার ভয়াবহ রূপ হচ্ছে প্রশ্নফাঁস। প্রশ্নফাঁস বেশি ক্ষতি করছে মেধাবী শিক্ষার্থীদের। অবিলম্বে এটি বন্ধ করতে না পারলে গোটা শিক্ষাব্যবস্থার মেরুদ­ণ্ড ভেঙে পড়বে, মেধাহীন হবে জাতি।

জাগো নিউজ : জিপিএ ফাইভ নিয়ে প্রতিযোগিতার ব্যাপারে কী বলবেন?

মেহেদী হাসান : অভিনব পদ্ধতিতে প্রশ্নপত্র ফাঁস, জিপিএ ফাইভের সংখ্যা বৃদ্ধি, শিক্ষার হার বৃদ্ধি নাকি কথার চাটুকারিতা? এখন আমাদের দেশে জিপিএ-৫ না পাওয়াটা চরম অন্যায়! যে করেই হোক জিপিএ-৫ পেতেই হবে। এজন্য আলো বা আঁধার যে কোনো পথেই পা বাড়াচ্ছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে অভিভাবকরাও। কিন্তু যখন জিপিএ-৫ প্রাপ্তরা প্রকৃত মেধার স্বাক্ষর রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে; ঠিক তখনি শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন জাগে। বিদ্যমান পদ্ধতিতে জিপিএ-৫ এর সংখ্যা বৃদ্ধি দেখে শিক্ষার মান বেড়েছে এমনটা ভাবার কোনো অবকাশ নেই। তাই এখনই যদি শিক্ষার প্রতি নজর দেওয়া না হয় তাহলে অচিরেই বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা ভেঙে পড়বে।

জাগো নিউজ : আর.পি ফাউন্ডেশনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

মেহেদী হাসান : আমরা সমাজ পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখছি। শিক্ষাব্যবস্থার যাবতীয় অসঙ্গতি তুলে ধরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সমাধানের জন্য আহ্বান জানাবো। শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রকৃত শিক্ষার মূল্যবোধ তৈরি করাই আমাদের লক্ষ্য। সুন্দর সমাজ বিনির্মাণে ছাত্ররাই কার্যকরী ভূমিকা রাখবে বলে আমাদের বিশ্বাস রয়েছে।

এসইউ/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]